Home/India/২০ দিনে কেজিতে ৭.৫২ টাকা বেড়েছে চিনি, ইথানল নয়! মূল্যবৃদ্ধির আসল কারণ জানাল কেন্দ্র
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

২০ দিনে কেজিতে ৭.৫২ টাকা বেড়েছে চিনি, ইথানল নয়! মূল্যবৃদ্ধির আসল কারণ জানাল কেন্দ্র

মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বাজারে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইথানল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে চিনি সরিয়ে নেওয়াকে দায়ী করা ঠিক নয় বলে জানাল কেন্দ্র। ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের দাবি, কম উৎপাদন, উৎসবের মরশুমে বাড়তি চাহিদা, আবহাওয়ার প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত মজুত—একাধিক কারণেই দাম বেড়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 22, 2026
5 min read
2
Share:
২০ দিনে কেজিতে ৭.৫২ টাকা বেড়েছে চিনি, ইথানল নয়! মূল্যবৃদ্ধির আসল কারণ জানাল কেন্দ্র

২০ জুলাই থেকে ২০ আগস্টে বড়সড় দামবৃদ্ধি

কেন্দ্রের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই দেশের খুচরো বাজারে চিনির গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ৪৮.১৮ টাকা। ২০ আগস্ট সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা।

অর্থাৎ মাত্র এক মাসে কেজিপ্রতি প্রায় ৭.৫২ টাকা দাম বেড়েছে। বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতা থেকে মিষ্টি ব্যবসায়ী—সবার উপরই।

তবে কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে, ইথানল তৈরির জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়াই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ—এমন দাবি সঠিক নয়।

কেন বাড়ছে চিনির দাম?

ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, চিনির দাম বাড়ার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • প্রত্যাশার তুলনায় কম চিনি উৎপাদন

  • উৎসবের মরশুমকে কেন্দ্র করে বাড়তি চাহিদা

  • প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আখের ফলনে ক্ষতি

  • আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়া

  • বাজারে অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা

  • ফটকা কারবারের আশঙ্কা

কেন্দ্রের মতে, মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যে পরিবর্তনের কারণেই বাজারে চিনির দাম বেড়েছে।

ইথানল উৎপাদনের সঙ্গে কি সম্পর্ক নেই?

চিনির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে ইথানল উৎপাদনের সম্পর্ক রয়েছে বলে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, আখের রসের একটি অংশ ইথানল তৈরিতে ব্যবহার হওয়ায় চিনির উৎপাদন কমেছে।

কিন্তু কেন্দ্রের বক্তব্য, ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়াকেই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

সরকার বরং আবহাওয়া, উৎপাদনের ঘাটতি, উৎসবের সময় বাড়তে থাকা চাহিদা এবং বাজারে মজুতের মতো বিষয়গুলিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

মজুতদারির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ

উৎসবের মরশুমে চিনির দাম যাতে আরও বেড়ে না যায়, সেজন্য মজুতদারির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

নয়া নির্দেশ অনুযায়ী, যেসব ব্যবসায়ী মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি কেনাবেচা করেন, তাঁদের গুদামে মজুত চিনি ১৫ দিনের বেশি আটকে রাখা যাবে না।

প্রতি ১৫ দিন অন্তর গুদামে থাকা চিনি বাজারে ছাড়তে হবে। এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে। উৎসবের মরশুম শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ চালু থাকবে।

সরকারের তরফে ১৫ দিন অন্তর অভিযান চালিয়ে নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রায় এক দশক পর চিনি আমদানির সম্ভাবনা

এর মধ্যেই দেশের বাজারে চিনির জোগান বাড়াতে আমদানির সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক দশক পর ভারত ফের বিপুল পরিমাণ চিনি আমদানি করতে পারে।

দেশ এতদিন চিনি উৎপাদনে স্বনির্ভর থাকার পাশাপাশি নিয়মিত রপ্তানিও করেছে। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির জেরে এবার পরিস্থিতি বদলেছে।

সরকারের লক্ষ্য, বিদেশ থেকে চিনি এনে দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।

উৎসবের মরশুমে আরও বাড়বে চাহিদা

সামনেই দুর্গাপুজো, দীপাবলি-সহ একাধিক বড় উৎসব। এই সময় মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী তৈরিতে চিনির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

ফলে এখনই বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে আগামী দিনে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিনির দাম বাড়লে মিষ্টি, পানীয় এবং একাধিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

তাই একদিকে মজুতদারির বিরুদ্ধে অভিযান, অন্যদিকে সম্ভাব্য আমদানির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10