Home/India/সিকিমে নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ ধস, মৃত অন্তত ৮ শ্রমিক; আটকে আরও বহুজন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

সিকিমে নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ ধস, মৃত অন্তত ৮ শ্রমিক; আটকে আরও বহুজন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ

সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং-ঝোলুঙ্গে এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক টানেলে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত আট শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হলেও এখনও টানেলের ভিতরে বহু শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া, ধসের ধ্বংসস্তূপ এবং মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 21, 2026
5 min read
3
Share:
সিকিমে নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ ধস, মৃত অন্তত ৮ শ্রমিক; আটকে আরও বহুজন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ

প্রবল বর্ষণের জেরে সিকিমে ফের প্রকৃতির রুদ্ররূপ। এবার ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল নামচি জেলার সামারদুং (ঝোলুঙ্গে) এলাকা, যেখানে নির্মীয়মাণ একটি সড়ক টানেলে আচমকা ধস নেমে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত আট শ্রমিক। প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধসের সময় টানেলের ভিতরে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হলেও এখনও অন্তত ১৮ জন বা তারও বেশি শ্রমিক ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরই উদ্ধার অভিযানে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য প্রশাসন, পুলিশ এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবার সদস্যরা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। তবে উদ্ধারকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে টানেলের ভিতরের প্রতিকূল পরিস্থিতি।

দুর্ঘটনাটি যে টানেলে ঘটেছে, সেটি প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ এবং সিকিমের প্রথম ডাবল-লেন সড়ক টানেল হিসেবে নির্মাণাধীন ছিল। পূর্ব সিকিমের পাকইয়ং জেলার মামরিং ও রংপো সংলগ্ন এলাকায় এই প্রকল্পের কাজ চলছিল। জাতীয় সড়ক-১০-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তৈরি হওয়া এই টানেল ভবিষ্যতে গ্যাংটকগামী পর্যটক এবং নাথু-লা সীমান্তমুখী সেনা ও অন্যান্য জরুরি যানবাহনের যাতায়াত আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হচ্ছিল। কৌশলগত দিক থেকেও প্রকল্পটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরে লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণে গোটা এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। সোমবার সেই দুর্যোগের মধ্যেই টানেলের একাংশ আচমকা ধসে পড়ে। বাইরে বেরিয়ে আসা কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন, ধস নামার ঠিক আগে টানেলের ভিতরে বিস্ফোরণের মতো একটি বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যেই মাটি ও পাথরের বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে যাঁরা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান। তবে অনেকেই ভিতরে আটকে পড়েন।

ধসের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে পড়া, ভূগর্ভস্থ চাপের পরিবর্তন অথবা নির্মাণ সংক্রান্ত অন্য কোনও প্রযুক্তিগত কারণ মিলিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন কোনও নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে নারাজ।

উদ্ধার অভিযানে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি করেছে টানেলের ভিতরে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, ধসের পর গ্যাস লিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং গভীরে প্রবেশ—দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ধাপে ধাপে এগোচ্ছে অভিযান। গ্যাসের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধারকর্মীরা ভিতরে প্রবেশ করছেন।

দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিকদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেলেও, গুরুতর আহতদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধসের সময় ধুলোর ঘন মেঘ, অক্সিজেনের ঘাটতি এবং আঘাত—সব মিলিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

ঘটনার পর শোকপ্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তিনি সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সিকিমে বর্তমানে প্রবল বৃষ্টির কারণে একাধিক এলাকায় লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে উদ্ধারকাজে নিযুক্ত দলগুলিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ভারী যন্ত্রপাতি এবং অতিরিক্ত জনবল পৌঁছে দিতেও কিছুটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্ষাকালে নির্মাণকাজ চললে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও কঠোর করার দাবি উঠছে।

এদিকে, টানেলের বাইরে উদ্বেগে অপেক্ষা করছেন আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অনেকেই এখনও প্রিয়জনের কোনও নির্দিষ্ট খবর পাননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিস্থিতির আপডেট দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকাজ এখনও অব্যাহত। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং টানেলের ভিতরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আপাতত নজর উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি এবং টানেলের ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে বের করে আনার ওপর।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10