পুদুচেরি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহলে সরব হলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁর দাবি, বুধবার তাঁর পরিবারের বাড়িতে পুলিশ পৌঁছে সদস্যদের দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পুলিশের এই পদক্ষেপকে নিছক তদন্তের অংশ হিসেবে দেখতে নারাজ সৌরভ। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চুপ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিবারের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে গোটা ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনেন সিজেপির এই নেতা। তিনি জানান, পুদুচেরি পুলিশের একটি দল তাঁর পরিবারের বাড়িতে যায়। সেখানে পরিবারের সদস্যদের নানা বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে কী কারণে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল, কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই এই জিজ্ঞাসাবাদ হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি বলেই দাবি সৌরভের।
ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যদি এটি কোনও আইনি তদন্তের অংশ হয়ে থাকে, তাহলে তার নিয়মকানুন এবং উদ্দেশ্য পরিষ্কার করা প্রয়োজন। পুলিশ কেন তাঁর বাড়িতে গেল, কার নির্দেশে গেল এবং পরিবারের সদস্যদের কী কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল—এই প্রশ্নগুলির উত্তরও দাবি করেছেন তিনি।
সৌরভের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁর সাম্প্রতিক ভূমিকার কারণেও ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। দিল্লিতে নিট আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে উঠে এসেছিলেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে তাঁর সক্রিয় অবস্থানের জন্যও তাঁকে নিয়মিত প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর বাড়িতে পুলিশের যাওয়ার ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেই দেখছেন।
সিজেপি মুখপাত্রের অভিযোগ, পুদুচেরির বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে তাঁর পরিবারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। শুধু রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেই নয়, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও নথি বা নির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে তুলে ধরেননি।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্যে সৌরভ প্রশ্ন তুলেছেন, পুদুচেরি সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের উপর কেন এমন চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজ্য পুলিশের এই আচরণের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের স্বাভাবিক ভূমিকার সামঞ্জস্য নেই। বরং এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
ঘটনার পর নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন সৌরভ। তাঁর বক্তব্য, পরিবারের সদস্যদের উপর চাপ তৈরি করে তাঁকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ভয় দেখিয়ে তাঁকে নীরব করার চেষ্টা করলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না বলেই জানিয়েছেন।
সৌরভের অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, তিনি পুলিশের পদক্ষেপকে ব্যক্তিগত হয়রানি হিসেবে দেখার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর মতে, কোনও রাজনৈতিক মত বা অবস্থানের কারণে কোনও ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চাপের মুখে ফেলা উচিত নয়। পুলিশি তদন্ত থাকলে সেটি অবশ্যই নির্দিষ্ট আইন ও প্রক্রিয়া মেনে হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও দাবি করেছেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের কাজ যদি রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তাহলে তা প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাতে পারে। এই কারণেই ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে সৌরভের অভিযোগের পর এখনও পর্যন্ত পুদুচেরি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। পুলিশের দলটি কেন তাঁর পরিবারের বাড়িতে গিয়েছিল, কোনও অভিযোগ বা মামলার ভিত্তিতে সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল কি না, কিংবা কোনও নোটিস বা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।
একইভাবে বিজেপির তরফেও সৌরভের অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়নি। ফলে পুলিশের বাড়িতে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এবং জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে।
সৌরভ অবশ্য ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি পিছিয়ে যাবেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভয় দেখিয়ে তাঁকে তাঁর অবস্থান থেকে সরানো যাবে না। বরং পরিবারের উপর এই ধরনের চাপ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের প্রশাসনিক ব্যবস্থা এমন হওয়া প্রয়োজন যেখানে পুলিশ কোনও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, আইনের ভিত্তিতে কাজ করবে। আইন মেনে পুলিশের ভূমিকা পালন করা এবং নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা—এই দুই বিষয়কেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
এখন দেখার, সৌরভ দাসের অভিযোগের বিষয়ে পুদুচেরি প্রশাসন বা পুলিশ কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় কি না। একইসঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগের জবাব দেয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
এই মুহূর্তে ঘটনাটির একটি দিকই প্রকাশ্যে এসেছে—সৌরভ দাসের অভিযোগ। পুলিশের তরফে পালটা বক্তব্য না আসা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্য বা তার আইনি ভিত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। তবে তাঁর পরিবারের বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।



