Home/India/শেষ মুহূর্তে পাল্টে গেল সমীকরণ! বিদ্রোহী তৃণমূলের মুখ হতে পারেন সুদীপ, স্পিকারকে চিঠির জল্পনা তুঙ্গে
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

শেষ মুহূর্তে পাল্টে গেল সমীকরণ! বিদ্রোহী তৃণমূলের মুখ হতে পারেন সুদীপ, স্পিকারকে চিঠির জল্পনা তুঙ্গে

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের আবহের মধ্যেই দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন মোড়। এতদিন বিদ্রোহী সাংসদদের নেতৃত্বে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পর এবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ই নতুন সংসদীয় গোষ্ঠীর নেতৃত্বের কেন্দ্রে উঠে আসতে পারেন। আগামী সোমবার লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতিও নাকি প্রায় চূড়ান্ত।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 14, 2026
5 min read
8
Share:
শেষ মুহূর্তে পাল্টে গেল সমীকরণ! বিদ্রোহী তৃণমূলের মুখ হতে পারেন সুদীপ, স্পিকারকে চিঠির জল্পনা তুঙ্গে

রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই দলের অন্দরে অসন্তোষ, মতভেদ এবং বিদ্রোহের যে আবহ তৈরি হয়েছিল, তা এবার সংসদীয় রাজনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দিল্লিতে অবস্থানরত একাংশ তৃণমূল সাংসদ নিজেদের আলাদা পরিচয় প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটতে পারেন বলে জল্পনা ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। আর সেই আবহেই সামনে এসেছে নতুন এক সমীকরণ— বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বের আসনে উঠে আসতে পারেন বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রথম দিকে রাজনৈতিক মহলের ধারণা ছিল, দলের বিরুদ্ধে প্রথম সরব হওয়া সাংসদদের মধ্যে অন্যতম কাকলি ঘোষ দস্তিদারই এই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেবেন। কারণ, তাঁর নেতৃত্বেই বেশ কয়েকজন সাংসদ একত্রিত হয়েছেন বলে খবর সামনে এসেছিল। সংসদে পৃথক ব্লক গঠনের দাবিতেও তাঁর নামকে সামনে রেখে আলোচনা এগোচ্ছিল বলে সূত্রের দাবি।

কিন্তু গত কয়েক ঘণ্টার রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই সমীকরণ বদলে যেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের পর পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা, দিল্লির রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংসদদের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগের জোরেই শেষ মুহূর্তে তিনি বিদ্রোহী শিবিরের স্বাভাবিক মুখ হয়ে উঠতে পারেন।

লোকসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন দলনেতা হিসেবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। বহু বছর ধরে তিনি সংসদীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে তাঁর পরিচিতি ও যোগাযোগও যথেষ্ট বিস্তৃত। ফলে নতুন কোনও সংসদীয় গোষ্ঠী গঠনের ক্ষেত্রে তাঁকে সামনে আনা কৌশলগত দিক থেকে সুবিধাজনক হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এমনও আলোচনা চলছে যে, যদি নতুন গোষ্ঠী গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে পিছনে রেখে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। কারণ, বিদ্রোহী শিবিরে সুদীপের যোগদানের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকাও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় উপ-দলনেতা বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে শতাব্দীর নামও উঠে আসছে।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বিদ্রোহী সাংসদরা সংসদে নিজেদের সংখ্যাগত শক্তির ভিত্তিতে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানাতে পারেন। সেই চিঠিতে সংসদের দুই কক্ষে তাঁদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থার দাবিও জানানো হতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করার প্রস্তুতি চলছে বলে খবর।

জল্পনা আরও বেড়েছে এই কারণে যে, সম্প্রতি একাধিক তৃণমূল নেতা ও সাংসদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৈঠকের খবর সামনে এসেছে। যদিও এই বৈঠকগুলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পক্ষই বিস্তারিত মন্তব্য করেনি, তবুও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দিল্লির এই ঘটনাপ্রবাহ নিছক কাকতালীয় নয়।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রাপথও এই সমীকরণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনি লড়াই এবং ব্যক্তিগত বিতর্কের সময় পার করেও তিনি নিজের সাংসদীয় কেন্দ্র ধরে রেখেছেন এবং সংসদীয় রাজনীতিতে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের কারণেই বিদ্রোহী সাংসদদের একাংশ তাঁর নেতৃত্বে এগোতে বেশি স্বচ্ছন্দ হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই মুহূর্তে সবটাই জল্পনার স্তরে রয়েছে। কারণ, এখনও পর্যন্ত কোনও চিঠি প্রকাশ্যে আসেনি এবং লোকসভার স্পিকারের কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আবেদন পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আবার নতুন কোনও সংসদীয় ব্লককে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, সেটিও সম্পূর্ণভাবে স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

তবুও দিল্লির রাজনৈতিক আবহ বলছে, আগামী কয়েকদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। যদি সত্যিই পৃথক ব্লক গঠনের দাবি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয় এবং তার নেতৃত্বে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে আনা হয়, তাহলে তা শুধু তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দেবে। আপাতত নজর সোমবারের দিকে, কারণ সেই দিনই বিদ্রোহী শিবিরের ভবিষ্যৎ এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে বড় কোনও পদক্ষেপ সামনে আসতে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10