Home/India/দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণে AQIS-এর যোগ! বাংলাদেশেও ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে চাঞ্চল্য
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণে AQIS-এর যোগ! বাংলাদেশেও ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে চাঞ্চল্য

দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের তদন্তে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখার নাম আগেই উঠেছিল। এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের একটি রিপোর্টেও সেই সংগঠনের যোগের কথা উল্লেখ করা হল। শুধু দিল্লির হামলা নয়, বাংলাদেশেও ছোট ছোট সেল তৈরি করে নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছিল বলে রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা নিয়েও সতর্ক করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 13, 2026
5 min read
7
Share:
দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণে AQIS-এর যোগ! বাংলাদেশেও ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে চাঞ্চল্য

লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ থেকে বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে কী বলা হল?

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণের তদন্তে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট ঘিরে। গত বছরের নভেম্বরের ওই বিস্ফোরণের নেপথ্যে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা বা AQIS (Al-Qaeda in the Indian Subcontinent)-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের একটি পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট। ভারতের তদন্তকারী সংস্থা আগেই এই হামলার সঙ্গে আল কায়েদার সহযোগী সংগঠনের যোগের কথা জানিয়েছিল। এ বার আন্তর্জাতিক স্তরের রিপোর্টেও সেই বিষয়টি উঠে এল।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ নিয়ে বিস্তারিত উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, AQIS বড় আকারের সংগঠন হিসেবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার পরিবর্তে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন সেল তৈরি করে প্রভাব বিস্তারের কৌশল নিচ্ছে। এই সেলগুলির মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে সংগঠন তৈরি, অর্থ জোগাড় এবং প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

কী হয়েছিল দিল্লিতে?

গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছাকাছি একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থল ছিল মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের আশপাশে। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে মাটির নীচে থাকা মেট্রো পরিকাঠামোতেও তার প্রভাব পড়ে। ঘটনায় প্রাণ হারান ১৩ জন। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।

ঘটনার পর তদন্তে নামে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে ফরিদাবাদ-কেন্দ্রিক একটি ‘চিকিৎসক মডিউল’-এর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, শিক্ষিত ও পেশাদার পরিচয়ের আড়ালে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

চলতি বছরের মে মাসে এই বিস্ফোরণ মামলায় চার্জশিট পেশ করে এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থার নথিতে আনসার-উল-হিন্দ (AGUH) নামে একটি সংগঠনের উল্লেখ করা হয়। এনআইএ-র দাবি ছিল, ওই সংগঠন AQIS-এর সঙ্গে যুক্ত একটি সহযোগী কাঠামো হিসেবে কাজ করেছিল এবং দিল্লির হামলার সঙ্গে তার যোগ রয়েছে।

এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টেও লালকেল্লার কাছের বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ উঠে আসায় তদন্তের আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ছোট ছোট সেল তৈরির কৌশল

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে AQIS-এর বর্তমান কার্যকলাপ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় সংগঠনটি বড় কোনও সুসংগঠিত ইউনিটের বদলে ছোট এবং বিচ্ছিন্ন সেল গড়ে তোলার দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। এর ফলে কোনও একটি নেটওয়ার্ক ধরা পড়লেও গোটা কাঠামোকে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে যায়।

এই ধরনের সেলগুলিকে স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে কাজ করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে বলে রিপোর্টে ইঙ্গিত রয়েছে। শুধু সদস্য সংগ্রহ নয়, অর্থের জোগান এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টাও চলছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশেও AQIS নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। সেখানে ছোট ছোট শাখা বা সেল তৈরির মাধ্যমে সংগঠনের প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশে একই ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়েও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

দিল্লি হামলার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগ?

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বাংলাদেশে AQIS-এর নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টার কথা বলা হলেও দিল্লির বিস্ফোরণের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও প্রত্যক্ষ যোগের দাবি করা হয়নি। তবে একই সংগঠন বিভিন্ন দেশে বিচ্ছিন্ন সেল তৈরি করার কৌশল নেওয়ায় গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের অবস্থান, মানুষের যাতায়াত এবং ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে সহজে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সুবিধা দিতে পারে। ফলে ভারত, বাংলাদেশ-সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাসায়নিক অস্ত্র নিয়েও সতর্কবার্তা

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে শুধু AQIS-এর নেটওয়ার্ক নয়, জঙ্গি সংগঠনগুলির রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আল কায়েদা এবং আইএসআইএল বা দায়েশ দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের ভয়ঙ্কর অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

যদিও প্রযুক্তিগত ও পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও তারা বড় মাত্রায় এই ধরনের অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়নি বলেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। কিন্তু প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তি হাতে চলে এলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারে—এই আশঙ্কাই তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গেই গুজরাতের একটি মামলার কথাও এসেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে। গত বছরের নভেম্বরে আহমেদাবাদ থেকে তিন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ছিলেন বলে জানা যায়। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, তাঁরা রাইসিন নামের অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরির চেষ্টা করছিলেন। রাইসিন অত্যন্ত প্রাণঘাতী এবং জৈব-সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।

তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, ওই অভিযুক্তদের সঙ্গে আইএসআইএল বা দায়েশের যোগাযোগ ছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টেও এই ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠনগুলি নিজেদের সদস্যদের মাধ্যমে বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

তদন্তে আরও তথ্য খুঁজছে ভারত

লালকেল্লার বিস্ফোরণ মামলায় এনআইএ ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ করেছে। তবে রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে ওই হামলার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে। তদন্তকারীরা হামলায় ব্যবহৃত গাড়ি, বিস্ফোরক, অভিযুক্তদের যোগাযোগ এবং অর্থের উৎসের মতো বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেছেন।

সব মিলিয়ে দিল্লির বিস্ফোরণকে শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন হামলা হিসেবে দেখার পরিবর্তে দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিস্তৃতির অংশ হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। বিশেষ করে AQIS-এর ছোট ছোট সেল তৈরির কৌশল এবং বাংলাদেশে তাদের সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা ভারতের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলির কাছেও নতুন সতর্কবার্তা।

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে যে ছবি উঠে এসেছে, তাতে স্পষ্ট—দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ এখনও বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। একদিকে গোপন সেল ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক তৈরি, অন্যদিকে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা—দুই দিকেই নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে। দিল্লির বিস্ফোরণের তদন্তে AQIS-এর ভূমিকা নিয়ে ভারতের দাবির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রিপোর্টের সাযুজ্য সেই উদ্বেগকেই আরও সামনে আনল।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10