১৬ আগস্টের deadline ঘিরে উদ্বেগ
এলপিজি গ্রাহকদের আধারভিত্তিক পরিচয় যাচাই বা ই-কেওয়াইসি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক তৎপরতা দেখা গিয়েছে। গ্যাস সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে প্রক্রিয়াটি শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে শেষ মুহূর্তে পরিষেবা কেন্দ্র এবং গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসে ভিড় বাড়তে শুরু করে।
সমস্যার অন্যতম কারণ প্রযুক্তিগত। প্রত্যেক গ্রাহকের কাছে স্মার্টফোন নেই। আবার স্মার্টফোন থাকলেও গ্যাস সংস্থার অ্যাপ ডাউনলোড করে নির্দিষ্ট ধাপে কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করা অনেকের কাছেই সহজ নয়। প্রবীণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বেশি।
এর পাশাপাশি অনলাইনে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে গিয়ে অ্যাপ কাজ না করা, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বা পরিচয় যাচাইয়ে সমস্যা হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের কেওয়াইসি সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্বস্তি দিয়েছে গ্রাহক ও গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের একাংশকে।
২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়
প্রাথমিকভাবে ১৬ আগস্টের মধ্যে ই-কেওয়াইসি শেষ করার কথা বলা হলেও এবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২৩ আগস্ট করা হচ্ছে বলে খবর। অর্থাৎ যাঁরা এখনও প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে পারেননি, তাঁদের হাতে অতিরিক্ত কয়েকদিন সময় থাকছে।
ডিস্ট্রিবিউটরদের সংগঠনও মনে করছে, এই অতিরিক্ত সময়ের ফলে বকেয়া কেওয়াইসির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর্স সংগঠনের কর্তা বিজন বিশ্বাসের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও রাজ্যে শুধু ইন্ডেনের প্রায় ২২ লক্ষ গ্রাহকের কেওয়াইসি বাকি থাকার সম্ভাবনা ছিল। ফলে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সেই বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার সুযোগ মিলবে।
অন্য দুই রাষ্ট্রায়ত্ত এলপিজি সংস্থার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহকের তথ্য আপডেট বাকি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ গ্রাহকের কেওয়াইসি এখনও অসম্পূর্ণ থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অনুমান।
কেন এই ই-কেওয়াইসি?
আধারভিত্তিক ফেস অথেন্টিকেশনের মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই করার ব্যবস্থাই এই ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। ভর্তুকি ব্যবস্থায় প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা এবং একই ব্যক্তির নামে একাধিক বা অনিয়মিত সংযোগের মতো সমস্যা ঠেকাতেই পরিচয় যাচাইয়ের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ইন্ডেন, এইচপি এবং ভারত গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য এই যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের ক্ষেত্রে অবশ্য নিয়ম আলাদা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ থেকেই এই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু বহু গ্রাহক সময়মতো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে না দেখায় শেষ মুহূর্তে এসে চাপ বেড়ে যায়।
ফলে কয়েকদিন ধরে ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসে ভিড়ও বাড়ে। কোথাও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের, কোথাও আবার প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কাজ আটকে যাচ্ছে।
কেওয়াইসি না করলে কী হতে পারে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-কেওয়াইসি না করলে কী হবে?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না থাকলে রান্নার গ্যাসে পাওয়া ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ গ্রাহককে সিলিন্ডারের জন্য বেশি টাকা দিতে হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে একটি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ২,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে বাস্তবে গ্রাহকের ক্ষেত্রে ঠিক কত টাকা দিতে হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, ভর্তুকির যোগ্যতা এবং সরকারের কার্যকর সিদ্ধান্তের উপর।
তাই সময়সীমা বাড়লেও গ্রাহকদের কেওয়াইসি ফেলে রাখলে ভবিষ্যতে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।
অনলাইনে কীভাবে করা যাবে?
যাঁদের স্মার্টফোন রয়েছে এবং অ্যাপ ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ, তাঁরা বাড়িতে বসেই ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
প্রথমে নিজের গ্যাস সংস্থার নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আধারভিত্তিক ফেস অথেন্টিকেশন সম্পূর্ণ করতে হবে।
এই প্রক্রিয়ার জন্য ‘AadhaarFaceRD’ অ্যাপও প্রয়োজন হতে পারে। গ্রাহকের ফোনে এই অ্যাপ না থাকলে গ্যাস সংস্থার অ্যাপের মাধ্যমে মুখের ছবি দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে।
তাই শুধু গ্যাস সংস্থার অ্যাপ ডাউনলোড করলেই কাজ শেষ নয়। প্রয়োজনীয় ফেস অথেন্টিকেশন অ্যাপও ফোনে ইনস্টল থাকতে হবে।
অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় গ্রাহকের আধার সংক্রান্ত তথ্য সঠিক থাকা জরুরি। কোনও তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে পরিচয় যাচাই ব্যর্থ হতে পারে।
অফলাইনেও রয়েছে সুযোগ
প্রযুক্তিগতভাবে স্বচ্ছন্দ নন এমন গ্রাহকদের জন্য অফলাইন ব্যবস্থাও রয়েছে। তাঁরা নিজেদের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে গিয়ে ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
সেক্ষেত্রে সঙ্গে আধার কার্ড নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটরের কর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করবেন।
বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ বা যাঁদের স্মার্টফোন নেই, তাঁদের জন্য এই অফলাইন ব্যবস্থাই বেশি সুবিধাজনক হতে পারে।
তবে শেষ মুহূর্তে ভিড় এড়াতে সময় থাকতেই ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে যোগাযোগ করা ভালো।
১৫ আগস্টেও খোলা থাকতে পারে অফিস
ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করার জন্য সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে স্বাধীনতা দিবসেও কিছু ডিস্ট্রিবিউটরের অফিস খোলা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিস্ট্রিবিউটর সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৫ আগস্ট ছুটির দিন হলেও দুপুর ১২টা থেকে কাজের ব্যবস্থা রাখা হবে। উদ্দেশ্য, যাঁরা শেষ মুহূর্তে কেওয়াইসি করতে চাইছেন তাঁদের যাতে পরিষেবা দেওয়া যায়।
কারণ, রান্নার গ্যাসের সরবরাহে কোনও ধরনের সমস্যা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। তাই বকেয়া কেওয়াইসি দ্রুত শেষ করতেই ডিস্ট্রিবিউটরদের উপরও চাপ রয়েছে।
সময় বাড়লেও বিভ্রান্তি কাটেনি
২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ানোয় আপাতত গ্রাহকদের বড় অংশ স্বস্তি পেলেও পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি এখনও রয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্রক্রিয়ায় যাঁরা সমস্যায় পড়ছেন, তাঁদের জন্য দ্রুত ও সহজ পরিষেবা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, কেওয়াইসি করতে গিয়ে অ্যাপের সমস্যা, নেটওয়ার্ক বিভ্রাট এবং সার্ভার সংক্রান্ত জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে শুধু সময় বাড়ালেই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে না। প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোও স্বাভাবিক রাখতে হবে।
এখন নজর থাকবে ২৩ আগস্টের মধ্যে কত শতাংশ গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন হয় তার দিকে। অতিরিক্ত সময় পাওয়ায় বকেয়া তালিকা কতটা ছোট করা যায়, সেটিই এখন কেন্দ্র ও গ্যাস সংস্থাগুলির সামনে বড় পরীক্ষা।



