Home/India/খান স্যরের বিরুদ্ধে পাটনায় এফআইআর, গোপন সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে তরুণীকে খুনের হুমকির দাবি
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

খান স্যরের বিরুদ্ধে পাটনায় এফআইআর, গোপন সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে তরুণীকে খুনের হুমকির দাবি

বিহারের পাটনায় ফের বিতর্কে ইউটিউবার ও শিক্ষক ফয়জল খান ওরফে ‘খান স্যর’। উত্তরপ্রদেশের এক তরুণী তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে পীরবহোর থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, খান স্যরের একটি কথিত ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন। সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে আশঙ্কা করে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী এবং পাটনা জেলা প্রশাসনের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন ওই তরুণী। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 29, 2026
5 min read
0
Share:
খান স্যরের বিরুদ্ধে পাটনায় এফআইআর, গোপন সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে তরুণীকে খুনের হুমকির দাবি

কী অভিযোগ তরুণীর?

অভিযোগকারিণীর দাবি, ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তাঁর এক বান্ধবীর সঙ্গে খান স্যরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পাটনায় তাঁদের একাধিকবার দেখা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। এমন কিছু ঘটনার তিনি সাক্ষী ছিলেন, যা প্রকাশ্যে এলে সমস্যা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তরুণীর।

তাঁর আরও দাবি, এই সম্পর্কের বিষয়ে আপত্তি জানানোর পর থেকেই তাঁর উপর চাপ তৈরি হতে শুরু করে। ২০১৯ সাল থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে চুপ করিয়ে রাখার জন্য খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ফলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তিনি। যে কোনও সময় তাঁর উপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারিণী।

পুলিশের কাছে কী জানিয়েছেন তরুণী?

পীরবহোর থানায় দায়ের করা অভিযোগে তরুণী জানিয়েছেন, তাঁর কাছে থাকা কথিত তথ্য যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তার জন্য তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁর।

তরুণীর দাবি অনুযায়ী, খান স্যরের প্রভাবেই পুলিশকে ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা হয়েছিল। এক পর্যায়ে সুলতানগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থার তরফে এমন কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যাতে তরুণীর সব অভিযোগ ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করা যায়।

তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ

অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে পাটনা পুলিশ। পাটনা সদরের ডিএসপি রাজেশ কুমার জানিয়েছেন, পীরবহোর থানায় একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারিণীর সঙ্গে মহিলা পুলিশ আধিকারিক যোগাযোগ করেছেন এবং তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগের প্রকৃতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তরুণীর বক্তব্য, তাঁর কাছে থাকা তথ্য এবং তিনি যে হুমকির কথা জানিয়েছেন, সেগুলির সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও তদন্তের প্রয়োজনে নেওয়া হতে পারে।

নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ

ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারিণী। শুধু থানায় অভিযোগ দায়ের করেই থেমে থাকেননি তিনি। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী এবং পাটনা জেলা প্রশাসনের কাছেও নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে হুমকির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ তদন্তের পাশাপাশি তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ফের বিতর্কে খান স্যর

এই অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এল, যখন খান স্যর ইতিমধ্যেই একাধিক বিতর্কের মধ্যে রয়েছেন। সম্প্রতি পাটনায় একটি কোচিং সেন্টারকে কেন্দ্র করে গুলিকাণ্ডের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছিল।

সেই ঘটনায় অভিযোগ ওঠে, নিরাপত্তারক্ষীদের গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ফয়জল খান। যদিও সেই অভিযোগেরও চূড়ান্ত সত্যতা আদালত বা তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ওই মামলায় সম্প্রতি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

এর পাশাপাশি এক সাংবাদিকও তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। ফলে একের পর এক অভিযোগ ও আইনি জটিলতার মধ্যে এবার নতুন করে আলোচনায় এলেন এই শিক্ষক ও ইউটিউবার।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এখন পুলিশের দায়িত্ব

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তরুণীর করা অভিযোগগুলির কতটা সত্যতা রয়েছে। অভিযোগে ২০১৭-১৮ সালের একটি কথিত সম্পর্ক, পরবর্তী সময়ে হুমকি এবং তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসব দাবির কোনওটিই এখনও আদালতে প্রমাণিত নয়।

তদন্তকারীরা তরুণীর বয়ান, সম্ভাব্য সাক্ষী, যোগাযোগের তথ্য এবং অন্য কোনও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ খতিয়ে দেখতে পারেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আরও কারও বক্তব্য নেওয়া হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

অন্যদিকে, খান স্যরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে কী বক্তব্য দেওয়া হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের ফল সামনে না আসা পর্যন্ত অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সামনে কী?

পীরবহোর থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর এখন পুলিশের তদন্তই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অভিযোগকারিণীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত আবেদন, তাঁর বয়ান এবং অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হবে।

যদি তদন্তে হুমকি বা অন্য কোনও অপরাধের অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ মেলে, তাহলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে পুলিশ। আবার অভিযোগের কোনও অংশের ভিত্তি না থাকলে তদন্তেই সেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, পাটনায় নতুন এই অভিযোগ খান স্যরের বিরুদ্ধে চলমান আইনি ও বিতর্কের তালিকায় আরও একটি অধ্যায় যোগ করল। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তাঁকে দোষী বলা যায় না। এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগকারিণীর দাবির পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ সামনে আসে, সেটাই দেখার।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10