ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় তমলুক মেডিকেল কলেজের মর্গে রাহুলের দেহের ময়নাতদন্ত করেন চিকিৎসক ইন্দ্রনীল বর্মণ। পুলিশের উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাহুলের শ্বাসনালিতে জল ও বালি ঢুকে গিয়েছিল। দমবন্ধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, বালি জমে তাঁর ফুসফুস প্রায় দ্বিগুণ ফুলে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে না থাকলে এমনটা সম্ভব নয়। অর্থাৎ রাহুল অন্তত ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা জলের নিচে ছিলেন। এই তথ্য স্থানীয় নুলিয়াদের বক্তব্যের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।
পরস্পরবিরোধী বয়ান
কিন্তু এই তথ্যের সঙ্গে শ্যুটিং ইউনিটের বক্তব্যের কোনো মিল নেই। রবিবার রাতে নির্মাতাদের তরফে দাবি করা হয়েছিল, জলে পড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাহুলকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাহলে ফুসফুসে এত বালি কোথা থেকে এল? এছাড়াও প্রথমে গল্পের চিত্রনাট্যকার দাবি করেছিলেন, চিত্রনাট্যে কোনো জলের দৃশ্যই ছিল না। পরে জানা যায়, হাঁটু সমান জলে ড্রোন শট চলছিল। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ঘটনার আসল সত্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ যা জানা গেছে
শ্যুটিং ইউনিটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাঁটু জলে ড্রোন শট চলার সময় আচমকা ঢেউয়ের ধাক্কায় পড়ে যান সহ অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। তাঁকে ধরতে গিয়ে রাহুল সমুদ্রের গভীরে এগিয়ে যান এবং টাল সামলাতে না পেরে তিনিও তলিয়ে যান। রাহুলের গাড়ির চালক বাবলু দাস ও অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উদ্ধারের পরেও রাহুলের শরীরে প্রাণ ছিল। ঘটনাস্থল থেকে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়।
নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এখন একটাই প্রশ্ন — সমুদ্রের জলে শ্যুটিংয়ের সময় লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বোট, জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ডাক্তার কোথায় ছিলেন? সৈকতে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে হয়তো এই মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো যেত। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, ওড়িশা পুলিশের অনুমতি ছাড়াই কীভাবে সমুদ্রসৈকতে শ্যুটিং হচ্ছিল। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানিয়েছেন, রাহুল জলে নামার ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শেষ বিদায়
ময়নাতদন্তের পর সোমবার দুপুরে রাহুলের দেহ কলকাতার বিজয়গড়ে তাঁর বাড়িতে আনা হয়। শেষশ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন অভিনয় ও রাজনীতির জগতের বিশিষ্টজনেরা। সাধারণ মানুষও ভিড় করেন তাঁর বাড়িতে। বিকেলে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেখানে অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও ছেলে সহজকে সমবেদনা জানান সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়সহ অনেকেই। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।



