দিল্লিতে বিরোধী কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের রেশ এবার পৌঁছল কলকাতার রাজপথে। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ও দলের নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক হওয়ার পর প্রতিবাদে সরব হল পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস। মঙ্গলবার রাতেই কলকাতার রাজভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত ৮টা নাগাদ রাজভবনের সামনে জড়ো হন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। সেখানে মোমবাতি মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। শুভঙ্কর সরকার ছাড়াও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী দীপা দাশমুন্সি-সহ একাধিক রাজ্যস্তরের নেতা। পরে রাত প্রায় ১০টা নাগাদ অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেওয়া হয়।
কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়, দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালীন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের আটক করে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই দেশজুড়ে কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলকাতাতেও এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ছাত্র-যুবদের আন্দোলনে পুলিশের বাধার প্রতিবাদে কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেয়। সেই কর্মসূচিতেই অংশ নেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, প্রথমে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে জড়ো হন কর্মীরা। সেখান থেকে মিছিল করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ৭, লোক কল্যাণ মার্গের দিকে এগিয়ে যান তাঁরা। পথে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও বিক্ষোভে যোগ দেন।
বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের দাবি ছিল, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম, ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাব দেওয়া উচিত।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। মোতায়েন করা হয় দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের কর্মীদের। পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা বাড়ে।
অভিযোগ, এরপরই রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অন্যান্য কংগ্রেস নেতাদের আটক করা হয়। তাঁদের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নেতাদের সঙ্গে ‘অমানবিক’ আচরণ করা হয়েছে। যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়, অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত এলাকায় জমায়েত এবং নিরাপত্তা বিধি ভাঙার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই কলকাতায় রাজভবনের সামনে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয় প্রদেশ কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে কর্মীদের উদ্দেশে জানানো হয়, দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের আটকের প্রতিবাদে রাজ্যেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করা হবে।
রাজভবনের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভঙ্কর সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। একই ইস্যুতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং রাজনৈতিক দল আন্দোলনে নেমেছে।
এই পরিস্থিতিতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে সংঘর্ষের আবহ তৈরি হয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি, লাঠিচার্জ এবং আটক করার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
কংগ্রেসের দাবি, ছাত্রদের সমস্যার সমাধান না করে আন্দোলনকারীদের দমন করা হচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং অনিয়মে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দিল্লির ঘটনার প্রতিবাদে বাংলায় কংগ্রেসের এই কর্মসূচি আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



