দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে কেন্দ্র করে এবার আইনি পর্ব শুরু হল। অনশন ১৮ দিনে পৌঁছনোর পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির আশঙ্কা তুলে দিল্লি হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন সমাজকর্মী ও আইনজীবী রাকেশকুমার সাইনি।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় অবিলম্বে আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাঁকে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে হাসপাতালে স্থানান্তর করে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। আবেদনকারীর দাবি, ইতিমধ্যেই তাঁর ওজন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছে এবং দীর্ঘ সময় অনশন চলতে থাকলে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। জীবন রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে আদালতের কাছে জরুরি নির্দেশের আবেদন জানানো হয়েছে।
কী চাওয়া হয়েছে আদালতের কাছে?
জনস্বার্থ মামলায় মূলত কয়েকটি দাবি করা হয়েছে—
সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আনা।
প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি করা।
তাঁর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া।
আবেদনকারী দাবি করেছেন, বিষয়টি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির অনশন নয়, বরং মানবজীবন রক্ষার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত।
১৮ দিন ধরে চলছে অনশন
দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ১৮ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর আন্দোলনের মূল দাবি নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত।
দীর্ঘ সময় ধরে অনশন চললেও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক কোনও আলোচনা হয়নি বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
অনশন দীর্ঘায়িত হওয়ায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনও ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের তরফে নৈতিক সমর্থনের কথা বলা হলেও অনশনস্থলে বড় রাজনৈতিক উপস্থিতি চোখে পড়েনি বলেও আলোচনায় এসেছে।
সোনমের বার্তা
অনশন মঞ্চ থেকেই সোনম ওয়াংচুক সরকারের উদ্দেশে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রে মানুষের মতামত ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে জনগণের কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিলেই সরকার এবং দেশের উভয়েরই লাভ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একইসঙ্গে তিনি নিজেকে কোনও বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে না ধরারও আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, তিনি কেবল একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন।
আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নও সামনে
এই মামলার মাধ্যমে অনশনরত ব্যক্তির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং রাষ্ট্রের জীবন রক্ষার দায়িত্ব—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নও সামনে এসেছে। আদালত কী নির্দেশ দেয়, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হাই কোর্ট যদি এই মামলায় শুনানির সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে চিকিৎসা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব—এই তিনটি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সামনে আসতে পারে।
বর্তমানে নজর রয়েছে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার দিকে।



