উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে সোমবার সকালে বড়সড় প্রশাসনিক অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সমাজবাদী পার্টির একটি দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে চালানো হয় ভাঙার অভিযান। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই ভবন শেষ পর্যন্ত মাটিতে মিশে যায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।
পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, জমির ব্যবহার ও বরাদ্দ ঘিরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তাধীন ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে আগেই সংশ্লিষ্ট ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জায়গা খালি না হওয়ায় প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়।
সোমবার সকালে অভিযান শুরু হতেই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে কোনও ধরনের অশান্তি বা প্রতিবাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়। এরপর চারটি বুলডোজার নিয়ে শুরু হয় ভাঙার কাজ।
প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০০৫ সালে তৎকালীন পুরপরিষদের এক সিদ্ধান্তে এই জমিটি রাজনৈতিক ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই সময়ে অত্যন্ত কম ভাড়ায়—বার্ষিক মাত্র ১০০ টাকায়—জমিটি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ওই বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে নিয়মবহির্ভূত বলে চিহ্নিত করা হয়।
পুরসভা দাবি করেছে, বরাদ্দ বাতিল হওয়ার পরও জমিটি দখলেই ছিল এবং সেটিকে দলীয় দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের তরফে ৮ জুন একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ওই নির্দেশে ১৫ দিনের মধ্যে জমি খালি করার কথা বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়সীমার দুই দিন আগেই ভবনটি খালি করে দেওয়া হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যদিও পরে সেটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়।
ভাঙার কাজ চলাকালীন উপস্থিত ছিলেন পুরসভার আধিকারিকরা। একজন শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে ওই জায়গায় একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরপ্রদেশে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযানের ধারা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে বাগপতের এক গ্রামে সরকারি জমি দখল করে তৈরি একটি ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়।
সেই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যে একাধিক জায়গায় অবৈধ নির্মাণ ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সীতাপুরের এই অভিযানকে দেখছেন অনেকে।
তবে রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, প্রশাসনিক পদক্ষেপের আড়ালে রাজনৈতিক লক্ষ্য থাকতে পারে। যদিও শাসকদলের তরফে বলা হচ্ছে, নিয়মভঙ্গ যেখানে হয়েছে, সেখানে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের অবস্থান।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি ভবন ভেঙে ফেলা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে সীতাপুরের এই বুলডোজার অভিযান আবারও উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের পদক্ষেপ আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে নজর এখন রাজ্য প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।



