Home/India/নিট বিতর্কের পর এবার ইউপিএসসি প্রিলিমসেও প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ, ৮ প্রশ্নে ভুলের দাবি! জবাব চাইল ক্যাট
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

নিট বিতর্কের পর এবার ইউপিএসসি প্রিলিমসেও প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ, ৮ প্রশ্নে ভুলের দাবি! জবাব চাইল ক্যাট

নিট-ইউজি ও ইউজিসি-নেটের প্রশ্নপত্র ঘিরে বিতর্কের আবহ কাটতে না কাটতেই এবার ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নিয়েও উঠল গুরুতর অভিযোগ। ২০২৬ সালের প্রিলিমসের জেনারেল স্টাডিজ পেপার-১-এর আটটি প্রশ্নে ভুল, অস্পষ্টতা এবং সঠিক বিকল্প না থাকার অভিযোগ তুলেছেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, কয়েকটি প্রশ্ন সিলেবাসের বাইরেও ছিল। বিষয়টি নিয়ে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনালে মামলা হলে ইউপিএসসিকে নোটিস পাঠিয়েছে ক্যাটের দিল্লি বেঞ্চ। আগামী অক্টোবরে মামলার পরবর্তী শুনানি।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 19, 2026
5 min read
9
Share:
নিট বিতর্কের পর এবার ইউপিএসসি প্রিলিমসেও প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ, ৮ প্রশ্নে ভুলের দাবি! জবাব চাইল ক্যাট

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নের নির্ভুলতা নিয়ে ফের বড় বিতর্ক। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা ইউপিএসসি। চলতি বছরের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জেনারেল স্টাডিজ পেপার-১-এর আটটি প্রশ্ন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন কয়েকজন পরীক্ষার্থী। তাঁদের অভিযোগ, প্রশ্নগুলির মধ্যে কিছুতে নির্দিষ্ট উত্তর নেই, কোথাও দেওয়া উত্তর ভুল এবং কয়েকটি প্রশ্নের বিষয়বস্তু নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পরীক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি পৌঁছয় সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বা ক্যাটে। শুনানির পর নয়াদিল্লি বেঞ্চ ইউপিএসসিকে নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগগুলির বিষয়ে জবাব দিতে বলেছে। তবে এখনও পরীক্ষার ফল বা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি ট্রাইবুনাল।

কোন আটটি প্রশ্ন নিয়ে আপত্তি?

২০২৬ সালের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় জেনারেল স্টাডিজ পেপার-১-এর সেট ‘এ’-এর আটটি প্রশ্নকে চ্যালেঞ্জ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের আবেদনে ৭, ১১, ৪৫, ৬০, ৬২, ৮২, ৮৬ এবং ৯৬ নম্বর প্রশ্নের উল্লেখ রয়েছে।

আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন শচীন তিওয়ারি এবং আরও দুই পরীক্ষার্থী। তাঁদের বক্তব্য, প্রশ্নগুলির ক্ষেত্রে ইউপিএসসি যে প্রভিশনাল অ্যানসার প্রকাশ করেছে, তার কয়েকটি নিয়েও তাঁদের গুরুতর আপত্তি রয়েছে। কোথাও উত্তর নিয়ে দ্বিমত, কোথাও প্রশ্নের কাঠামোতেই সমস্যা এবং কিছু ক্ষেত্রে কোনও বিকল্পকেই সম্পূর্ণ সঠিক বলে মনে হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

পরীক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইউপিএসসির সংশ্লিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে তাঁরা প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আপত্তির বিষয়ে কমিশনের তরফে তাঁদের কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এরপরই তাঁরা ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নেগেটিভ মার্কিংয়ে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার সঙ্গে রয়েছে নেগেটিভ মার্কিং। ফলে কোনও প্রশ্নের সঠিক উত্তর নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলে তার প্রভাব শুধু ওই একটি প্রশ্নের নম্বরেই সীমাবদ্ধ থাকে না।

আবেদনকারীদের দাবি, বিতর্কিত আটটি প্রশ্নের মোট নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট নেগেটিভ মার্কিং মিলিয়ে প্রায় ১৬ নম্বরের ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে। ইউপিএসসির মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কয়েকটি নম্বরই বহু প্রার্থীর সাফল্য বা ব্যর্থতার ব্যবধান তৈরি করে দিতে পারে। ফলে প্রশ্নের যথার্থতা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেই তাঁরা মনে করছেন।

বিশেষ করে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কাট-অফের কাছাকাছি থাকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্নের মূল্যায়নে পরিবর্তন হলে মেধাতালিকায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই বিতর্কিত প্রশ্নগুলির পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলেছেন আবেদনকারীরা।

