Home/India/রাঁচির ছাত্র আন্দোলনে আইসা নেত্রীকে লক্ষ্য করে কালি, ‘আজাদি স্লোগান চলবে না’ বার্তা ঘিরে উত্তেজনা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

রাঁচির ছাত্র আন্দোলনে আইসা নেত্রীকে লক্ষ্য করে কালি, ‘আজাদি স্লোগান চলবে না’ বার্তা ঘিরে উত্তেজনা

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবিতে চলা ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠেই হামলার মুখে পড়লেন আইসার সর্বভারতীয় নেত্রী নেহা বোরা। শুক্রবার রাঁচিতে তাঁকে লক্ষ্য করে কালি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। মুখ ও পোশাকে কালি লেগে যায় তাঁর। ঘটনাস্থল থেকেই এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। হামলার পরেও মঞ্চে বক্তব্য রাখেন নেহা। তাঁর অভিযোগ, আরএসএসের মদতপুষ্ট লোকজনই এই হামলার পিছনে রয়েছে। যদিও ঘটনাটির নেপথ্যে আন্দোলনকারীদের একাংশের ক্ষোভের সম্ভাবনাও ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 8, 2026
5 min read
14
Share:
রাঁচির ছাত্র আন্দোলনে আইসা নেত্রীকে লক্ষ্য করে কালি, ‘আজাদি স্লোগান চলবে না’ বার্তা ঘিরে উত্তেজনা

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে চলা ছাত্র আন্দোলন শুক্রবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল। সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে সেখানে পৌঁছেছিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসার সর্বভারতীয় নেত্রী নেহা বোরা। আন্দোলনের মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় আচমকাই তাঁকে লক্ষ্য করে কালি ছোড়া হয়। ঘটনায় তাঁর মুখ এবং পোশাকে কালি লেগে যায়।

ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা তৎপর হন। হামলার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামলে নেহা অবশ্য বক্তব্য চালিয়ে যান। পরে তাঁকে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাঁচির ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়।

নেহা বোরা এই হামলার জন্য সরাসরি আরএসএসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, আরএসএস-ঘনিষ্ঠ একটি দল বা তাদের মদতপুষ্ট লোকজনই তাঁকে নিশানা করেছে। যদিও পুলিশের তরফে আটক ব্যক্তির পরিচয় বা হামলার সঠিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে নেহার অভিযোগের পাশাপাশি হামলার প্রকৃত কারণ নিয়েও রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাঁচিতে যে ছাত্র আন্দোলন চলছে, তার মূল দাবি সরকারি পরীক্ষায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং অনিয়ম বন্ধ করা। দিল্লিতে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া ‘ককরোচ’ জনতা পার্টির আন্দোলনের সঙ্গে এই বিক্ষোভের কিছুটা মিল থাকলেও দুই আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়। রাঁচির আন্দোলনকারীরা শুরু থেকেই নিজেদের কর্মসূচিকে শিক্ষা ও নিয়োগ সংক্রান্ত দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলে আসছেন।

এই কারণেই ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ রাঁচির আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও স্থানীয় পড়ুয়াদের একাংশ তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, রাঁচির আন্দোলনকে কোনও রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত বিতর্কের দিকে নিয়ে যেতে চান না তাঁরা। বিশেষ করে ‘আজাদি’ ধরনের স্লোগান বা দেশবিরোধী বক্তব্য যাতে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক ছিলেন তাঁরা।

রাঁচির আন্দোলনকারীদের অবস্থান ছিল, তাঁদের কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু একটাই—সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। দিল্লির কোনও আন্দোলনের সঙ্গে তাঁদের কর্মসূচিকে এক করে দেখা হোক, সেটিও তাঁরা চাননি। ফলে অভিজিৎ দীপের সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে আগে থেকেই মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার রাঁচির আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন নেহা বোরা। আইসার সর্বভারতীয় নেত্রী হিসেবে তিনি ছাত্রদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন। মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর দিকে কালি ছোড়া হয়। আচমকা এই হামলায় উপস্থিতদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

কালি ছোড়ার পরও নেহা বক্তব্য থামিয়ে দেননি। বরং পরিস্থিতি সামলে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ছাত্রদের দাবির প্রতি সমর্থন এবং আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা। পরে নিরাপত্তার কারণে তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার পরে নেহা এবং তাঁর সংগঠনের পক্ষ থেকে হামলার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। আইসার অভিযোগ, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তাঁদের নেত্রীর উপর হামলা করা হয়েছে। আরএসএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়।

অন্যদিকে, ঘটনার আরেকটি ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মহলের একাংশের দাবি, দিল্লির ‘ককরোচ’ বিক্ষোভে নেহার উপস্থিতি এবং সেখানে ওঠা কিছু বিতর্কিত স্লোগানের কারণে রাঁচির আন্দোলনকারীদের মধ্যে তাঁর প্রতি অসন্তোষ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই ক্ষোভ থেকেই কেউ হামলা চালিয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই দাবির কোনও স্বাধীন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

রাঁচির ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে দিল্লির আন্দোলনের দূরত্ব বোঝাতে আয়োজকদের আগের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে রাঁচির কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করা হলেও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের কর্মসূচিতে এমন কোনও স্লোগান বা বক্তব্যের জায়গা নেই যা দেশের অখণ্ডতা বা জাতীয় রাজনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলন ও নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি এবং পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ—এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে একাধিক জায়গায় প্রতিবাদ হয়েছে। রাঁচির আন্দোলনও সেই বৃহত্তর ক্ষোভেরই অংশ বলে আয়োজকদের দাবি।

তবে শুক্রবারের হামলার পর আন্দোলনের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা এটিকে শিক্ষা ও নিয়োগ সংক্রান্ত দাবি হিসেবে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ঘিরে মতাদর্শগত সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। নেহা বোরার উপর হামলা সেই টানাপোড়েনকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল।

এদিকে এই ঘটনার পর নেহার আগামী কর্মসূচি নিয়েও সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার কলকাতায় আইসার একটি বড় কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রাঁচিতে হামলার পর তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সংগঠনের নেতৃত্বের মধ্যে চিন্তা তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কলকাতার কর্মসূচিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একজনকে আটক করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কী ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা হামলার কারণ, অভিযুক্তের সঙ্গে কোনও সংগঠনের যোগাযোগ ছিল কি না এবং ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে পারেন। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাজনৈতিক মহলেও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কারণ, একটি ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে আসা এক নেত্রীর উপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা আন্দোলনের নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একইসঙ্গে কোনও সংগঠনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করার আগে তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠছে।

সব মিলিয়ে, রাঁচির ছাত্র আন্দোলনে শুক্রবারের কালি হামলা শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে থাকছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক চরিত্র, বিভিন্ন মতাদর্শের সংগঠনের উপস্থিতি এবং প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে বিতর্ক। নেহা বোরার অভিযোগ এবং পুলিশের তদন্ত—দুই দিকেই এখন নজর থাকবে। একইসঙ্গে আগামী মঙ্গলবার কলকাতায় তাঁর নির্ধারিত কর্মসূচি ঘিরেও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10