Home/India/উদ্ধব শিবসেনায় বড় ভাঙন, শিণ্ডে শিবিরে যোগ দিতে স্পিকারকে চিঠি ৬ সাংসদের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

উদ্ধব শিবসেনায় বড় ভাঙন, শিণ্ডে শিবিরে যোগ দিতে স্পিকারকে চিঠি ৬ সাংসদের

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় সাংসদ একযোগে একনাথ শিণ্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে একীভূত হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি। লোকসভায় উদ্ধব শিবিরের মোট নয় জন সাংসদের মধ্যে ছয় জনের এই পদক্ষেপ নতুন করে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 18, 2026
5 min read
3
Share:
উদ্ধব শিবসেনায় বড় ভাঙন, শিণ্ডে শিবিরে যোগ দিতে স্পিকারকে চিঠি ৬ সাংসদের

দিল্লিতে গোপন বৈঠকের পর বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত

মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে একে একে দিল্লিতে পৌঁছতে শুরু করেন উদ্ধব শিবিরের কয়েকজন সাংসদ। সূত্রের খবর, তাঁদের জন্য পৃথক চার্টার্ড বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাজধানীতে পৌঁছনোর পর তাঁরা একনাথ শিণ্ডের পুত্র তথা সাংসদ শ্রীকান্ত শিণ্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডেও দিল্লিতে পৌঁছন বলে জানা যায়। বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে তাঁরও দীর্ঘ আলোচনা হয়। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকের পরই দলবদলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় এবং যৌথভাবে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়।

চিঠিতে তাঁরা জানিয়েছেন, শিণ্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে নিজেদের সংসদীয় দলকে একীভূত করতে চান।

কয়েক দিন ধরেই মিলছিল ভাঙনের ইঙ্গিত

উদ্ধব শিবিরে অস্বস্তির ইঙ্গিত অবশ্য নতুন নয়। কয়েক দিন আগেই নিজের দলের সাংসদদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছিলেন উদ্ধব ঠাকরে। কিন্তু সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন নয় জন সাংসদের মধ্যে ছয় জনই।

খোদ উদ্ধব ফোন করার পর তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অনলাইনে বৈঠকে যোগ দিলেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেননি। এমনকি আদিত্য ঠাকরের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের অনুপস্থিতিও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছিল।

সেই সময় থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল, উদ্ধব শিবিরের অন্দরে বড় ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

দুই-তৃতীয়াংশের অঙ্কেই আইনি সুরক্ষা

লোকসভায় উদ্ধব শিবসেনার সাংসদ সংখ্যা নয়। তাঁদের মধ্যে ছয় জনের সমর্থন অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশের সীমা অতিক্রম করা রাজনৈতিক এবং আইনি— দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, কোনও সংসদীয় দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি একযোগে অন্য দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সাধারণ দলত্যাগের মতো তাঁদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকাংশে কমে যায়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপের পিছনে সেই সাংবিধানিক অঙ্কই সবচেয়ে বড় কারণ।

কারা রয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে?

যাঁদের নাম সামনে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভৌসাহেব ওয়াকচৌরে এবং সঞ্জয় যাদব।

এই ছয় জনই একসঙ্গে শিণ্ডে শিবিরে যোগদানের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। যদিও লোকসভার স্পিকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি।

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, সাংবিধানিক শর্ত পূরণ হওয়ায় বিদ্রোহীদের দাবি খারিজ করা সহজ হবে না।

কেন উদ্ধবের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিদ্রোহীরা?

সূত্রের দাবি, বিদ্রোহী সাংসদদের অভিযোগ, উদ্ধব ঠাকরে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ক্রমশ কংগ্রেসের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মতে, শিবসেনার ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক আদর্শ থেকে দল সরে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলীয় পরিচয় রক্ষার স্বার্থেই তাঁরা শিণ্ডের নেতৃত্বে ফিরে যেতে চাইছেন বলে দাবি করেছেন বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা।

যদিও উদ্ধব শিবির এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে।

পালটা আক্রমণে উদ্ধব শিবির

বিদ্রোহের খবর প্রকাশ্যে আসতেই পালটা পদক্ষেপ শুরু করেছে উদ্ধব শিবির। দলীয় সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন তাঁরা শিণ্ডে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দলীয় বৈঠক এড়িয়ে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর না পেলে স্পিকারের কাছে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।

তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে দলবদল করলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রয়োগ অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে।

মহারাষ্ট্রে আবার বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ

২০২২ সালে একনাথ শিণ্ডের নেতৃত্বে শিবসেনার প্রথম বড় ভাঙনের পর মহারাষ্ট্রের রাজনীতি সম্পূর্ণ নতুন মোড় নেয়। তখনই উদ্ধব ঠাকরের সরকার ক্ষমতা হারায় এবং বিজেপির সমর্থনে নতুন সরকার গঠিত হয়।

এরপর এনসিপিতেও একই ধরনের ভাঙন দেখা যায়। ফলে মহারাষ্ট্রে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে সংখ্যার অঙ্ক যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক এই ঘটনা সেই প্রবণতাকেই আরও স্পষ্ট করল। উদ্ধব শিবসেনার সংসদীয় দলে যদি সত্যিই এই ভাঙন স্থায়ী হয়, তাহলে শুধু লোকসভায় দলের শক্তিই কমবে না, বিরোধী জোটের রাজনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

এখন নজর স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্তের দিকে। তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই নতুন অধ্যায় কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10