Home/India/সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি মিলল না মীনাক্ষীর, রাজ্যসভার মনোনয়ন বাতিল মামলায় হস্তক্ষেপে অনীহা শীর্ষ আদালতের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি মিলল না মীনাক্ষীর, রাজ্যসভার মনোনয়ন বাতিল মামলায় হস্তক্ষেপে অনীহা শীর্ষ আদালতের

মধ্যপ্রদেশে রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেল কংগ্রেস। রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল দেশের শীর্ষ আদালত। বরং এই বিষয়ে প্রতিকার চাইলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আদালত। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে মীনাক্ষীর প্রার্থীপদ বাতিলের জেরে ইতিমধ্যেই বিজেপির প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 13, 2026
5 min read
3
Share:
সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি মিলল না মীনাক্ষীর, রাজ্যসভার মনোনয়ন বাতিল মামলায় হস্তক্ষেপে অনীহা শীর্ষ আদালতের

মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলের বিতর্কে হস্তক্ষেপ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার কোনও কারণ তারা দেখছে না। একইসঙ্গে আদালত পরামর্শ দিয়েছে, এই বিষয়ে আইনি প্রতিকার চাইলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারেন আবেদনকারী।

রাজ্যসভার মনোনয়ন বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রার্থীপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত ছিল বেআইনি এবং তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।

এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি পি কে মিশ্র এবং বিচারপতি এ এস চান্দুরকরের ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানায়, কোনও মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে ত্রুটি থাকলেও তার প্রতিকার খোঁজার নির্দিষ্ট আইনি পথ রয়েছে। সাধারণত এই ধরনের বিষয়ে সরাসরি আদালতের হস্তক্ষেপের নজির খুবই সীমিত।

বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও। বিচারপতিরা জানতে চান, অতীতে এমন কোনও উদাহরণ রয়েছে কি না, যেখানে মনোনয়ন বাতিলের পর সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে। এই প্রশ্ন থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আদালত এই মামলায় অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিতে চাইছে।

মীনাক্ষী নটরাজনের পক্ষে সওয়াল করেন কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তিনি আদালতের সামনে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বিষয়টি কেবল একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্বাচনী ন্যায়ের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। তাঁর বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

তবে আদালত সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতিরা জানিয়ে দেন, নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনেই বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই পথেই এগোনো উচিত।

পুরো বিতর্কের সূত্রপাত গত সোমবার। অভিযোগ ওঠে, মীনাক্ষী নটরাজন তাঁর হলফনামায় একটি মামলার তথ্য উল্লেখ করেননি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দুই বিজেপি নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন যে, প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, হায়দরাবাদের একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেই তথ্য হলফনামায় না থাকায় প্রার্থীপদ বাতিল করা উচিত। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে রিটার্নিং অফিসার শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

শুনানিতে কংগ্রেসের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে, যে ধরনের মামলার উল্লেখ করা হচ্ছে, তা প্রকাশ বাধ্যতামূলক কি না, তা নিয়েই বিতর্ক রয়েছে। অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আদালতকে জানান, সাধারণত সেই সব ফৌজদারি মামলার তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকে, যেখানে ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বর্তমান ক্ষেত্রে কেবল সমন জারি হয়েছিল এবং বিষয়টি সেই পর্যায়ে পৌঁছয়নি।

তবে এই যুক্তি গ্রহণ করেনি আদালত। বেঞ্চের মতে, এই বিষয়ে আইনি প্রতিকার চাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও নির্বাচন-সংক্রান্ত পদ্ধতি রয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের সামনে বিষয়টি তুলে ধরা যেতে পারে।

এদিকে, মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস নেতৃত্বও মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা উমঙ্গ সিংঘারের দাবি, মীনাক্ষী নটরাজনের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর ফৌজদারি মামলা নেই। তাঁর বক্তব্য, একটি আইনি নোটিস পাওয়া এবং বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেই কারণেই প্রার্থীপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।

তবে এই যুক্তিও রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেনি। মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ার পর নির্বাচনের সমীকরণও বদলে যায়। তৃতীয় আসনে কংগ্রেসের আর কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিজেপি প্রার্থী মহেশ কৈবত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে নির্বাচনী হলফনামার গুরুত্ব সামনে এসেছে। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা, আর্থিক তথ্য এবং অন্যান্য ঘোষণার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা নিয়ে নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরেই জোর দিয়ে আসছে। কারণ ভোটারদের সামনে একজন প্রার্থীর পূর্ণ তথ্য তুলে ধরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অন্যদিকে, কংগ্রেসের একাংশের দাবি, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। যদিও আইনি লড়াই এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন কমিশনের কাছে যাওয়ার পথ এখনও খোলা রয়েছে এবং দল পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিটি বিরোধে সরাসরি আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। বরং আইন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রতিকার খুঁজতে হবে। মীনাক্ষী নটরাজনের মামলায় শীর্ষ আদালতের এই অবস্থান ভবিষ্যতের অনুরূপ মামলাগুলির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10