Home/India/ডিলিমিটেশন বিলে অকালি দলের সমর্থন, ‘জাদুসংখ্যা’র আরও কাছে মোদি সরকার? শুরু নতুন সমীকরণের চর্চা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

ডিলিমিটেশন বিলে অকালি দলের সমর্থন, ‘জাদুসংখ্যা’র আরও কাছে মোদি সরকার? শুরু নতুন সমীকরণের চর্চা

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্ক ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বিজেপির পাশে এবার প্রকাশ্যে দাঁড়ানোর কথা জানাল শিরোমণি অকালি দল। লোকসভায় তাদের সাংসদ সংখ্যা খুব বেশি না হলেও এই সমর্থনকে নিছক সংখ্যার হিসাব হিসেবে দেখছে না গেরুয়া শিবির। কারণ, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের পাশাপাশি পুরনো শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 9, 2026
5 min read
20
Share:
ডিলিমিটেশন বিলে অকালি দলের সমর্থন, ‘জাদুসংখ্যা’র আরও কাছে মোদি সরকার? শুরু নতুন সমীকরণের চর্চা

ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে সংসদে সংখ্যার লড়াই যত এগোচ্ছে, ততই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। কেন্দ্রের প্রস্তাবিত আসন পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগে এবার সমর্থনের কথা জানাল শিরোমণি অকালি দল। শনিবার দলের নেতা সুখবীর সিং বাদলের ঘোষণার পরই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে একদিন আগেই তাঁর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, অকালি দলের অবস্থান বদলের পর তা আরও জোরালো হয়েছে।

অকালি দলের এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্ব সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি বলেই মনে করছে বিজেপি। কারণ, পাঞ্জাবের এই দলটি দীর্ঘদিন এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ শরিক ছিল। ১৯৯৬ সাল থেকে বিজেপির সঙ্গে জোটে থাকা অকালি দল ২০২০ সালে কৃষক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপর দুই দল আলাদা পথে হাঁটে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ফের সেই পুরনো সম্পর্ক জোড়া লাগার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সুখবীর সিং বাদলের বৈঠকের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, তবে কি বিজেপি ও অকালি দলের মধ্যে ফের রাজনৈতিক বোঝাপড়ার দরজা খুলছে? তার পরের দিনই ডিলিমিটেশন বিলে সমর্থনের ঘোষণা সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। যদিও অকালি দলের পক্ষ থেকে সরাসরি বিজেপির সঙ্গে জোটের কোনও ঘোষণা করা হয়নি, তবু রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত দুই দলের দূরত্ব কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

সুখবীর সিং বাদল জানিয়েছেন, অকালি দল দ্রুত মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার পক্ষে। একই সঙ্গে কেন্দ্র যে আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের লোকসভা আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, তার বিরোধিতা করছে না তাঁদের দল। অর্থাৎ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার সঙ্গে ডিলিমিটেশনকে যুক্ত করে দেখছে অকালি দল।

এখানেই রয়েছে কেন্দ্রের কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে আসন পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন হতে পারে। ফলে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রের তরফে যে রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন, সেখানে একাধিক দলের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অকালি দলের সমর্থন সেই হিসাবেই বিজেপির কাছে তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে শুধু অকালি দলের একটি ভোটে সংসদীয় অঙ্কে বড় কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। লোকসভায় অকালি দলের বর্তমানে মাত্র একজন সাংসদ রয়েছে। ফলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় সমর্থনের তুলনায় এই একটি ভোট খুবই সামান্য। কিন্তু বিজেপির কৌশল সম্ভবত বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করা।

বর্তমানে বিজেপির হাতে লোকসভায় রয়েছে ২৪০টি আসন। এনডিএ-র মোট সাংসদ সংখ্যা ২৯৩। প্রস্তাবিত বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হলে ৩৬০ জন সাংসদের সমর্থন দরকার হবে। অর্থাৎ সরকারপক্ষের সামনে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অতিরিক্ত ভোট জোগাড়ের প্রয়োজন রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেই একের পর এক সম্ভাব্য সহযোগীর দিকে নজর দিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কংগ্রেস এবং ওড়িশার বিজু জনতা দল বা বিজেডির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের খবর। সংসদে কোনও বিলের ক্ষেত্রে সরাসরি জোটের বাইরের দলের সমর্থন পাওয়া গেলে কেন্দ্রের পক্ষে সংখ্যার অঙ্ক অনেকটাই সহজ হতে পারে।

