সোমবার দুপুরে লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারে আচমকা আগুন লাগার ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন দ্রুত ভবনের একাংশ গ্রাস করে ফেলে এবং কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের এলাকা। ঘটনার সময় কোচিং সেন্টারে বহু পড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ভবনের ভিতরে আটকে পড়া পড়ুয়াদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই বের হওয়ার পথ না পেয়ে জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় একাধিক পড়ুয়া গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচিং সেন্টারটি যে ভবনে অবস্থিত, তার নিচতলায় পোষ্য প্রাণীর সামগ্রী বিক্রির দোকান-সহ একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে এবং কী কারণে তা ছড়িয়ে পড়ল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক ত্রুটি কিংবা অন্য কোনও কারণ এর নেপথ্যে রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। প্রথমেই সংলগ্ন এলাকা খালি করে দেওয়া হয় এবং উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। তবে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবনটি ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
দমকল কর্মীরা একাধিক ইউনিট নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। একইসঙ্গে ভবনের ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি অভিযানও চালানো হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলছিল এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভবনের ভিতরে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন।
প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেইসব ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ভবনের জানালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন কয়েকজন আটকে পড়া ব্যক্তি। একটি ভিডিওতে এক যুবককে জানালা থেকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা দ্রুত নির্ণয়ের জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। পাশাপাশি আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি আহতদের জন্যও আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ভবনগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত বহু কোচিং সেন্টার এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের একাংশের মতে, তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে ভবনের অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়েও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, আহতদের চিকিৎসা এবং সম্ভাব্য আটকে পড়াদের উদ্ধার করাই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
লখনউয়ের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় উদ্বেগ এখনও কাটেনি।



