Home/India/রাম মন্দিরের প্রণামী কাণ্ডে তদন্ত আরও গভীরে, এসআইটির মেয়াদ বাড়াল যোগী সরকার; উদ্ধার প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পত্তি
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

রাম মন্দিরের প্রণামী কাণ্ডে তদন্ত আরও গভীরে, এসআইটির মেয়াদ বাড়াল যোগী সরকার; উদ্ধার প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পত্তি

অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রণামীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চলা তদন্তে নতুন মোড়। তদন্ত এখনও শেষ না হওয়ায় বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-র মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্তকারীদের দাবি, তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার হয়েছে। প্রশাসনের মতে, গোটা ঘটনার বিস্তৃতি এবং আর্থিক লেনদেনের জটিলতা খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 2, 2026
5 min read
232
Share:
রাম মন্দিরের প্রণামী কাণ্ডে তদন্ত আরও গভীরে, এসআইটির মেয়াদ বাড়াল যোগী সরকার; উদ্ধার প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পত্তি

তদন্তে আরও সময় চাইল বিশেষ তদন্তকারী দল

রাম মন্দিরে প্রণামী সংগ্রহ এবং সেই অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। সেই কারণেই তদন্তে কোনও তাড়াহুড়ো না করে এসআইটির কাজের সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা থাকলেও এখনও চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়েনি। সরকারের বক্তব্য, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করতেই এই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

গত জুনে গঠিত হয়েছিল এসআইটি

গত ১৩ জুন রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের অনুরোধের ভিত্তিতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

এই তদন্তকারী দলে রয়েছেন আইএএস কর্মকর্তা বিজয় বিশ্বাস পন্থ, পুলিশের প্রাক্তন আইজি কিরণ এস এবং রাজ্যের অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব নীল রতন। প্রশাসনের নির্দেশে তাঁরা আর্থিক লেনদেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রণামী সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখছেন।

এখনও পর্যন্ত আটজন গ্রেপ্তার

তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এখনও পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব।

সম্প্রতি তাঁদের দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করেই গোটা আর্থিক অনিয়মের পরিকল্পনা করেছিলেন।

দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আত্মসাতের অভিযোগ

এসআইটির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, লবকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের বড় অংশ এই দুই অভিযুক্তের মাধ্যমে সরানো হয়েছিল বলে বিভিন্ন নথি ও তথ্য থেকে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে তাঁদের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার

তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সম্পত্তিও উদ্ধার হয়েছে।

এসআইটির দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই সম্পদের উৎস এবং তা আত্মসাৎ হওয়া অর্থের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, স্থাবর সম্পত্তি এবং আর্থিক নথিও পরীক্ষা করছেন।

কীভাবে চলত অনিয়ম?

তদন্তে উঠে এসেছে প্রণামী সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার পুরো ব্যবস্থাতেই একাধিক ত্রুটি ছিল।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, মন্দিরের প্রায় ৪০টি দানবাক্স থেকে সংগ্রহ করা নগদ অর্থ ধাপে ধাপে স্থানান্তরিত হত। এই অর্থ স্থানান্তরের প্রতিটি ধাপে পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল না বলেই অভিযোগ।

এছাড়া নগদ অর্থ গণনা এবং তা ব্যাংকে জমা দেওয়ার মধ্যে যথাযথ মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থাও ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সিসিটিভি নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন

মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ সিসিটিভি নজরদারিতেও একাধিক ত্রুটি ধরা পড়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

তাঁদের বক্তব্য, নজরদারির ফুটেজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। অভিযোগ, প্রায় ৪৫ দিন পর ফুটেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যেত। ফলে পুরনো ঘটনার তথ্য যাচাই করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যাংকের সতর্কবার্তা উপেক্ষার অভিযোগ

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কয়েক মাস আগেই আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার পরেও প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

এই বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ

এসআইটি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরের নিরাপত্তা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও রাম মন্দিরের বর্তমান ব্যবস্থার তুলনা করছে।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তদন্তকারীদের ধারণা, বহু বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যেখানে বহুস্তরীয় নজরদারি, নিয়মিত অডিট এবং কঠোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে রাম মন্দিরে কিছু ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়নি।

চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় প্রশাসন

সরকারি সূত্রের দাবি, তদন্তের সময়সীমা বাড়ানো হলেও দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসআইটির চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ, প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে মন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই তদন্ত শেষ হলে রাম মন্দিরের প্রণামী সংগ্রহ, নগদ অর্থের হিসাবরক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আরও বিস্তৃত সংস্কারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10