পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে চলতে থাকা বিতর্কের মধ্যেই পড়ুয়াদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে যে ছাত্র আন্দোলন তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় মোদি জানান, পড়ুয়াদের স্বার্থের সঙ্গে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। পরীক্ষার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এর জন্য দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবার এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। দিল্লির যন্তরমন্তরে শুরু হওয়া প্রতিবাদ কর্মসূচি ধীরে ধীরে অন্য রাজ্যগুলিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এর আগে প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এবার তিনি জানিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একাধিক স্তরে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তনের কথাও ভাবা হচ্ছে।
এদিকে, আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি হল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। বিরোধীদের অভিযোগ, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় বারবার অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্রীয় সরকার যথেষ্ট দায়িত্ব নিচ্ছে না। যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর সমাধানের জন্য গঠনমূলক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বিরোধীদের সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর। সরকারের অভিমত, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর দায় রয়েছে— এমন কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। ফলে তাঁকে পদ থেকে সরানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের সমর্থকদের দাবি, শুধুমাত্র তদন্ত বা গ্রেপ্তার যথেষ্ট নয়। পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনও পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তার জন্য স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর নতুন বার্তার পর আন্দোলনের পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার। কেন্দ্র একদিকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এবং আন্দোলনকারীরা আরও বড় পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে দিল্লির বাইরে বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় প্রশাসনও সতর্ক রয়েছে। দেশের একাধিক রাজ্যকে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা শুধু একটি পরীক্ষার সমস্যা নয়, বরং দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত— এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তাই সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর সবার।



