নিট বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রশ্ন উঠল Central Board of Secondary Education-এর দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে। অভিযোগ, একাধিক পড়ুয়াকে অন্যের উত্তরপত্রের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
ঘটনার সূত্রপাত এক পড়ুয়া বেদান্তের সোশাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে। পদার্থবিদ্যায় আশানুরূপ নম্বর না পেয়ে তিনি নিজের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য দেখতে চান। বোর্ডের তরফে পাঠানো স্ক্যান কপি হাতে পেয়েই তাঁর সন্দেহ হয়। হাতের লেখা এবং উত্তর দেখে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি তাঁর খাতা নয়।
এরপরই বিষয়টি সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন তিনি। মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় পোস্টটি। এরপর আরও কয়েকজন পড়ুয়া একই ধরনের অভিযোগ সামনে আনেন। তাঁদের দাবি, তাঁরাও অন্যের উত্তরপত্র পেয়েছেন বা ভুল মূল্যায়নের শিকার হয়েছেন।
চাপ বাড়তেই মুখ খুলেছে সিবিএসই। বোর্ডের তরফে স্বীকার করা হয়েছে, উত্তরপত্র পাঠানোর ক্ষেত্রে গাফিলতি হয়েছে। আপাতত দু’জন পড়ুয়ার নম্বর সংশোধনের কথা জানানো হয়েছে। তবে কতজন এই সমস্যার মুখে পড়েছেন, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য দেয়নি বোর্ড।
ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা Rahul Gandhi এক্স হ্যান্ডেলে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করে দাবি করেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “গত কয়েক দশকে এই প্রথম সিবিএসই পরীক্ষা নিয়ে এত গুরুতর অভিযোগ উঠছে।”
শিক্ষামহলের একাংশের মতে, এই ধরনের ভুল শুধুমাত্র নম্বর বিভ্রাট নয়, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কলেজে ভর্তি, স্কলারশিপ কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে গোটা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এখন দেখার, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে বোর্ড কত দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং বাকি ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।



