পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন Parambrata Chatterjee। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হলেও, তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যার দিকে—বিশেষত ফেডারেশন-কেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।
অভিনেতার কথায়, গত কয়েক বছরে টলিউডে এমন কিছু প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে শিল্পের বাইরে থাকা কিছু ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এর ফলে কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁর মত। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে যদি এই প্রভাব কমে, তবে তা শিল্পের পক্ষে ইতিবাচক হবে।
যদিও নির্বাচনের আগে All India Trinamool Congress-এর প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন পরমব্রত, তবু তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি দলের সদস্য নন। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট কিছু নীতিগত প্রশ্নে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি ওই মঞ্চ বেছে নিয়েছিলেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনায় তিনি সরব হয়েছিলেন।
পরমব্রত আরও বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর মতে, কিছু নেতাকর্মীর আচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ শাসকদলের ইতিবাচক কাজগুলিকেও আড়াল করে দিয়েছে। তবে এই সমালোচনার মধ্যেও তিনি Mamata Banerjee-র প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা বজায় রেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
টলিউডে ‘ব্যান কালচার’ বিতর্ক:
গত কয়েক বছরে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিল্পীদের কাজের সুযোগ কমে গেছে বা তাঁদের কোণঠাসা করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে পরমব্রত জানান, তিনিও ব্যক্তিগতভাবে এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে কাজ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
তাঁর কথায়, “যদি নতুন পরিস্থিতিতে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ কমে এবং শিল্পীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তবে সেটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হবে।”
প্রেক্ষাপট:
দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের চলচ্চিত্র শিল্পে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলেছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সেই আলোচনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই পরিবর্তন শিল্পের কাঠামো ও কাজের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
উপসংহার:
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর টলিউডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন একাংশ। তবে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আসে, তা সময়ই বলবে।



