Home/India/১০ দিনের ডেডলাইন, দলত্যাগী সাংসদদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি কালীঘাট তৃণমূলের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

১০ দিনের ডেডলাইন, দলত্যাগী সাংসদদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি কালীঘাট তৃণমূলের

দলত্যাগী ২০ সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে স্পিকারের কাছে করা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি চাইল কালীঘাট তৃণমূল। বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লোকসভা অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে দল। এবার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ না হলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূলের এই শিবির।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 13, 2026
5 min read
2
Share:
১০ দিনের ডেডলাইন, দলত্যাগী সাংসদদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি কালীঘাট তৃণমূলের

দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ নিয়ে এবার সরাসরি আইনি পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিল কালীঘাট তৃণমূল। লোকসভা অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে করা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা করেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির। বুধবার অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দলের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আর দীর্ঘ অপেক্ষার পথে হাঁটতে চাইছে না তারা। সূত্রের খবর, সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার আগে আরও প্রায় এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন সময় দেওয়া হবে স্পিকারকে।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রভাব সংসদেও পড়েছে বলে দাবি কালীঘাট শিবিরের। তাদের বক্তব্য, লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীক ও নামের ভিত্তিতে জয়ী হওয়া ২০ জন সাংসদ পরবর্তীতে দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁরা এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করছেন।

এই সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করেছে কালীঘাট তৃণমূল। দলের দাবি, ২০ জন সাংসদের ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ২০টি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, আবেদন জমা পড়ার পর বেশ কয়েক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত সদস্যপদ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এই পরিস্থিতিতেই বুধবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল লোকসভা অধ্যক্ষ ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে। বৈঠকে দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে করা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সংসদে তৃণমূল সাংসদদের বসার জায়গা পিছনের সারিতে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও অধ্যক্ষের সামনে তোলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলত্যাগের অভিযোগ নিয়ে স্পিকারের কাছে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, গত মাসের ২২-২৩ তারিখ নাগাদ এই বিষয়ে আবেদন জমা দেওয়া হলেও এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এতদিন অপেক্ষার পর এবার আদালতের পথ খোলা রাখার কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কালীঘাট শিবিরের বক্তব্য, দলত্যাগের অভিযোগের ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে। একইসঙ্গে অতীতে সুপ্রিম কোর্ট এই ধরনের বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে। যদিও আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশে স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিন মাস পর্যন্ত সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, তবুও সেই পুরো সময়সীমা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে নারাজ অভিষেকরা।

তৃণমূলের এই শিবিরের যুক্তি, তাদের আবেদনের পর ইতিমধ্যেই কয়েক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে। ফলে আরও দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার কোনও কারণ নেই। সেই কারণেই স্পিকারের উপর রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, কালীঘাট তৃণমূল এখন থেকে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১০ দিন অপেক্ষা করবে। এই সময়ের মধ্যে দলত্যাগী সাংসদদের সদস্যপদ এবং এনসিপিআই সংক্রান্ত বিষয়ে লোকসভা অধ্যক্ষ কোনও কার্যকর সিদ্ধান্ত না নিলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

তবে পুরো বিষয়টির কেন্দ্রে রয়েছে দলত্যাগ-বিরোধী আইন এবং সাংসদদের সদস্যপদ সংক্রান্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। কোনও সাংসদ দল পরিবর্তন করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে। সেই আইনি কাঠামোর ভিত্তিতেই কালীঘাট তৃণমূল ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথক আবেদন করেছে।

কালীঘাট শিবির আরও একটি প্রশ্ন তুলছে এনসিপিআইয়ের স্বীকৃতি নিয়ে। তাদের দাবি, তৃণমূলের নাম ও প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদরা দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার পর সেই দলকে লোকসভায় কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এখনও পর্যন্ত লোকসভায় এনসিপিআইকে দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলেও দাবি তৃণমূলের।

অন্যদিকে, দলত্যাগী সাংসদদের ভবিষ্যৎ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁরা শুধু দল পরিবর্তন করেননি, কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।

কালীঘাট শিবিরের কাছে তাই বিষয়টি শুধুমাত্র সাংসদদের ব্যক্তিগত দলবদলের প্রশ্ন নয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পরে অন্য দলে যোগ দেওয়া সাংসদদের সদস্যপদ বহাল থাকবে কি না, তা সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবারের বৈঠকে সাংসদদের আসনবিন্যাসের বিষয়টিও সামনে আসে। লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদদের পিছনের সারিতে বসানো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দল। অভিষেকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অধ্যক্ষের কাছে এই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চায়। ফলে দলত্যাগের অভিযোগের পাশাপাশি সংসদে তৃণমূলের সাংসদদের অবস্থান নিয়েও অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে কালীঘাট তৃণমূলের এই অবস্থান আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ, স্পিকারের সিদ্ধান্তের আগে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি সরাসরি সংসদীয় প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের বক্তব্যে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট। তাঁরা এখনই সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন না। প্রথমে স্পিকারকে আরও কিছুটা সময় দেওয়া হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা দীর্ঘ হবে না। আগামী এক সপ্তাহ থেকে সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে কোনও অগ্রগতি না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ফলে এখন নজর লোকসভা অধ্যক্ষ ওম বিড়লার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দলত্যাগী ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে কালীঘাট তৃণমূলের করা পৃথক আবেদন নিয়ে তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই ঠিক করবে বিষয়টি সংসদীয় স্তরেই মিটবে, নাকি শেষ পর্যন্ত পৌঁছবে সুপ্রিম কোর্টে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10