ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছিল আদানি গোষ্ঠীর নাম। দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই শিল্পগোষ্ঠী এবার নিজস্ব বিমানসংস্থা চালু করতে পারে— এমন জল্পনা ছড়িয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বিমান পরিষেবা ব্যবসায় প্রবেশের জন্য বর্তমান নিয়মে পরিবর্তন চেয়েছে আদানি গোষ্ঠী।
তবে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে আদানি গোষ্ঠী। সংস্থার তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বিমান পরিবহণ ব্যবসায় প্রবেশের কোনও পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। একই সঙ্গে সরকারের কাছে কোনও নীতিগত পরিবর্তনের আবেদন করা হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা।
বিবৃতিতে আদানি গোষ্ঠী জানিয়েছে, বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাদের বিমানসংস্থা চালু করার বিষয়ে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। সংস্থার বক্তব্য, বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে নতুন কোনও উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে কোনও প্রস্তাব বা পরিকল্পনা বর্তমানে তাদের কাছে নেই।
এই জল্পনার মূল কারণ ছিল দেশের বিমানবন্দর ব্যবসায় আদানি গোষ্ঠীর শক্তিশালী উপস্থিতি। বর্তমানে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে তাদের হাতে। এর মধ্যে মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালনাকারী সংস্থায় আদানি গোষ্ঠীর বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে।
বিমানবন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। ২০০৬ সালে দিল্লি ও মুম্বই বিমানবন্দরের বেসরকারিকরণের সময় শর্ত রাখা হয়েছিল, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনও নির্দিষ্ট বিমানসংস্থায় ১০ শতাংশের বেশি অংশীদারিত্ব রাখতে পারবে না।
এই নিয়মের কারণ ছিল, বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা যাতে কোনও নির্দিষ্ট বিমান সংস্থাকে অতিরিক্ত সুবিধা দিতে না পারে এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় থাকে।
সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, আদানি গোষ্ঠী যদি বিমান পরিষেবা ব্যবসায় প্রবেশ করতে চায়, তবে এই নিয়মে পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। সেই কারণেই তারা সরকারের কাছে নিয়ম শিথিলের আবেদন করেছে বলে খবর ছড়ায়।
কিন্তু আদানি গোষ্ঠী সেই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। সংস্থার বক্তব্য, বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে ব্যবসা সম্প্রসারণের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বর্তমানে ভারতের বিমান পরিষেবা বাজারে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া। দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবার বড় অংশ এই দুই সংস্থার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে নতুন কোনও বড় শিল্পগোষ্ঠী এই ক্ষেত্রে প্রবেশ করলে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারত বলে মনে করছিলেন অনেকেই।
এর আগে আদানি পরিবারের তরফেও বিমানসংস্থা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছিল। গৌতম আদানির ছেলে জিত আদানি জানিয়েছিলেন, বিমান পরিষেবা ব্যবসায় প্রবেশের কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁদের।
আদানিরা বর্তমানে বিমানবন্দর পরিকাঠামো ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বেসরকারি সংস্থা। বিমানবন্দর পরিচালনা, উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো নির্মাণে তাদের বিনিয়োগ রয়েছে। তবে বিমান পরিষেবা বা যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা এখনও প্রবেশ করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দর এবং বিমান পরিষেবা— দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবসার ক্ষেত্র। বিমানবন্দর পরিচালনায় পরিকাঠামো, জমি, প্রযুক্তি এবং যাত্রী পরিষেবার ওপর গুরুত্ব থাকে। অন্যদিকে বিমানসংস্থা পরিচালনায় প্রয়োজন বিশাল বহর, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, কর্মী এবং নিয়মিত পরিচালন খরচ।
তাই বিমানবন্দর ব্যবসায় সাফল্য থাকলেও বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রে প্রবেশ করা একটি বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত হতে পারে।
আদানিদের তরফে স্পষ্ট বার্তার পর আপাতত বিমানসংস্থা চালুর জল্পনায় ইতি পড়েছে। তবে দেশের দ্রুত বাড়তে থাকা বিমান বাজারে ভবিষ্যতে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলির প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছেই।



