Home/India/বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের ৫৫০ কোটির রুপো কাণ্ডে তদন্তের নির্দেশ, ২৯ জুলাই রিপোর্ট তলব আদালতের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের ৫৫০ কোটির রুপো কাণ্ডে তদন্তের নির্দেশ, ২৯ জুলাই রিপোর্ট তলব আদালতের

জম্মু ও কাশ্মীরের বিখ্যাত বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে দান করা বিপুল পরিমাণ রুপো নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা মূল্যের রুপোর সামগ্রীর মধ্যে নাকি অধিকাংশই আসল নয়—এমন অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তদন্তের দাবি। বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর এবার ক্রাইম ব্রাঞ্চকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত। আগামী ২৯ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানিতে তদন্তকারী আধিকারিককে নথিপত্র নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 15, 2026
5 min read
26
Share:
বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের ৫৫০ কোটির রুপো কাণ্ডে তদন্তের নির্দেশ, ২৯ জুলাই রিপোর্ট তলব আদালতের

৫৫০ কোটির রুপো কি নকল? বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের দান সামগ্রী নিয়ে তৎপর আদালত

জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে দান করা রুপোর সামগ্রী নিয়ে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা মূল্যের রুপোর সামগ্রী আসল না নকল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের একটি আদালত।

রামমন্দিরের দান সামগ্রী নিয়ে বিতর্কের আবহের মধ্যেই এবার বৈষ্ণোদেবী মন্দিরের রুপো সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে এসেছে। আদালত তদন্তকারী সংস্থা ক্রাইম ব্রাঞ্চকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের মে মাসে। বৈষ্ণোদেবী মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০ টন রুপোর দান সামগ্রী গলানো এবং সংরক্ষণের জন্য সরকারি টাঁকশালে পাঠিয়েছিল। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন পরীক্ষায় উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, পাঠানো সামগ্রীর মাত্র ৫ শতাংশ ছিল বিশুদ্ধ রুপো। বাকি অংশে পাওয়া যায় ক্যাডমিয়াম এবং লোহার মতো অন্যান্য ধাতু।

মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, ভক্তরা হয়তো না জেনেই নকল বা নিম্নমানের ধাতু দান করেছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী দীপক শর্মা। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র ভক্তদের দোষ দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। দানের আসল রুপো বদলে নকল ধাতু মেশানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি জম্মু ও কাশ্মীর ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইনস্পেক্টর জেনারেলের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, আত্মসাৎ এবং সরকারি নথিতে কারচুপির মতো গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের দেওয়া মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিষয়টি স্বচ্ছ থাকা প্রয়োজন। তিনি তদন্তের স্বার্থে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, ইলেকট্রনিক তথ্য এবং রুপোর পরীক্ষার রিপোর্ট সংরক্ষণের আবেদন জানান।

তবে অভিযোগ জমা পড়ার পরও ক্রাইম ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে দ্রুত এফআইআর দায়ের না হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারী। জম্মুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি আবেদন করেন, যাতে তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতে ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাদের অবস্থান জানিয়ে বলেছিল, অভিযোগটি অনুমোদনের জন্য শ্রীনগরের ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট হেডকোয়ার্টার্সে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগকারীর দাবি, এত বড় আর্থিক মূল্যের দান সামগ্রী নিয়ে শুধু প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত আইনি তদন্ত শুরু করা উচিত।

শুনানির পর আদালত বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ক্রাইম ব্রাঞ্চকে বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি, সংগৃহীত প্রমাণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আদালতকে জানাতে হবে তদন্তকারী সংস্থাকে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিন তদন্তকারী আধিকারিককে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নথি ও রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈষ্ণোদেবী মন্দির দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় স্থান। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত সেখানে গিয়ে পুজো দেন এবং দান করেন। ফলে দানের সামগ্রী নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রুপোর সামগ্রী কীভাবে নকল হল বা এর পিছনে কোনও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এখন নজর থাকবে ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্ত রিপোর্ট এবং আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10