আন্দোলনে শিশুদের উপস্থিতি ঘিরে নতুন বিতর্ক
সাম্প্রতিক সময়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র বিভিন্ন আন্দোলনের ছবি ও ভিডিওতে বহু কিশোর-কিশোরী এবং শিশুদের উপস্থিতি নজরে আসে। আন্দোলনের সময় পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগও সামনে আসে। সংগঠনের নেতাদের দাবি ছিল, অপ্রাপ্তবয়স্করাও পুলিশের আঘাতের শিকার হয়েছে।
এই ঘটনাকেই সামনে রেখে শিলিগুড়ির আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, অল্পবয়সি শিশুদের এমন কর্মসূচিতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত কার ছিল। তাঁর মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অভিভাবক ও আয়োজকদের উপরই বর্তায়।
জিরো এফআইআরের আবেদন
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর তথ্য অনুযায়ী, রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় জিরো এফআইআর দায়েরের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন।
তাঁর বক্তব্য, যদি সত্যিই ১২ বছর বয়সি কোনও শিশুকে আন্দোলনের ময়দানে নিয়ে আসা হয়ে থাকে এবং সেখানে সে বিপদের মুখে পড়ে, তবে বিষয়টি আইনিভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণেই তিনি সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনি ধারায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পকসো আইনের প্রসঙ্গ কেন উঠছে?
আবেদনে আইনজীবীর দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে তাদের নিয়ে যাওয়া হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সেই যুক্তিতেই তিনি শিশু সুরক্ষা আইনের আওতায় তদন্তের আবেদন করেছেন।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পকসো (POCSO) আইন মূলত শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের বিচার ও সুরক্ষার জন্য প্রণীত। এই ঘটনায় ওই আইনের কোন নির্দিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হতে পারে কি না, তা তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতের মূল্যায়নের উপর নির্ভর করবে।
সুপ্রিম কোর্টে আন্দোলন ঘিরে পৃথক মামলা
এদিকে একই আন্দোলনে পুলিশি লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে পৃথক আবেদন দায়ের হয়েছে।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। মহিলা আন্দোলনকারীদের মারধর এবং পুলিশের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কয়েকজন আইনজীবী দাবি করেছেন, ঘটনার সমর্থনে একাধিক ভিডিও তাঁদের কাছে রয়েছে।
এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছে যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। শুধুমাত্র আন্দোলন হচ্ছে বলেই বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া যায় না। তবে আদালত এখনও এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি।
তদন্তের অপেক্ষায় অভিযোগ
বর্তমানে আইনজীবীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। জিরো এফআইআর গ্রহণ করা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মামলাটি উপযুক্ত থানায় স্থানান্তর করা হতে পারে।
অন্যদিকে, অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র পক্ষ থেকে এই নতুন অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
তদন্ত শুরু হলে অভিযোগের সত্যতা, শিশুদের উপস্থিতির প্রেক্ষাপট এবং আইন ভঙ্গের কোনও উপাদান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্তকারী সংস্থা। আদালতের নির্দেশ বা তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত বলে ধরা যায় না।



