Home/India/ভোটকুশলী থেকে জননেতা, পিকে-র জয়ে নীরব তৃণমূল! রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

ভোটকুশলী থেকে জননেতা, পিকে-র জয়ে নীরব তৃণমূল! রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা

বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের জয়ের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া পিকে-র এই সাফল্যে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল নেতৃত্ব। এই নীরবতা ঘিরেই জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অতীতের সম্পর্ক, বর্তমান সমীকরণ এবং জাতীয় রাজনীতির ভারসাম্য—সব মিলিয়েই এই অবস্থান।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 4, 2026
5 min read
19
Share:
ভোটকুশলী থেকে জননেতা, পিকে-র জয়ে নীরব তৃণমূল! রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা

বহু বছর ধরে দেশের অন্যতম সফল নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত প্রশান্ত কিশোর। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি করে সাফল্য এনে দেওয়ার পর এবার তিনি নিজেই নির্বাচনের ময়দানে নেমে নিজের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দিলেন। বিহারের বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আর কেবল পরামর্শদাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

এই জয়কে অনেকেই বিহারের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। কারণ, এই আসনটি আগে বিজেপির দখলে ছিল। ফলে প্রশান্ত কিশোরের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বিরোধী রাজনীতির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই জয়ের পর সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান। কারণ, প্রশান্ত কিশোর একসময় তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। ২০১৯ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে তাঁর সংস্থা আইপ্যাক তৃণমূলের হয়ে কাজ করে। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপুল জয়ের পিছনে তাঁর কৌশলের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্কের প্রেক্ষিতে প্রশান্ত কিশোরের নির্বাচনী জয়ের পর অন্তত একটি শুভেচ্ছাবার্তা বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে কোনও মন্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা দলের শীর্ষ নেতাদের কেউই এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।

এই নীরবতা নিয়েই শুরু হয়েছে নানা ব্যাখ্যা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক অতীতে যতটা ঘনিষ্ঠ ছিল, বর্তমানে সেই সমীকরণ আর নেই। আইপ্যাকের সঙ্গে দলের সম্পর্ক থাকলেও প্রশান্ত কিশোর অনেক আগেই সংস্থার দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নিয়ে দল প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে চাইছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

আবার অন্য একটি ব্যাখ্যাও সামনে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোরের দল বিহারে স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে তাঁকে প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানালে বিরোধী শিবিরের অন্য দলগুলির মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রশান্ত কিশোর এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে অতীতেও বহু আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আন্দোলনের রাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন নেত্রী হিসেবে মমতার কাছ থেকেই অনেক কিছু শেখার রয়েছে। তিনি নিজেকে বরাবরই একজন পরামর্শদাতা হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং দাবি করেছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সবসময়ই তৃণমূল নেতৃত্বের হাতেই ছিল।

অন্যদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিল। তিনি একসময় প্রশান্ত কিশোরকে "ওভাররেটেড" বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যের পর থেকেই দুই পক্ষের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান নীরবতার সঙ্গে সেই পুরনো মতপার্থক্যের কোনও যোগ রয়েছে কি না। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে সবকিছুই আপাতত রাজনৈতিক মহলের অনুমান ও বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এদিকে আরেকটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণও সামনে এসেছে। কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, বাঁকিপুরে প্রশান্ত কিশোরের জয় বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর দল ভবিষ্যতে কার সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় যাবে, অথবা স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই অন্যান্য রাজনৈতিক দলও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

প্রশান্ত কিশোরের এই জয় আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতদিন তিনি মূলত ‘কিংমেকার’ বা ক্ষমতায় আনার কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এবার ভোটে জিতে তিনি নিজেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নীরবতার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দলীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য না করা পর্যন্ত এই বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ফলে আপাতত প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তৃণমূলের এই নীরব অবস্থানও।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10