দলীয় বৈঠকে অনুপস্থিতি ঘিরে শুরু বিতর্ক
লোকসভা অধিবেশন চলাকালীন দিল্লিতে সম্প্রতি সংসদীয় দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছিল শিব সেনা (ইউবিটি)। দলের তরফে সমস্ত সাংসদকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈঠকে যোগ দেন মাত্র তিনজন সাংসদ। একসঙ্গে ছয়জন সাংসদের অনুপস্থিতি দলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করে।
এরপরই কঠোর অবস্থান নেয় উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবির। দলের মুখ্য সচেতক অনিল দেশাই অনুপস্থিত ছয় সাংসদের হাতে শোকজ নোটিস পাঠান। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাঁরা দলীয় নির্দেশ সত্ত্বেও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না এবং কেন তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাবের নির্দেশ
শোকজ নোটিসে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে ধরে নেওয়া হবে যে তাঁরা স্বেচ্ছায় দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন বা দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত রয়েছেন।
দলের বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তার জেরে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের লোকসভার সদস্যপদও বিপদের মুখে পড়তে পারে।
কারা রয়েছেন বিদ্রোহীদের তালিকায়?
শিব সেনা (ইউবিটি)-র যে ছয় সাংসদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন নাগেশ আশিতকর, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দিনা পাটিল, ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বলকর এবং ভাওসাহেব ওয়াকচুরে।
দলীয় সূত্রের দাবি, এই সাংসদদের একাংশ সম্প্রতি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকেই তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়।
‘অপারেশন টাইগার’ জল্পনা ঘিরে সরগরম মহারাষ্ট্র
ছয় সাংসদের একযোগে দলীয় বৈঠকে অনুপস্থিতি বিজেপির তরফে নতুন রাজনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মহারাষ্ট্রে ফের কোনও বড় ভাঙনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইতিমধ্যেই বিজেপির ‘অপারেশন টাইগার’ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পক্ষই স্পষ্ট মন্তব্য করেনি, তবে উদ্ধব শিবিরের দ্রুত পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নিতে নারাজ।
অযোগ্য ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু, দাবি সঞ্জয় রাউতের
শিব সেনা (ইউবিটি)-র রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত জানিয়েছেন, অনুপস্থিত সাংসদদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, দলীয় হুইপ উপেক্ষা করা এবং সংগঠনের নির্দেশ অমান্য করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। নিয়ম ও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হলে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণার সম্ভাবনা প্রবল।
রাউত আরও বলেন, লোকসভার স্পিকার যদি সংবিধান, বিদ্যমান আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে বিদ্রোহী সাংসদদের সাংসদ পদ খারিজের পথও খুলে যেতে পারে।
অমিত শাহের মন্তব্যে বেড়েছে রাজনৈতিক জল্পনা
এই অস্থিরতার আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি মন্তব্যও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, আগে শিব সেনাকে বোঝাতে গেলে আলাদা করে শিণ্ডে শিবিরের উল্লেখ করতে হত, কিন্তু এখন আর কোনও পৃথক শিবির নেই, শিব সেনা একটাই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য কার্যত উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের বর্তমান সংকটকে কটাক্ষ করেই করা হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বিজেপি মহারাষ্ট্রে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও বিজেপি এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সামনে আরও বড় রাজনৈতিক লড়াই
লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত মিলছে। উদ্ধব ঠাকরের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলীয় ঐক্য বজায় রাখা। অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁরা কী জবাব দেন এবং দল পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপর নির্ভর করছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংকট শুধু ছয় সাংসদের ভবিষ্যৎ নয়, উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও হয়ে উঠতে পারে।



