Home/Education/স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বচ্ছ ও রাজনীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থার পথে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বচ্ছ ও রাজনীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থার পথে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের

শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই নিয়োগের মাধ্যমে মেধাভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থার নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 5, 2026
5 min read
9
Share:
স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বচ্ছ ও রাজনীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থার পথে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল নতুন প্রশাসন। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগে অতীতের বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের কাঠামো ও কার্যপ্রণালীতে আমূল পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিল সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় এবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের নেতৃত্বে আনা হল বরিষ্ঠ আইএএস অফিসার দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে।

শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়োগের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী নিয়োগ কমিশনগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের (UPSC) ধাঁচে পরিচালিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণেই অভিজ্ঞ প্রশাসনিক আধিকারিককে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

সরকারের বক্তব্য, ভবিষ্যতের শিক্ষক নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা এবং স্বচ্ছতাই হবে একমাত্র ভিত্তি। কোনও রাজনৈতিক পরিচয়, সুপারিশ বা প্রভাব যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।

দুষ্মন্ত নারিয়ালা দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অধিকারী। তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁকেই মুখ্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনিক দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার জন্য তিনি আমলাতন্ত্রে সুপরিচিত।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ঘোষণায় বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু নিয়োগ সম্পন্ন করা নয়, বরং এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে যোগ্য প্রার্থীরা ন্যায্য সুযোগ পাবেন এবং পুরো প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। অতীতে নিয়োগকে ঘিরে যে বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছিল, ভবিষ্যতে যাতে তার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেই দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের দাবি, বাজেট ঘোষণার সময়ই জানানো হয়েছিল যে শূন্যপদে নিয়োগ দ্রুত শুরু হবে এবং সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত থাকবেন না। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই বাস্তব প্রয়োগ।

নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার, পরীক্ষার স্বচ্ছতা, মূল্যায়নের নিরপেক্ষতা এবং সময়মতো ফল প্রকাশের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত। যদিও এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি।

শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি নিয়োগ সংস্থার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সংস্কারের সম্ভাবনার কথা প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে। সরকারের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।

গত কয়েক বছরে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, তদন্ত এবং আইনি লড়াইয়ের কারণে বহু চাকরিপ্রার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।

চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হবে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা এবং যোগ্য প্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

এখন নজর থাকবে নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্কুল সার্ভিস কমিশন কত দ্রুত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ঘোষিত স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয় তার দিকে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10