বিদেশে পড়াশোনা, দেশে ফিরে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গঠন—এই সবকিছুকে ঘিরেই গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় রয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে যেমন সমর্থনের সুর শোনা গিয়েছে, তেমনই উঠেছে নানা প্রশ্নও। বিশেষ করে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার বিপুল খরচ কীভাবে সামলানো হয়েছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তথ্যের অধিকার আইন বা আরটিআইয়ের মাধ্যমে তাঁর পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন সমাজকর্মী অমিত তিওয়ারি। তাঁর দাবি ছিল, মহারাষ্ট্রের একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান হয়েও কীভাবে অভিজিৎ দীপকে বিদেশে পড়াশোনার খরচ বহন করলেন, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এই প্রশ্নের জবাব দিতে এবার সামনে এলেন খোদ অভিজিৎ দীপকে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বিদেশে পড়াশোনার খরচ কোনওভাবেই বাবার উপার্জনের উপর নির্ভরশীল ছিল না। মেধার ভিত্তিতে পাওয়া বৃত্তি এবং শিক্ষা ঋণের মাধ্যমেই তিনি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
দীপকের বক্তব্য, তাঁর পড়াশোনার বড় অংশের খরচ বহন করেছে Boston University। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে পাওয়া স্কলারশিপের সাহায্যেই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছেন। পাশাপাশি নিজের পড়াশোনার জন্য শিক্ষা ঋণও নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের দাবির সমর্থনে স্কলারশিপ সংক্রান্ত নথিও প্রকাশ্যে এনেছেন ‘ককরোচ’ প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর দাবি, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে যে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, তার প্রমাণপত্র রয়েছে তাঁর কাছে। কেউ চাইলে সেই নথি যাচাই করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অভিজিৎ দীপকের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা নিয়েও এর আগে প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁর বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। সেই আয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ চালানো সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন তুলেই আরটিআই করা হয়েছিল।
তবে দীপকের বক্তব্য, তাঁর শিক্ষাজীবনের সাফল্যের পিছনে রয়েছে নিজের যোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সুযোগ। তিনি বলেন, বিদেশে পড়াশোনা করার জন্য শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ্য নয়, মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেও অনেক শিক্ষার্থী বৃত্তি পান। তাঁর ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।
এদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আর্থিক উৎস নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি আন্দোলনে নামে। সেই আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে পরিচিতি পায় সংগঠনটি। পরে বিভিন্ন আইনি সমস্যায় জড়িয়ে পড়া কর্মীদের সহায়তার জন্য তহবিল তৈরির কথাও ঘোষণা করেছিলেন অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর সহযোগীরা।
সেই তহবিল নিয়ে আলোচনার মধ্যেই অভিযোগ ওঠে, সংগঠনটি বিদেশি সাহায্য পাচ্ছে কি না। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দীপকে। তাঁর দাবি, তাঁদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কেউ খাবার দিয়েছেন, কেউ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেছেন।
দীপকের কথায়, আন্দোলনের সময় বহু সাধারণ মানুষ তাঁদের পাশে ছিলেন, কারণ তাঁরা নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এমনকী দিল্লি পুলিশের কিছু সদস্যও পরিচয় গোপন রেখে আন্দোলনকারীদের সাহায্য করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
আরটিআইয়ের মাধ্যমে ওঠা প্রশ্নের জবাবে দীপকে জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি নেই। তাঁর বক্তব্য, বিদেশে পড়াশোনা করা মানেই পরিবারের বিপুল আর্থিক সামর্থ্য থাকা নয়। যোগ্যতা থাকলে স্কলারশিপ এবং ঋণের মাধ্যমেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
বর্তমানে অভিজিৎ দীপকে তাঁর সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও সক্রিয় রয়েছেন। তবে তাঁর আর্থিক উৎস এবং বিদেশে পড়াশোনার বিষয়টি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেই তিনি নথি প্রকাশের পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে দীপকে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, তাঁর শিক্ষাজীবনের সাফল্যের পিছনে কোনও গোপন আর্থিক উৎস নয়, বরং বৃত্তি, ঋণ এবং নিজের পরিশ্রমই মূল ভূমিকা নিয়েছে।



