Home/Education/প্রশ্নপত্র ফাঁসে মহারাষ্ট্র টেট স্থগিত, লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী হতাশ; বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ রাহুল গান্ধীর
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

প্রশ্নপত্র ফাঁসে মহারাষ্ট্র টেট স্থগিত, লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী হতাশ; বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ রাহুল গান্ধীর

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে বড় ধাক্কা খেল মহারাষ্ট্রের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা টেট। শেষ মুহূর্তে রাজ্য পরীক্ষা পর্ষদ ২৮ জুনের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করায় প্রায় ৬ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপও চরমে উঠেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে নিশানা করে অভিযোগ তুলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 28, 2026
5 min read
10
Share:
প্রশ্নপত্র ফাঁসে মহারাষ্ট্র টেট স্থগিত, লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী হতাশ; বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ রাহুল গান্ধীর

মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (টেট) শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রবিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এই পরীক্ষা। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে একদিন আগেই সিদ্ধান্ত বদল করতে বাধ্য হয় রাজ্য প্রশাসন ও মহারাষ্ট্র স্টেট এক্সামিনেশন বোর্ড।

পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই ২৮ জুনের পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী দিনক্ষণ পরে ঘোষণা করা হবে।

থানে জেলার ভিওয়ান্ডি এলাকায় পুলিশের অভিযানেই প্রথম প্রশ্নফাঁসের ইঙ্গিত সামনে আসে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে একাধিক প্রশ্ন উদ্ধার করা হয়, যা টেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রশ্নগুলির সঙ্গে আসল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি কোনও ছোট চক্রের কাজ নয়, বরং সংগঠিতভাবে প্রশ্নপত্র পাচারের একটি বড় নেটওয়ার্ক থাকতে পারে।

পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ফলে বিপাকে পড়েছেন লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী। ৩৭টি পৃথক স্থানে মোট ১৭২৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রায় ৬ লক্ষ প্রার্থী পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বহু পরীক্ষার্থী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষার স্থগিতাদেশে তাঁদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

পরীক্ষা পর্ষদ জানিয়েছে, নতুন সূচি খুব শিগগিরই তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে। প্রার্থীদের উদ্দেশে অনুরোধ করা হয়েছে, গুজব বা অসত্য তথ্যের উপর ভরসা না করে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে।

ঘটনাটি রাজনৈতিক মাত্রাও পেয়েছে। বিরোধী শিবির সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপকালের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, একের পর এক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, থানে অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যেভাবে এই ধরনের ঘটনা বারবার সামনে আসছে, তা প্রশাসনিক দুর্বলতার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রশ্রয়ের দিকেও ইঙ্গিত করে। লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ধরনের ছিনিমিনি খেলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে পরীক্ষাব্যবস্থা ক্রমশ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। তাঁর কথায়, “বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিল এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।”

রাহুল আরও দাবি করেন, শিক্ষা ব্যবস্থা এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে যেখানে স্বচ্ছতা নয়, বরং দুর্নীতি ও প্রভাবশালী চক্রের দাপট বেশি কাজ করছে। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি পরীক্ষার সমস্যা নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার উপর আঘাত।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। প্রশ্নফাঁসের উৎস, এর বিস্তার এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও গ্রেপ্তারও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তদন্তকারীরা।

এই ঘটনার ফলে রাজ্যের নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। বিগত কয়েক বছরে একাধিক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা সংকট ক্রমশ বাড়ছে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘটনা কেবল পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। তারা দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পরীক্ষার্থীদের একাংশ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বহু প্রার্থী ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত নতুন পরীক্ষার দিন ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে স্থগিত হওয়া মহারাষ্ট্র টেট এখন প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনিশ্চয়তা—এই তিনটি দিক থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10