নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া আন্দোলনের জেরে ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে এল। আন্দোলনকারী সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, সোমবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলিকেও একই পথে হাঁটার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে আন্দোলনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সেখানে সংগঠনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, আন্দোলনের সময় সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তাঁর দাবি, বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু ছাত্রছাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। ফলে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
এই সাংবাদিক বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতের দিকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সেই বৈঠকে আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতি, মামলা, গ্রেপ্তার এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
বৈঠক শেষে সংগঠনের আর এক মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার আন্দোলনকারীদের উদ্বেগের বিষয়গুলি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। তাঁর দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের বিষয়ে কেন্দ্র ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। পাশাপাশি বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলিকেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকের সময় বিহার ও অসম সরকারের জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তির কপিও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই দুই রাজ্য ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে। যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের মুক্তির ব্যবস্থাও করা হবে।
বিহার সরকারের সিদ্ধান্ত সামনে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসম সরকারও একই ধরনের অবস্থান নেয়। ফলে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির আশা, অন্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে। যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
সৌরভ দাসের দাবি, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন খুব দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি হতে পারে। আন্দোলনের জেরে যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বা যাঁরা এখনও আটক রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
এই ইস্যুতে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েক সপ্তাহে দেশের একাধিক রাজ্যে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কোথাও শান্তিপূর্ণ মিছিল হয়েছে, আবার কোথাও পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বহু ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগ, অবস্থান কর্মসূচির সময় কিছু দুষ্কৃতী ভিড়ের সুযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো-সহ বিভিন্ন বস্তু ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন।
ওই ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং ধাপে ধাপে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। ফলে কেন্দ্রের আশ্বাস যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া আন্দোলনকারীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে এই প্রশ্নের কোনও নির্দিষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির বিষয়ে কোনও আলাদা অবস্থান জানানো হয়নি। একইভাবে রাজ্য সরকারও এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
আন্দোলনকারী সংগঠনের বক্তব্য, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কোনও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা তৈরি হোক, তা তাঁরা চান না। তাই মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি তাঁদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। কেন্দ্র সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়েছে বলেই তাঁরা মনে করছেন।
<blockquote class="twitter-tweet"><p lang="en" dir="ltr"><a href="https://x.com/hashtag/Important?src=hash&ref_src=twsrc%5Etfw">#Important</a>: 1 AM update.<br><br>Hours after our press conference, Government’s representatives met us. The meeting lasted for 2-3 hours. They shared copies of the Bihar and Assam notifications guaranteeing FIR withdrawals, no action in future, and release of all detainees and… <a href="https://t.co/G7WcHHcfAs">pic.twitter.com/G7WcHHcfAs</a></p>— Saurav Das (@SauravDassss) <a href="https://x.com/SauravDassss/status/2081838453067751729?ref_src=twsrc%5Etfw">July 27, 2026</a></blockquote> <script async src="https://platform.x.com/widgets.js" charset="utf-8"></script>অন্যদিকে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, যেসব ঘটনায় শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অভিযোগ রয়েছে এবং গুরুতর অপরাধের উপাদান নেই, সেসব মামলার ক্ষেত্রে সরকার নমনীয় অবস্থান নিতে পারে। তবে যেসব ঘটনায় ভাঙচুর, হামলা বা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থার উপর নির্ভর করবে।
এখন নজর কেন্দ্রীয় সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে। আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী, খুব শিগগিরই এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ হতে পারে। সেই নির্দেশে কোন কোন রাজ্য অন্তর্ভুক্ত হবে, কী ধরনের মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং গ্রেপ্তারদের মুক্তির প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে— সেই সব প্রশ্নের উত্তর মিললেই সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট হবে।



