বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনেস্কোর কমিটির বৈঠকে শনিবার ভারতের সারনাথকে বিশ্ব ঐতিহ্যস্থলের মর্যাদা দেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় আয়োজিত ওই বৈঠকে এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার একাধিক ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থানও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বারাণসীর অদূরে অবস্থিত সারনাথ বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী, বোধিলাভের পর গৌতম বুদ্ধ প্রথমবার এখানেই তাঁর পাঁচ শিষ্যের উদ্দেশে ধর্মদেশনা প্রদান করেছিলেন। এই ঘটনাই বৌদ্ধ ধর্মে ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’ নামে পরিচিত এবং বৌদ্ধ দর্শনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
সারনাথের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, প্রাচীন স্তূপ, মঠ এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের গুরুত্ব বিবেচনা করেই ইউনেস্কো এই স্বীকৃতি দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
এই স্বীকৃতির ফলে ভারতের বিশ্ব ঐতিহ্যস্থলের সংখ্যা বেড়ে ৪৫-এ পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সারনাথের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে এবং পর্যটন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সারনাথের এই সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য গর্বের মুহূর্ত। তাঁর বক্তব্য, ভগবান বুদ্ধের প্রজ্ঞা, করুণা ও সম্প্রীতির বার্তা আজও সমগ্র বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ভারতের সমৃদ্ধ সভ্যতা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে আরও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে সারনাথ পরিদর্শনে উৎসাহিত করবে।



