জেলা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, শুটিংয়ের সময়ের ফুটেজে কোনো বোটের উপস্থিতি দেখা যায়নি। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ক্যামেরার সামনে অথই সমুদ্র এবং রাহুলরা নিজেরাই এগিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই জল বেড়ে যায় এবং সেই স্বল্প সময়ের ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে এটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনা। আলাদাভাবে কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। মৃতদেহ দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে সেখানকার থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। শুটিং ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে মর্মান্তিক তথ্য। রাহুলের ফুসফুসে অতিরিক্ত বালি ও জল ঢুকে যায় এবং ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। খাদ্যনালীর ভেতরেও বালি ও নোনা জল ঢুকে গিয়েছিল। শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ছিল কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়, ভিসেরা পরীক্ষাও হবে। যখন শুটিং ইউনিটের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান, ততক্ষণে সব শেষ। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শুটিংয়ের জন্য তালসারিতে গিয়েছিলেন রাহুল। সমুদ্রের ধারে শুটিং চলাকালীন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শুটিং লোকেশনে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ ইউনিট সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
রাহুলের মরদেহ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পৌঁছেছে। পরিবারের অনুরোধে অনাড়ম্বরভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। বাবা-মা আদর করে নাম রেখেছিলেন অরুণোদয় — নতুন সূর্যোদয়ের প্রতীক। কিন্তু সেই অরুণ অস্ত গেল সমুদ্রের বুকে, মাত্র ৪৩ বছর বয়সে। তাঁর এই অকালমৃত্যুতে শিল্পমহলে শোকের ছায়া আরও গভীর হয়েছে।



