Home/India/রাজ্যসভার তিন আসনে বিজেপির প্রার্থী সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশ; দলবদলের পরেই জারি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

রাজ্যসভার তিন আসনে বিজেপির প্রার্থী সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশ; দলবদলের পরেই জারি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনের নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হল। বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনজনই একই দিন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। আগামী ২৪ জুলাই রাজ্যসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান বিধানসভার সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী, এই তিনটি আসনে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 10, 2026
5 min read
16
Share:
রাজ্যসভার তিন আসনে বিজেপির প্রার্থী সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশ; দলবদলের পরেই জারি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল বিজেপি। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে দিনের বেলায় এই তিন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। সল্টলেকে দলের রাজ্য সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। যোগদানের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়, তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী করা হতে পারে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই জল্পনায় সিলমোহর দেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

আগামী ২৪ জুলাই রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে। এই তিনটি আসন শূন্য হয় সংশ্লিষ্ট সাংসদদের পদত্যাগের পর। সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইকের রাজ্যসভার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিল। অন্যদিকে সুস্মিতা দেবের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০৩০ সালে। পদত্যাগের ফলে তিনটি আসনেই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সংখ্যাগত সমীকরণ বিজেপির পক্ষে রয়েছে। সেই কারণে এই তিনটি আসনে বিজেপির জয় কার্যত নিশ্চিত বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। একই সঙ্গে সংখ্যার নিরিখে তৃণমূলের পক্ষে প্রার্থী জেতানো সম্ভব নয় বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও সংখ্যার অঙ্কের বাস্তবতা স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান বিধানসভার পরিস্থিতিতে এই তিনটি আসনে তৃণমূলের প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ের ফল নিয়ে খুব বেশি অনিশ্চয়তা থাকছে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রার্থী তালিকা বিজেপির সাংগঠনিক কৌশলেরও প্রতিফলন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে অভিজ্ঞ নেতাদের দলে এনে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিতে চাইছে দল।

অন্যদিকে, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, এটি দলবদলের পর দ্রুত রাজনৈতিক পুরস্কার পাওয়ার উদাহরণ। যদিও বিজেপির তরফে এই অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দলে যোগদানের সময় সাংবাদিকরা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে সম্ভাব্য রাজ্যসভা প্রার্থী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। উত্তরে তিনি সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, "চর্চা চলুক।" রাতের ঘোষণার পর স্পষ্ট হয় যে, সেই জল্পনাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

রাজ্যসভার এই তিনটি আসনের নির্বাচন এখন মূলত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিজেপির প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। নির্বাচনের পর সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক ফের সংসদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তবে এবার বিজেপির সদস্য হিসেবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে দলবদল, সাংসদ নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাইয়ের ভোট এবং তার ফলাফল সেই রাজনৈতিক পরিবর্তনেরই আনুষ্ঠানিক রূপ দেবে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10