ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান, প্রয়াত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত
ভারতীয় সিনেমার পরিচিত মুখ প্রদীপ রাওয়াত আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মঙ্গলবার ৭৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। অভিনেতার প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান এবং শক্তিশালী চরিত্রাভিনয় তাঁকে দর্শকদের কাছে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে ভিওয়ান্ডির একটি বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাকালীনই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৮৫ সালে ‘মেরি জং’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিনয়জীবন শুরু করেন প্রদীপ রাওয়াত। তবে তাঁর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বেড়ে যায় বি. আর. চোপড়ার টেলিভিশন সিরিজ ‘মহাভারত’-এ অশ্বত্থামার চরিত্রে অভিনয়ের পর। সেই চরিত্র তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে।
চলচ্চিত্রে তিনি মূলত শক্তিশালী খলচরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হন। তামিল ছবি ‘গজনি’-তে তাঁর নির্মম প্রতিপক্ষের চরিত্র দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। পরে একই চরিত্রে তিনি অভিনয় করেন ২০০৮ সালের হিন্দি রিমেকেও, যেখানে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন আমির খান। এই চরিত্র তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরও আগে ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অস্কার-মনোনীত ছবি ‘লগান’-এ আমির খানের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করেছিলেন প্রদীপ রাওয়াত। পরবর্তীকালে ‘গজনি’-তে আবারও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। দুটি ছবিতেই তাঁর অভিনয় সমালোচক এবং দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
শুধু হিন্দি নয়, দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রেও সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তেলুগু, তামিল, কন্নড় এবং মালয়ালম ভাষার অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। তিন দশকেরও বেশি দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি।
তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে ‘সরফরোশ’, ‘দ্য হিরো: লাভ স্টোরি অফ আ স্পাই’, ‘স্ট্যালিন’, ‘বীরম’, ‘১: নেনোক্কাডিনে’, ‘লৌক্যম’, ‘নেনু সৈলজা’, ‘সারাইনোডু’, ‘নেনে রাজু নেনে মন্ত্রী’, ‘আয়িরাথিল ইরুভার’, ‘মার্কেট রাজা এমবিবিএস’ এবং ‘মিস ম্যাচ’-এর মতো একাধিক ছবি।
প্রদীপ রাওয়াতের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই চলচ্চিত্র জগতের বহু শিল্পী ও অনুরাগী সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেন। ‘লগান’-এর সহ-অভিনেতা যশপাল শর্মাও ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।
ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী কল্যাণী এবং একমাত্র ছেলে বিক্রমাদিত্যকে রেখে গিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত হারাল এক অভিজ্ঞ ও বহুমুখী শিল্পীকে, যাঁর অভিনীত বহু চরিত্র আগামী দিনেও দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।



