২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ বা WBCHSE। বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩০-এ সল্টলেকে সংসদের দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। এরপর সকাল ১১টা থেকে ফলাফল দেখার লিঙ্ক সক্রিয় হয়েছে।
এবার প্রায় ৭.১ লক্ষ পরীক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ছাত্রছাত্রীরা সংসদের সরকারি ওয়েবসাইট WBCHSE Official Website এবং WB Results Portal-এ গিয়ে নিজেদের রেজাল্ট দেখতে পারবেন। এছাড়াও একাধিক শিক্ষা পোর্টালেও ফলাফল দেখা যাচ্ছে।
রেজাল্ট দেখতে পরীক্ষার্থীদের নিজেদের রোল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। ফলাফল প্রকাশের পর অনলাইন মার্কশিট ডাউনলোড করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের প্রয়োজনের জন্য মার্কশিটের স্ক্রিনশট বা প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করতেও বলা হয়েছে।
এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১২ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১:১৫ পর্যন্ত এক শিফটে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষা মহলের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ফল প্রকাশের সময়সূচি আরও সুসংগঠিত ছিল। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে যাতে সার্ভারের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
অনলাইন মার্কশিটে কোনও ভুল বা তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাম, বিষয়, নম্বর বা অন্যান্য তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য স্কুলের মাধ্যমে সংসদের কাছে আবেদন জানাতে হবে।
এদিকে ফলপ্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। কেউ ভালো ফল করে উচ্ছ্বসিত, আবার কেউ ভবিষ্যতের কলেজ ভর্তি নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিও এখন শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ফলের উপর নির্ভর করেই ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, সাধারণ স্নাতকসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভর্তি প্রক্রিয়া এগোবে।
সংসদের পক্ষ থেকে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র অনলাইন ফলের উপর নির্ভর না করে পরবর্তীতে স্কুল থেকে মূল মার্কশিট এবং সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে। সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত সূচি পরে স্কুলগুলিকে জানানো হবে।



