ওল্ড মঙ্কের তিন পণ্যে FSSAI-এর কড়া পদক্ষেপ
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাম ব্র্যান্ড ওল্ড মঙ্কের বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা FSSAI। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ওল্ড মঙ্কের তিনটি নির্দিষ্ট ভ্যারিয়্যান্টের উৎপাদন, বিক্রি এবং বিতরণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
FSSAI-এর দাবি, ওই পণ্যগুলিতে রামের নিজস্ব পরিপক্ব স্বাদ ও গন্ধ তৈরির পরিবর্তে কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়ার বদলে অন্য উপায়ে স্বাদ ও গন্ধ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, অ্যালকোহলিক বেভারেজ তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কিছু পণ্যে সেই নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
নিউট্রাল স্পিরিট ব্যবহারের অভিযোগ
FSSAI জানিয়েছে, ওই ভ্যারিয়্যান্টগুলিতে নিউট্রাল বা অপরিপক্ব স্পিরিট ব্যবহার করে রামের স্বাদ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত পরিপক্ব করার মাধ্যমে রামের স্বাদ ও গুণমান তৈরি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলিতে সেই প্রক্রিয়ার বদলে কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থার বক্তব্য, এই ধরনের পদ্ধতি ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (অ্যালকোহলিক বেভারেজেস) রেগুলেশনস, ২০১৮’-এর নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বয়সের দাবি নিয়েও প্রশ্ন
শুধু স্বাদ ও উপাদান নয়, পণ্যের লেবেলে বয়স সংক্রান্ত তথ্য নিয়েও আপত্তি তুলেছে FSSAI।
বিশেষ করে ‘ওল্ড মঙ্ক XXX রাম’-এর একটি ভ্যারিয়্যান্টে ‘৭ বছরের পুরনো ব্লেন্ডেড’ বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
FSSAI-এর মতে, ওই পণ্যে ব্যবহৃত মিশ্রণের প্রধান অংশ ছিল নিউট্রাল স্পিরিট। প্রকৃত পরিপক্ব রামের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম। ফলে ওই পণ্যের ক্ষেত্রে সাত বছরের পুরনো রামের দাবি সঠিক নয় বলে মনে করছে সংস্থা।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনও মিশ্রিত অ্যালকোহলিক পানীয়তে বয়সের উল্লেখ করতে হলে মিশ্রণে ব্যবহৃত সবচেয়ে কম বয়সি উপাদানের ভিত্তিতেই সেই তথ্য দিতে হয়। এই নিয়ম না মানার অভিযোগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুধু ওল্ড মঙ্ক নয়, আরও ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ
FSSAI জানিয়েছে, শুধুমাত্র ওল্ড মঙ্ক নয়, আরও কয়েকটি অ্যালকোহলিক ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে।
কিছু ক্ষেত্রে হুইস্কি ও রামের স্বাদ এবং গন্ধ তৈরি করতে কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তা ও মান বজায় রাখার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজারে বিক্রি হওয়া পানীয়ের গুণমান নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
বাজার থেকে কি পুরোপুরি উধাও হবে ওল্ড মঙ্ক?
FSSAI-এর নিষেধাজ্ঞার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বাজার থেকে পুরোপুরি উধাও হয়ে যাবে ওল্ড মঙ্কের ওই ভ্যারিয়্যান্টগুলি?
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়।
যতদিন না পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হচ্ছে এবং নিয়ম মেনে উৎপাদন নিশ্চিত করা হচ্ছে, ততদিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
অর্থাৎ, সব ধরনের ওল্ড মঙ্ক পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। শুধুমাত্র চিহ্নিত কিছু ভ্যারিয়্যান্টের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে।
সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ
FSSAI জানিয়েছে, নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, কোনও সংস্থা যদি পণ্যের উপাদান, গুণমান বা লেবেল সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর দাবি করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এই ঘটনায় অ্যালকোহলিক বেভারেজ শিল্পেও নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রেতাদের কাছে পণ্যের সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
FSSAI-এর এই পদক্ষেপের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া ও লেবেলিং ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।



