Home/Education/নাগপুরে পরীক্ষা, কেন্দ্র আবু ধাবি! নিট অ্যাডমিট কার্ডের ‘ভুলে’ ফের প্রশ্নের মুখে এনটিএ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

নাগপুরে পরীক্ষা, কেন্দ্র আবু ধাবি! নিট অ্যাডমিট কার্ডের ‘ভুলে’ ফের প্রশ্নের মুখে এনটিএ

নিট ইউজি পুনঃপরীক্ষার ঠিক আগে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। মহারাষ্ট্রের নাগপুরের এক পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করে দেখেন, তাঁর পরীক্ষাকেন্দ্র ভারতের কোনও শহরে নয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবু ধাবিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা স্বীকার করে এনটিএ জানিয়েছে, দ্রুত সংশোধিত অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হবে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 20, 2026
5 min read
6
Share:
নাগপুরে পরীক্ষা, কেন্দ্র আবু ধাবি! নিট অ্যাডমিট কার্ডের ‘ভুলে’ ফের প্রশ্নের মুখে এনটিএ

নাগপুরের পড়ুয়ার পরীক্ষাকেন্দ্র আবু ধাবি, চরম বিভ্রান্তিতে পরিবার

দেশজুড়ে বিতর্ক, আইনি লড়াই এবং পুনঃপরীক্ষার প্রস্তুতির আবহে আবারও সমালোচনার মুখে পড়ল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। এবার কারণ, একটি অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষাকেন্দ্রের গুরুতর গণ্ডগোল। মহারাষ্ট্রের নাগপুরের এক নিট পরীক্ষার্থী দেখতে পান, তাঁর জন্য নির্ধারিত পরীক্ষাকেন্দ্র ভারতের বাইরে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী আবু ধাবিতে।

ঘটনাটি সামনে আসতেই শিক্ষামহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী আবদুল্লা মহম্মদ তালিব পুনঃপরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার পরই এই অস্বাভাবিক তথ্য নজরে আনেন। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন হয়তো কোনও ভুল পড়ছেন। কিন্তু একাধিকবার যাচাই করেও একই তথ্য দেখতে পান। এরপর পরিবারের সদস্যদের দেখানো হলে তাঁরাও বিস্মিত হয়ে পড়েন।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছাত্র কখনও বিদেশে যাননি। এমনকি তাঁর পাসপোর্টও নেই। ফলে আবু ধাবিতে গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তো দূরের কথা, আন্তর্জাতিক সফরের ন্যূনতম প্রস্তুতিও তাঁর নেই। স্বাভাবিকভাবেই অ্যাডমিট কার্ড হাতে পাওয়ার পর তিনি এবং তাঁর পরিবার প্রবল মানসিক চাপে পড়েন।

ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এনটিএ-র তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামো এবং পরীক্ষাপদ্ধতির নির্ভুলতা নিয়ে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষার ক্ষেত্রে এমন ভুল কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তির মতো উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশাসনিক ত্রুটি পরীক্ষার্থীদের উপর অযথা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এবং পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।

এদিকে বিষয়টি দ্রুত এনটিএ-র নজরে আনা হলে সংস্থার তরফে প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কথা স্বীকার করা হয়। সংস্থার এক আধিকারিক জানান, ডেটা আপডেট বা সেন্টার ম্যাপিং প্রক্রিয়ায় কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই ভুল হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর জন্য নতুন অ্যাডমিট কার্ড জারি করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এনটিএ আরও জানিয়েছে, সংশোধিত প্রবেশপত্রে নাগপুর বা তার নিকটবর্তী কোনও পরীক্ষাকেন্দ্র বরাদ্দ করা হবে। পরীক্ষার্থীর পরিবারকেও এই বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে যে, তাঁকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।

তবে এই ঘটনা সামনে আসার পর নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, কারণ গত কয়েক মাস ধরেই নিট ইউজি পরীক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক এবং পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত— সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছে পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা।

এর মধ্যেই অ্যাডমিট কার্ডে বিদেশের পরীক্ষাকেন্দ্র দেখানোর মতো ঘটনা পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি একটি পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণের ক্ষেত্রেই এমন গাফিলতি ঘটে, তাহলে অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কতটা নির্ভুলভাবে পরিচালিত হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভরশীল পরীক্ষাব্যবস্থায় তথ্য যাচাইয়ের জন্য আরও শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। অ্যাডমিট কার্ড প্রকাশের আগে বহুপদক্ষেপে ডেটা যাচাই করা হলে এই ধরনের ভুল এড়ানো সম্ভব। একইসঙ্গে পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন বলেও মত তাঁদের।

প্রসঙ্গত, আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নিট ইউজি ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষা। পুনঃপরীক্ষাকে সামনে রেখে এনটিএ সম্প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পরীক্ষার মোট সময়সীমা ১৫ মিনিট বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার সময় হবে মোট ৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট বা ১৯৫ মিনিট। দুপুর ২টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত।

পুনঃপরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু নাগপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রমাণিত হল, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর সামান্য ত্রুটিও কীভাবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এখন নজর এনটিএ কত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কী পদক্ষেপ নেয়, তার দিকে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10