নাকা চেকিংয়ের সময় গুলির লড়াই
অঙ্কিত বালিয়ান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর রবিবার রাত থেকেই শামলি জেলার বিভিন্ন প্রবেশ ও বেরোনোর রাস্তায় নজরদারি বাড়ানো হয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে বসানো হয় পুলিশ পিকেটও।
পুলিশের দাবি, সোমবার ভোর ৪টে নাগাদ কারনালের দিক থেকে একটি মোটরবাইক আসতে দেখা যায়। বাইকটিকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশকর্মীরা সেটি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাইকে থাকা দু’জন আচমকাই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে বলে অভিযোগ।
এরপরই পালটা গুলি চালায় পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াইয়ের পর দুই সন্দেহভাজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক পরিচয় অনুযায়ী, নিহতদের নাম সুমিত ও মোহিত।
পুলিশের দাবি, পালানোর সময় হামলা
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অঙ্কিত বালিয়ান খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের গতিবিধি সম্পর্কে আগেই তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। সেই সূত্রেই শামলির বিভিন্ন এলাকায় চেকিং ও নজরদারি বাড়ানো হয়।
পুলিশের দাবি, সন্দেহজনক বাইকটিকে থামানোর সময় দুই আরোহী আত্মসমর্পণ না করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থেই পুলিশ পালটা গুলি চালায়। সেই গুলিতে দুই সন্দেহভাজনের মৃত্যু হয়।
অভিযানের সময় দুই পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে কি না, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।
জিম থেকে বেরিয়েই খুন অঙ্কিত
গত বুধবার সন্ধ্যায় শামলির কোতোয়ালি এলাকায় আততায়ীদের গুলিতে খুন হন অঙ্কিত বালিয়ান। জানা গিয়েছে, জিম থেকে শরীরচর্চা করে বেরোনোর সময় তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
অঙ্কিতের উপর প্রায় ২০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই আততায়ীদের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের পিছনে কারা রয়েছে এবং কী কারণে তাঁকে নিশানা করা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে মামলার তদন্তে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়।
গোগী গ্যাংয়ের দায় স্বীকারের দাবি
অঙ্কিত হত্যাকাণ্ডের পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট সামনে আসে, যেখানে ‘গোগী গ্যাং’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী এই খুনের দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়।
পোস্টে অঙ্কিতের একটি গানকে হত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। দাবি করা হয়, রোহিণী আদালত চত্বরে খুন হওয়া গ্যাংস্টার জিতেন্দ্র গোগীকে নিয়ে একটি গান তৈরি করেছিলেন অঙ্কিত। সেই কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে ওই পোস্টে দাবি করা হয়।
তবে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ওই দায় স্বীকারের দাবির সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। পুলিশও বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখছে।
চার শুটারকে ঘিরে তদন্ত
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অঙ্কিত বালিয়ানকে খুন করতে চারজন শুটার সরাসরি অংশ নিয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়াও আরও দু’জন হামলার আগে এলাকায় রেইকি করেছিল বলে পুলিশের দাবি।
তদন্তকারীদের অনুমান, হামলাটি পরিকল্পিত ছিল। অভিযুক্তদের গতিবিধি, তাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তারা কোথায় গিয়েছিল—এসব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন চার শুটারের সঙ্গে হরিয়ানার হিসার ও রোহতকের যোগ রয়েছে। ইতিমধ্যেই তাদের মধ্যে দু’জন এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। বাকি সন্দেহভাজনদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অঙ্কিতের সঙ্গীতজীবন
অঙ্কিত বালিয়ান শুধু গায়কই ছিলেন না, তিনি গীতিকার ও সুরকার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। হরিয়ানার শামলির বান্টিখেড়া গ্রামের বাসিন্দা অঙ্কিতের শুরুটা অবশ্য অন্য ক্ষেত্রে।
চোটের কারণে রাজ্যস্তরের কাবাডি খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর কেরিয়ার থমকে যায়। এরপর তিনি হরিয়ানভি সঙ্গীতের জগতে প্রবেশ করেন। ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন এবং গায়ক, গীতিকার ও সুরকার হিসেবে একাধিক কাজ করেন।
জানা গিয়েছে, ৫০টিরও বেশি গানে তাঁর অবদান রয়েছে। সঙ্গীতের পাশাপাশি ইউটিউবেও তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি তৈরি হয়েছিল।
তদন্তে এখন পুলিশের নজর বাকি অভিযুক্তদের দিকে
দুই সন্দেহভাজনের মৃত্যুর পর অঙ্কিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পুলিশ এখন বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী কারা, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
চার শুটারের মধ্যে দু’জন নিহত হলেও বাকি দু’জনের অবস্থান এখনও অজানা। একইসঙ্গে রেইকির সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা দুই ব্যক্তির ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অঙ্কিতকে খুনের পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা, গ্যাং-সংক্রান্ত বিরোধ নাকি অন্য কোনও কারণ ছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। সমাজমাধ্যমে দায় স্বীকারের পোস্ট এবং পুলিশের হাতে থাকা অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখার পরই হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
এই মুহূর্তে শামলির এনকাউন্টারকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে এনকাউন্টারে নিহত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অঙ্কিত হত্যার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগেই তাঁদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা যাবে না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হবে।



