Home/India/রাম মন্দির দর্শনে বাধা কংগ্রেস নেতা অজয় রাইকে, অযোধ্যায় ‘গৃহবন্দি’ করার অভিযোগে সরব বিরোধী শিবির
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

রাম মন্দির দর্শনে বাধা কংগ্রেস নেতা অজয় রাইকে, অযোধ্যায় ‘গৃহবন্দি’ করার অভিযোগে সরব বিরোধী শিবির

অযোধ্যায় রাম মন্দির দর্শনে যেতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লেন উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই। কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের প্রস্তাবিত সফরের আগেই তাঁকে হোটেল থেকেই কার্যত ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা, অন্যদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ব্যাখ্যা মেলেনি। অযোধ্যার এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক আবহ।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 30, 2026
5 min read
11
Share:
রাম মন্দির দর্শনে বাধা কংগ্রেস নেতা অজয় রাইকে, অযোধ্যায় ‘গৃহবন্দি’ করার অভিযোগে সরব বিরোধী শিবির

অযোধ্যার রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল উত্তরপ্রদেশে। কংগ্রেস নেতা তথা প্রদেশ সভাপতি অজয় রাইকে রাম মন্দির দর্শনে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের পুলিশের বিরুদ্ধে। কংগ্রেসের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হোটেল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে অন্যত্র রাখা হয়েছে এবং কার্যত ‘গৃহবন্দি’ অবস্থায় রাখা হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দলের ৩০ জুন অযোধ্যায় রাম মন্দির দর্শনের কর্মসূচি ছিল। সেই সফর ঘিরেই আগে থেকেই প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে সফর শুরুর আগেই পরিস্থিতি ঘুরে যায়। অভিযোগ, অজয় রাই অযোধ্যায় পৌঁছনোর পরই পুলিশ তাঁকে হোটেল থেকে সরিয়ে নেয় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে একটি অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

অজয় রাই নিজে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে দাবি করেন, তাঁকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হোটেল থেকে তাঁকে জোর করে বের করে এনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁকে বাইরে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি খাবার দেওয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

তিনি আরও লেখেন, “রাম মন্দির ঘিরে যেভাবে দুর্নীতি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ সামনে আসছে, তাতে ভয় পেয়েই বিরোধীদের মন্দির দর্শনে বাধা দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর মতে, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার ও ধর্মীয় অধিকার—উভয়ের ওপর হস্তক্ষেপ।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে “কাপুরুষোচিত পদক্ষেপ” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। দলের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বিরোধী নেতাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, একটি ধর্মীয় স্থানে দর্শনে যাওয়ার মৌলিক অধিকারও এখন রাজনৈতিক কারণে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। পুলিশ বা জেলা প্রশাসন অজয় রাইয়ের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি, ফলে পরিস্থিতি আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সময় অযোধ্যায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কঠোর ছিল বলে জানা গেছে। রাম মন্দিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ তছরুপের অভিযোগ এবং তদন্তের প্রেক্ষিতে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাম মন্দির সংক্রান্ত দানের অর্থ চুরি নিয়ে তদন্তে সিট গঠন করা হয়েছে এবং একাধিক গ্রেপ্তারও হয়েছে।

এই পটভূমিতে কংগ্রেস প্রতিনিধি দলের সফর প্রশাসনের কাছে সংবেদনশীল বলে বিবেচিত হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।

অজয় রাই আরও দাবি করেন, তাঁকে শুধুমাত্র একা নয়, কংগ্রেসের অন্যান্য প্রতিনিধি দলের সদস্যদেরও একইভাবে আটক বা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাঁদের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে কংগ্রেস সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছে। দলের বিভিন্ন নেতা অভিযোগ করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা, যেখানে বিরোধীদের ধর্মীয় স্থানে প্রবেশ বা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে বিজেপি শিবির এখনো পর্যন্ত এই ঘটনায় সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিষয়টি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাদের যুক্তি, সংবেদনশীল এলাকায় রাজনৈতিক সফর হলে প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে বিরোধীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, যদি নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকে, তাহলে সেটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত, কিন্তু কাউকে হোটেলে আটকে রাখা বা চলাচল সীমিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে অযোধ্যা সফরকে ঘিরে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাম মন্দির ইস্যু ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত, আর এই ঘটনার ফলে সেই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন নেতার চলাচল বাধা দেওয়ার বিষয় নয়, বরং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তার অংশ, যেখানে ধর্মীয় স্থান, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। অজয় রাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে যদি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়, তাহলে বিষয়টি আরও বড় আকার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, রাম মন্দির দর্শনকে কেন্দ্র করে অযোধ্যায় তৈরি হওয়া এই বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতির নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের ব্যাখ্যা ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর সবার।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10