Home/Education/যন্তর মন্তরে ফের ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে অনড় অভিজিৎ, পুলিশের সঙ্গে বচসা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

যন্তর মন্তরে ফের ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে অনড় অভিজিৎ, পুলিশের সঙ্গে বচসা

নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের সরব ককরোচ জনতা পার্টি। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার সমর্থককে নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের পরেও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার দাবি ঘিরে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান অভিজিৎ।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 21, 2026
5 min read
6
Share:
যন্তর মন্তরে ফের ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে অনড় অভিজিৎ, পুলিশের সঙ্গে বচসা

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে ফের রাজধানী দিল্লিতে শক্তি প্রদর্শন করল ককরোচ জনতা পার্টি। শনিবার যন্তর মন্তরে আয়োজিত দলের দ্বিতীয় দফার প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ভিড় করেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার পড়ুয়া, অভিভাবক এবং সংগঠনের সমর্থকেরা। মূল দাবি ছিল একটাই—নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

বিক্ষোভকে ঘিরে সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখে প্রশাসন। যদিও শুরু থেকেই আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, তাঁদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

মঞ্চে উঠে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, নিট বিতর্কে দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের আস্থা ভেঙে গিয়েছে। শুধু পরীক্ষা পরিচালনায় ব্যর্থতাই নয়, গোটা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিজিতের বক্তব্য, সরকার যদি সত্যিই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চায়, তাহলে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ। তাঁর দাবি, একজন মন্ত্রীর অধীনে বারবার প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা সামনে এলে তার রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে কোনও আপস করা হবে না। তাঁর কথায়, "দেশের ছাত্রসমাজ এখন জবাব চাইছে। দায় স্বীকার না করে এবং দায়িত্ব না নিয়ে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।"

দিল্লি পুলিশ এদিন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই অভিজিৎ ঘোষণা করেন, আন্দোলনে অংশ নিতে বহু তরুণ-তরুণী দূরদূরান্ত থেকে এসেছেন এবং তাঁরা ন্যায়বিচারের দাবি না মেটা পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যেতে চান।

এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানান অভিজিৎ। প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ কথাবার্তাও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের পরেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা তৈরি হয়।

তবে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে অভিজিৎ স্পষ্ট বার্তা দেন যে, তাঁরা কোনওরকম হিংসার পথে হাঁটবেন না। তিনি বারবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর জোর দেন এবং পুলিশের কাছে আবেদন জানান, যাতে বাইরে থেকে আসা পড়ুয়াদের কথা বিবেচনা করে কর্মসূচির সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়।

তিনি বলেন, "এখানে যারা জড়ো হয়েছে তারা কোনও রাজনৈতিক লাভের জন্য আসেনি। তারা এসেছে নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার জন্য। আমরা শুধুই ন্যায়বিচার চাই।"

উল্লেখযোগ্যভাবে, ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের শিক্ষা খাতে দুর্নীতি, পরীক্ষার ক্রমবর্ধমান খরচ, প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রশাসনিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর সংগঠনটি ছাত্রদের অধিকারের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করেছে।

নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে তাদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। সংগঠনের দাবি, এত বড় বিতর্কের পরও সরকার যদি কোনও জবাবদিহি নিশ্চিত না করে, তাহলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

এরই মধ্যে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে সরাসরি চিঠি পাঠিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। ওই চিঠিতে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করার পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।

অভিজিতের দাবি, গোটা দেশের ছাত্রসমাজ এখন একটি বার্তা দিতে চাইছে—পরীক্ষা শুধু একটি মূল্যায়নের মাধ্যম নয়, এটি লক্ষ লক্ষ পরিবারের আশা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। সেই ব্যবস্থায় কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

দিল্লির যন্তর মন্তরে এদিনের জমায়েত দেখিয়ে দিল, নিট বিতর্ককে ঘিরে ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি। বরং শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক দায় নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10