Home/India/হোয়াটসঅ্যাপে ফোন নম্বর ছাড়াই চ্যাটের পরিকল্পনা, সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কায় মেটাকে নোটিস কেন্দ্রের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

হোয়াটসঅ্যাপে ফোন নম্বর ছাড়াই চ্যাটের পরিকল্পনা, সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কায় মেটাকে নোটিস কেন্দ্রের

হোয়াটসঅ্যাপে শীঘ্রই চালু হতে চলেছে ইউজারনেমভিত্তিক নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা, যেখানে ফোন নম্বর প্রকাশ না করেও অন্য ব্যবহারকারীর সঙ্গে চ্যাট করা যাবে। তবে এই পরিবর্তনকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রশাসনের আশঙ্কা, পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাইবার প্রতারণা ও অনলাইন জালিয়াতির ঘটনা বাড়তে পারে। সেই কারণেই নতুন ফিচার চালুর আগে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে মেটাকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 2, 2026
5 min read
21
Share:
হোয়াটসঅ্যাপে ফোন নম্বর ছাড়াই চ্যাটের পরিকল্পনা, সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কায় মেটাকে নোটিস কেন্দ্রের

নতুন ফিচার ঘিরে কেন্দ্রের উদ্বেগ

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা আরও শক্তিশালী করতে এবার ইউজারনেম-ভিত্তিক পরিচয় ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে মেটা।

এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট ফোন নম্বর শেয়ার না করেও অন্য ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। তবে এই পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার আগেই সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি খতিয়ে দেখতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

মেটার কাছে ব্যাখ্যা চাইল সরকার

সরকারি সূত্রের খবর, নতুন ফিচার চালুর আগে এর প্রযুক্তিগত কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপব্যবহার রোধে কী ধরনের সুরক্ষা রাখা হয়েছে, তা জানতে মেটার কাছে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই সংস্থাকে আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

সরকারের মূল আশঙ্কা সাইবার অপরাধকে ঘিরে।

বর্তমানে প্রতারকদের অনেক ক্ষেত্রেই ফোন নম্বরের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কিন্তু যদি পরিচয়ের জায়গায় শুধুমাত্র ইউজারনেম ব্যবহার করা হয়, তাহলে ভুয়ো পরিচয়ে প্রতারণা চালানো আরও সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

বিশেষ করে অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, ভুয়ো চাকরির প্রলোভন, বিনিয়োগের নামে জালিয়াতি কিংবা পরিচিত ব্যক্তির ছদ্মবেশে প্রতারণার মতো অপরাধ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গোপনীয়তা বনাম নিরাপত্তা

মেটার দাবি, এই ফিচারের উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখা।

অনেকেই প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করতে চান, কিন্তু ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশ করতে স্বচ্ছন্দ নন। তাঁদের জন্যই এই ব্যবস্থা আনা হচ্ছে।

তবে সরকারের মতে, গোপনীয়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ দমনের স্বার্থেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

কীভাবে কাজ করবে ইউজারনেম ব্যবস্থা?

প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ব্যবহারকারীরা নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন।

এরপর সেই ইউজারনেমের মাধ্যমেই অন্যরা তাঁদের খুঁজে পাবে এবং যোগাযোগ করতে পারবে। ফলে ফোন নম্বর প্রকাশের প্রয়োজন হবে না।

এই ব্যবস্থা অনেকটা অন্যান্য জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মতো কাজ করবে বলে প্রযুক্তি মহলের ধারণা।

এখনও বাধ্যতামূলক নয়

সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে না।

যাঁরা চাইবেন, তাঁরাই ইউজারনেম ব্যবহার করবেন। অন্য ব্যবহারকারীরা আগের মতো ফোন নম্বর-ভিত্তিক ব্যবস্থাতেই থাকতে পারবেন।

অর্থাৎ এটি একটি ঐচ্ছিক ফিচার হিসেবেই চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ফিচারটি একযোগে সবার জন্য চালু হবে না।

আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশে এই সুবিধা চালু করা হতে পারে। ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া এবং প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা পর্যালোচনা করেই বিস্তৃতভাবে তা কার্যকর করা হবে।

গত এক বছরে একাধিক গোপনীয়তা-ভিত্তিক আপডেট

গত এক বছরে হোয়াটসঅ্যাপ একাধিক নতুন নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি ফিচার যুক্ত করেছে।

চ্যাট লক, গোপন কোড, উন্নত প্রাইভেসি কন্ট্রোল, অনলাইন স্ট্যাটাস নিয়ন্ত্রণ এবং একাধিক ডিভাইসে নিরাপদ ব্যবহার— এসব সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইউজারনেম ব্যবস্থাকেও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছে মেটা।

সরকারের নজরে সাইবার নিরাপত্তা

তবে প্রশাসনের বক্তব্য, নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে সম্ভাব্য অপব্যবহারের দিকটিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

যদি পরিচয় গোপন রেখে প্রতারণা চালানো সহজ হয়ে যায়, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা থাকবে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর চেয়েছে সরকার।

মেটার জবাবের অপেক্ষা

এখন নজর মেটার প্রতিক্রিয়ার দিকে।

সরকারের পাঠানো নোটিসের জবাবে সংস্থা কী ব্যাখ্যা দেয় এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই নতুন ফিচার চালুর ভবিষ্যৎ।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি সাইবার অপরাধ রোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10