এক বছরে ৯২.৩৫ কোটি টাকা ব্যয়
আরটিআই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবনের মেরামত ও সংস্কারে ৯২.৩৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে এই খরচ ছিল ২৭.৪৭ কোটি টাকা।
অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে সরকারি বাংলোগুলির রক্ষণাবেক্ষণে বার্ষিক ব্যয় তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় পূর্ত বিভাগ বা CPWD-এর মাধ্যমে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই খাতে মোট ৫৪৭.৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
কেন এত খরচ পুরনো বাংলো মেরামতে?
নয়াদিল্লির লুটিয়েনস জোনের অধিকাংশ সরকারি বাংলোই বহু দশক পুরনো। বেশ কয়েকটি ভবনের বয়স ৮০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত।
দীর্ঘদিনের পুরনো এই বাড়িগুলিতে নিয়মিত জল চুঁইয়ে পড়া, উইপোকার উপদ্রব, বৈদ্যুতিক সংযোগের সমস্যা এবং প্লাম্বিং ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়। ফলে নিয়মিত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।
এর পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি এবং নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণেও সংস্কারের খরচ বেড়েছে বলে প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য।
এক আধিকারিকের দাবি, কয়েকটি বাংলো কাঠামোগত দিক থেকেও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেগুলির আধুনিকীকরণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রয়োজন হয়েছে।
২০১৪ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে খরচ
পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ক্রমশ বেড়েছে।
২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে এই খাতে প্রায় ২৬.৭৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বার্ষিক গড় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
এরপর ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়ে।
২০২৪-২৫: ৭১.৯৮ কোটি টাকা
২০২৫-২৬: ৯২.৩৫ কোটি টাকা
২০২৫-২৬ সালের ব্যয়ই ২০১৪ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ বলে জানা গিয়েছে।
শতাব্দীপ্রাচীন লুটিয়েনস জোনের ইতিহাস
নতুন দিল্লিকে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার সময় ১৯১২ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে এই বিস্তীর্ণ বাংলো এলাকা তৈরি করা হয়েছিল।
স্বাধীনতার পর থেকেই এই বাংলোগুলির একটি বড় অংশ উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক ও মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ফলে ঐতিহাসিক স্থাপত্য বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও যুক্ত করতে হয়। পুরনো কাঠামোর সঙ্গে নতুন বৈদ্যুতিক, জল ও স্যানিটারি ব্যবস্থা সমন্বয় করতেও খরচ বাড়ে।
একজন মন্ত্রীর পিছনে গড়ে ১.২০ কোটি টাকা?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সাধারণত ৭০ থেকে ৭২ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী থাকেন। সেই হিসাব ধরলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সরকারি বাসভবনগুলির রক্ষণাবেক্ষণে গড়ে একজন মন্ত্রীর জন্য প্রায় ১.২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
তবে এই হিসাবটি গড় হিসেবে করা। বাস্তবে প্রত্যেক মন্ত্রীর বাসভবনে সমান অর্থ খরচ হয়নি।
আরটিআই-তে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর সরকারি আবাসনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে ঐতিহাসিক ভবনগুলির রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যদিকে এত বিপুল সরকারি অর্থ খরচের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।