শুধু তাই নয়, ডিএমকে ইতিমধ্যেই ডিলিমিটেশন বিলকে সমর্থন করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ ভারতের একাধিক দলের অন্যতম প্রধান আপত্তি হল, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে যেসব রাজ্য তুলনামূলকভাবে সফল হয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে তারা যেন রাজনৈতিকভাবে বঞ্চিত না হয়। জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই আপত্তি উঠেছে।

তবে ডিএমকের আপত্তির পরও তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন দলের অবস্থান বদলানোর সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ হলেও গেরুয়া শিবির এখনও দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না। কারণ, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্কে প্রতিটি দলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অকালি দলের সমর্থনের আর একটি তাৎপর্য রয়েছে। ২০২০ সালের কৃষক আন্দোলনের সময় বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর পাঞ্জাবের রাজনীতিতে দুই দলের অবস্থান আলাদা হয়ে যায়। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তারা পৃথকভাবে লড়াই করেছিল। সেই নির্বাচনে বিজেপি এবং অকালি—দুই দলই বড় সাফল্য পায়নি। সরকার গঠন করে আম আদমি পার্টি।

তারপর থেকেই পাঞ্জাবে বিজেপি ও অকালি দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা চলেছে। এবার ডিলিমিটেশন বিলে অকালি দলের সমর্থন সেই আলোচনাকে ফের সামনে নিয়ে এল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই দলের মধ্যে নতুন করে সমঝোতা তৈরি হতে পারে কি না, সেটাই এখন নজরে রাজনৈতিক মহলের।

বিজেপির কাছে বিষয়টি তাই শুধু একটি সাংসদের সমর্থন পাওয়ার ঘটনা নয়। বরং এনডিএ-র পুরনো শরিকদের ফের কাছে টানার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবেও এটিকে দেখা হচ্ছে। অকালি দল যদি ভবিষ্যতে ফের বিজেপির সঙ্গে নির্বাচনী বোঝাপড়ায় যায়, তা হলে পাঞ্জাবের রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

এদিকে ডিলিমিটেশন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের দলগুলি মনে করছে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বাড়ানোর প্রক্রিয়া হলে যেসব রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তাদের লোকসভায় প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে। ফলে বিলটি সংসদে উঠলে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপির যুক্তি, জনসংখ্যার পরিবর্তনের সঙ্গে সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের সামঞ্জস্য তৈরি করা প্রয়োজন। মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রেও নতুন আসন বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই বিষয়কে সামনে রেখেই কেন্দ্র ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাইছে।

সব মিলিয়ে সংসদে ডিলিমিটেশন বিল ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন একটাই—বিজেপি কি প্রয়োজনীয় ৩৬০ জনের সমর্থন জোগাড় করতে পারবে? অকালি দলের একটি ভোট সেই লক্ষ্যে বড় সাফল্য না হলেও, রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির ক্ষেত্রে তা অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াইএসআর কংগ্রেস, বিজেডি, ডিএমকে-সহ আরও কয়েকটি দলের অবস্থান শেষ পর্যন্ত কী হয়, তার উপরই নির্ভর করবে বিলটির ভবিষ্যৎ।

অর্থাৎ সংখ্যার লড়াইয়ের পাশাপাশি শুরু হয়ে গিয়েছে জোট রাজনীতির নতুন অধ্যায়ও। একসময় যে দলগুলি বিজেপির ঘনিষ্ঠ শরিক ছিল, তাদের ফের পাশে পাওয়া গেলে মোদি-শাহ শিবিরের জন্য তা নিঃসন্দেহে বড় রাজনৈতিক সুবিধা। আর সেই কারণেই অকালি দলের সমর্থনকে বিজেপি হয়তো ‘একটি ভোট’ হিসেবে নয়, বরং আরও বড় সমীকরণের প্রথম ধাপ হিসেবেই দেখছে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10