শুধু ভুল উত্তর নয়, সিলেবাস নিয়েও অভিযোগ

পরীক্ষার্থীদের আপত্তি শুধু ইউপিএসসির প্রকাশিত উত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের বক্তব্য, কয়েকটি প্রশ্নের বিষয়বস্তু নিয়েও সমস্যা রয়েছে। কিছু প্রশ্ন নির্ধারিত সিলেবাসের আওতার বাইরে থেকে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রার্থীরা ইউপিএসসির নির্ধারিত সিলেবাস ও পরীক্ষার ধরনকে ভিত্তি করেই দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেন। সেই সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন চলে গেলে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুযোগে অসমতা তৈরি হতে পারে বলে তাঁদের যুক্তি।

তবে কোন প্রশ্ন সত্যিই সিলেবাসের বাইরে ছিল, কোনটির উত্তর ভুল এবং কোন ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প গ্রহণযোগ্য—এসব বিষয় শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ও ইউপিএসসির ব্যাখ্যার উপরই নির্ভর করবে।

পরীক্ষার্থীদের দাবি কী?

ক্যাটে আবেদনকারী পরীক্ষার্থীদের মূল দাবি, যে প্রশ্নগুলির উত্তর ভুল প্রমাণিত হবে বা যেগুলিতে সঠিক বিকল্প ছিল না, সেগুলির মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করা হোক। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র ফের যাচাই করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেছেন তাঁরা।

তাঁদের বক্তব্য, প্রশ্নপত্রে ত্রুটি থাকলে তার দায় পরীক্ষার্থীদের উপর চাপানো উচিত নয়। একটি প্রশ্নের কোনও গ্রহণযোগ্য উত্তর না থাকলে অথবা কমিশনের দেওয়া উত্তর ভুল হলে সেই প্রশ্নের জন্য কীভাবে নম্বর দেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

এই কারণেই ক্যাটের কাছে তাঁরা ইউপিএসসিকে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।

ইউপিএসসির বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি

ক্যাটের নোটিসের পর এখন ইউপিএসসির জবাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কমিশনকে প্রশ্নগুলির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে। কোন উত্তরকে সঠিক ধরা হয়েছে, কেন তা সঠিক এবং পরীক্ষার্থীদের আপত্তি কেন গ্রহণ করা হয়নি—এসব বিষয়ে কমিশনের বক্তব্য মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে ক্যাট এখনও আবেদনকারীদের দাবিকে সত্য বলে ঘোষণা করেনি। নোটিস জারি হওয়া মানে অভিযোগগুলি প্রাথমিকভাবে আদালতের বিবেচনায় এসেছে; এর ভিত্তিতে প্রশ্নগুলিকে ভুল ঘোষণা করা হয়নি। ইউপিএসসির জবাব এবং পরবর্তী শুনানির পরই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৮ অক্টোবর ফের শুনানি

নয়াদিল্লির ক্যাট বেঞ্চ আগামী ৮ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। তার আগে ইউপিএসসিকে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে।

পরবর্তী শুনানিতে প্রশ্নগুলির বিষয়বস্তু, নির্ধারিত সিলেবাস, প্রভিশনাল অ্যানসার এবং পরীক্ষার্থীদের উত্থাপিত আপত্তিগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। যদি ট্রাইবুনাল মনে করে কোনও প্রশ্নে সত্যিই ত্রুটি রয়েছে, তাহলে মূল্যায়ন পদ্ধতি সংশোধনের বিষয়ে নির্দেশ আসতে পারে।

অন্যদিকে ইউপিএসসি যদি প্রশ্ন ও উত্তরগুলির যথার্থতা নিয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারে, তাহলে আবেদনকারীদের দাবি খারিজও হতে পারে।

নিট ও ইউজিসি-নেটের পর ফের প্রশ্নপত্র বিতর্ক

এই ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এল, যখন দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা ও নিয়োগ পরীক্ষার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিট-ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে ইউজিসি-নেট পরীক্ষাতেও প্রশ্ন ও উত্তর সংক্রান্ত অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসে। কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা নতুন করে নেওয়ার সিদ্ধান্তও জানানো হয়।

সেই আবহেই ইউপিএসসির মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার্থীদের আদালতের দ্বারস্থ হওয়া নতুন করে পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

ইউপিএসসি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সবচেয়ে কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির অন্যতম আয়োজন করে আসছে। ফলে প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটিও পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন নজর ক্যাটের পরবর্তী শুনানিতে

আপাতত ক্যাট ইউপিএসসির কাছ থেকে জবাব চেয়েছে। আটটি প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেটিই এখন মূল বিষয়। কমিশনের বক্তব্য সামনে এলে বোঝা যাবে, প্রশ্নগুলির ক্ষেত্রে বাস্তবে কোনও ত্রুটি ছিল কি না এবং থাকলে তার প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা হবে।

অক্টোবরের শুনানির দিকে তাই নজর থাকবে পরীক্ষার্থীদের। কারণ প্রিলিমিনারির মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কয়েকটি প্রশ্নের মূল্যায়ন বদলালেও বহু প্রার্থীর অবস্থান বদলে যেতে পারে। ফলে শুধু অভিযোগের নিষ্পত্তিই নয়, প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে আরও নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10