Home/India/২০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় দোষী তরুণ তেজপাল, গোয়া সরকারের আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় খারিজ হাই কোর্টের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

২০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় দোষী তরুণ তেজপাল, গোয়া সরকারের আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় খারিজ হাই কোর্টের

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বহুচর্চিত মামলায় বড় আইনি ধাক্কা খেলেন ‘তেহেলকা’-র প্রতিষ্ঠাতা তরুণ তেজপাল। ২০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চ। এর আগে নিম্ন আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গোয়া সরকারের করা আবেদনের ভিত্তিতেই মামলার পুনর্বিচার হয়। আদালত ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় তাঁকে দোষী বলে ঘোষণা করেছে। শাস্তির পরিমাণ পরে জানানো হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 6, 2026
5 min read
9
Share:
২০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় দোষী তরুণ তেজপাল, গোয়া সরকারের আবেদনে নিম্ন আদালতের রায় খারিজ হাই কোর্টের

উচ্চ আদালতে বদলে গেল মামলার মোড়

বৃহস্পতিবার বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চে বিচারপতি নীলা গোখলে এবং বিচারপতি অমিত জামসান্দেকারের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করে। আদালত জানায়, মামলায় উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণ এবং সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

রায়ে তাঁকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(২)(এফ), ৩৭৬(২)(কে), ৩৫৪এ এবং ৩৫৪বি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, দণ্ড ঘোষণার জন্য পৃথক শুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কী অভিযোগ ছিল?

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালে। সে বছর গোয়ায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন ‘তেহেলকা’-র কর্মীরা। অভিযোগ, সেই সময় সংস্থার এক মহিলা সহকর্মীকে একটি হোটেলের লিফটের ভিতরে যৌন নিগ্রহ করেন তরুণ তেজপাল।

নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়া পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের হয়। তদন্ত শুরু হওয়ার পর একই বছরের নভেম্বরে তেজপালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন এবং ২০১৪ সালের জুলাই মাসে জামিনে মুক্তি পান।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস

তদন্ত শেষ হওয়ার পর তেজপালের বিরুদ্ধে ধর্ষণ-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। কয়েক বছর ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারপর্ব চলার পর ২০২১ সালে গোয়ার দায়রা আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দেয়।

সেই রায়ে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে গোয়া সরকার বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চে আপিল করে। সরকারের দাবি ছিল, নিম্ন আদালত প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন করেনি এবং আইনের প্রয়োগেও ত্রুটি ছিল। সেই আপিলের শুনানির পরই উচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্ত দেয়।

নিম্ন আদালতের রায় উল্টে দিল হাই কোর্ট

উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়েছে, মামলার নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ নতুন করে মূল্যায়ন করার পর নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া যায়নি।

ফলে গোয়া সরকারের আপিল গ্রহণ করে বম্বে হাই কোর্ট তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এর ফলে ২০২১ সালের খালাসের রায় কার্যত বাতিল হয়ে গেল।

শাস্তি ঘোষণার দিকে নজর

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আদালত কী শাস্তি ঘোষণা করে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির মধ্যে কয়েকটির ক্ষেত্রে কঠোর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আদালত পৃথক শুনানির মাধ্যমে শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণ করবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর অভিযুক্ত পক্ষের সামনে এখন উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথ খোলা থাকলেও, আপাতত বম্বে হাই কোর্টের এই রায়ই কার্যকর থাকবে।

বহুচর্চিত মামলায় নতুন অধ্যায়

তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ একসময় দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল। সংবাদমাধ্যম, কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই মামলা।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর নিম্ন আদালতের খালাসের রায় বদলে উচ্চ আদালতের দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত মামলাটিকে নতুন মোড়ে নিয়ে এল। এখন সকলের নজর আদালতের শাস্তি ঘোষণার দিকে।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10