Home/India/‘আমার মতো মুসলিম তরুণকে এমন সুযোগ আর কেউ দিত না’, বিজেপি ছাড়লেন জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

‘আমার মতো মুসলিম তরুণকে এমন সুযোগ আর কেউ দিত না’, বিজেপি ছাড়লেন জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শেহজাদ পুনাওয়ালা। দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশন বিতর্ক, সমাজমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মঞ্চে দলের হয়ে সরব থাকা এই নেতা সোমবার দলীয় পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার কথা জানান। নিজের বিদায়ী বার্তায় বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি দল তাঁকে যে সুযোগ দিয়েছে, তার প্রশংসাও করেন তিনি। শেহজাদের দাবি, আর্থিক চাপ এবং ব্যক্তিগত সমস্যার কারণেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 17, 2026
5 min read
6
Share:
‘আমার মতো মুসলিম তরুণকে এমন সুযোগ আর কেউ দিত না’, বিজেপি ছাড়লেন জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র পদে ইতি

বিজেপির হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় স্তরে দলের বক্তব্য তুলে ধরেছেন শেহজাদ পুনাওয়ালা। বিশেষ করে টেলিভিশন বিতর্কে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে বিজেপির অবস্থান জোরালো ভাবে তুলে ধরতে তাঁকে নিয়মিত দেখা যেত। এক্স-এও দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

তবে বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সমাজমাধ্যমের প্রোফাইল থেকে বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে নিজের পরিচয় সরিয়ে দিয়েছিলেন শেহজাদ। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি কি দল থেকে দূরত্ব তৈরি করছেন? শেষ পর্যন্ত সোমবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করলেন তিনি।

শেহজাদ জানিয়েছেন, বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্বের পাশাপাশি দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ছাড়ছেন। এর আগে গত মাসেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছিল। শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি।

বিদায়ের সময়েও বিজেপির প্রশংসা

দল ছাড়ার ঘোষণা করলেও বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ তোলেননি শেহজাদ। বরং নিজের রাজনৈতিক জীবনে বিজেপির ভূমিকার প্রশংসাই করেছেন তিনি।

নিজের পদত্যাগপত্রের সঙ্গে প্রকাশ করা বার্তায় শেহজাদ জানান, দলীয় নেতৃত্ব তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে বিজেপির কাছ থেকে পাওয়া সুযোগ, সম্মান, সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন তরুণ হিসেবে বিজেপির মতো রাজনৈতিক দলে জাতীয় স্তরে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন শেহজাদ। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, অন্য কোনও দেশ বা রাজনৈতিক দল তাঁর মতো ‘পসমন্দা মুসলিম’ তরুণকে একই ধরনের পরিচিতি ও সুযোগ দিত কি না, তা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

অর্থাৎ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বিজেপির প্রতি তাঁর রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এখনও অটুট—বিদায়ী বার্তায় এমনই ইঙ্গিত মিলেছে।

আর্থিক সংকটই কি মূল কারণ?

রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেহজাদ ব্যক্তিগত আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে তিনি আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও কিছু সমস্যা রয়েছে। এই দুই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

৩৮ বছর বয়সে রাজনীতি ছেড়ে এবার পেশাগত জীবনে নতুন পথ খোঁজার ইঙ্গিতও দিয়েছেন শেহজাদ। যদিও তিনি ঠিক কোন ক্ষেত্রে কাজ শুরু করবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি।

তবে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, আপাতত রাজনৈতিক দায়িত্ব এবং দলীয় পদে থাকার বদলে কর্মজীবনের দিকে মন দিতে চান তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর এই পরিবর্তন তাঁর কাছে সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না বলেও ইঙ্গিত রয়েছে বিদায়ী বক্তব্যে।

কংগ্রেস থেকে বিজেপি—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ

শেহজাদ পুনাওয়ালার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের হাত ধরে। প্রায় ১৮ বছর ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দল ছাড়েন শেহজাদ।

এরপর বিজেপিতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করেন। কংগ্রেস ছাড়ার পর রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে নিয়মিত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে দেখা যায় তাঁকে। বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে সেই ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

টেলিভিশনের রাজনৈতিক বিতর্কে বিজেপির হয়ে নিয়মিত মুখ ছিলেন শেহজাদ। বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া থেকে শুরু করে দলের নীতি ও সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ছিলেন তিনি।

২০২১ সালে তাঁকে দিল্লি বিজেপির সমাজমাধ্যমের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। পরে জাতীয় স্তরে দলের মুখপাত্র হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

সমাজমাধ্যমে সক্রিয় মুখ

শেহজাদের রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরিতে এক্স হ্যান্ডেলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপির বক্তব্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে দলের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিরোধীদের আক্রমণ করে নিয়মিত পোস্ট করতেন তিনি।

টেলিভিশন চ্যানেলের বিতর্কেও বিজেপির পক্ষে অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন শেহজাদ। ফলে তাঁর দলত্যাগ বিজেপির রাজনৈতিক সংগঠন থেকে একজন সক্রিয় মুখের সরে যাওয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তবে তাঁর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আচমকা নয়। গত মাসে পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে সিদ্ধান্ত বদলের জন্য অনুরোধ করেছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে সমাজমাধ্যমের প্রোফাইল থেকে বিজেপির মুখপাত্র পরিচয় সরিয়ে নেওয়ায় বিষয়টি আরও প্রকাশ্যে আসে।

মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা

রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন শেহজাদ। তাঁর বক্তব্য, ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা মোদির নেতৃত্বে দেশ আরও এগিয়ে যাক—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

তাই বিজেপি ছাড়ার ঘোষণাকে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক বিদ্রোহ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। বরং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে রাজনীতি থেকে সাময়িক ভাবে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিষয়টি সামনে এসেছে।

শেহজাদের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিকল্পনা কী হবে, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি কি ভবিষ্যতে আবার রাজনীতিতে ফিরবেন, নাকি সম্পূর্ণ ভাবে পেশাগত জীবনে মন দেবেন—সেই উত্তর সময়ই দেবে।

এই মুহূর্তে তাঁর ঘোষণায় একটি বিষয়ই পরিষ্কার—দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টেনে ৩৮ বছর বয়সে জীবনের নতুন পর্ব শুরু করতে চলেছেন শেহজাদ পুনাওয়ালা।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10