নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিবাদে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন লাদাখের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। টানা ২৭ দিন ধরে অনশন চালানোর ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বর্তমানে দিল্লির মেদান্ত হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং শারীরিক দুর্বলতার মধ্যেও নিজের দাবি থেকে সরে আসেননি সোনম।
মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশের পর দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে তাঁকে মেদান্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালানোর পর পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। সোনমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁর যথাযথ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। সেই আবেদন মেনে নেয় দিল্লি হাই কোর্ট।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে সোনমকে মেদান্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিইউতে রেখে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। দীর্ঘদিন খাবার গ্রহণ না করায় তাঁর শরীরে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও হাসপাতালের শয্যায় থেকেও তিনি অনশন প্রত্যাহার করেননি।
এই পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং হাসপাতালে পৌঁছে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। সূত্রের খবর, দুই মন্ত্রী সোনমের সঙ্গেও কিছুক্ষণ কথা বলেন। তবে তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আন্দোলন এবং সোনমের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের সক্রিয়তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলিও সংসদের বাদল অধিবেশনে বিষয়টি তুলে সরকারকে আক্রমণ করেছে।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আগেই জানিয়েছিলেন, অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করা হয়েছে বলে কেন্দ্রের দাবি।
সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলন এখন শুধু নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং ছাত্রছাত্রীদের আস্থার প্রশ্নেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তাঁর দীর্ঘ অনশন এবং শারীরিক অবস্থার দিকে এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।
এদিকে, সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার দাবিতে বিরোধীরা সরব থাকলেও সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আলোচনায় তারা প্রস্তুত। তবে আন্দোলনরত সোনম এখনও নিজের দাবিতে অনড় রয়েছেন। তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।



