Home/Tourism/তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ তুষারধস, হিমলুং হিমালে ১৪ জন নিখোঁজ! উদ্ধার অভিযানে বাধা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ তুষারধস, হিমলুং হিমালে ১৪ জন নিখোঁজ! উদ্ধার অভিযানে বাধা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া

নেপালের মানাং জেলার হিমলুং হিমাল পর্বতে ভয়াবহ তুষারধসে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি। রবিবার সকালে বেস ক্যাম্পের কাছে ধস নামার পর প্রথমে অন্তত ১০ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা ১৪-তে পৌঁছয়। তাঁদের মধ্যে উচ্চপাহাড়ে কাজ করা গাইড ও সহায়ক কর্মীরা রয়েছেন। ইতিমধ্যেই দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রবল তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানও বারবার বাধার মুখে পড়ছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 28, 2026
•5 min read•
9
Share:
তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ তুষারধস, হিমলুং হিমালে ১৪ জন নিখোঁজ! উদ্ধার অভিযানে বাধা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া

হিমলুং হিমালে আচমকাই তুষারধস

রবিবার সকালে নেপালের মানাং জেলার নার-ফু অঞ্চলে হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে তুষারধস নামে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭,১২৬ মিটার উচ্চতার এই পর্বতটি তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং উচ্চপাহাড়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাওয়া পর্বতারোহীদের কাছে পরিচিত গন্তব্য।

তুষারধসের সময় বেস ক্যাম্পে কয়েকটি অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল। বিভিন্ন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত গাইড ও রান্নার কর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। ধসের পরে তাঁদের একটি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, অন্তত ১০ জন নিখোঁজ ছিলেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সূত্রে নিখোঁজের সংখ্যা ১৪ বলে জানানো হয়। তাঁদের সবাই নেপালি নাগরিক বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

দু’জনের দেহ উদ্ধার, এখনও চলছে তল্লাশি

রবিবার সন্ধ্যায় উদ্ধারকারী দল তুষারধসের এলাকা থেকে দু’জনের দেহ উদ্ধার করে। তাঁদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি বলে নেপালের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

এর পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইডস অ্যাসোসিয়েশন একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। সোমবার আরও একটি দল হিমলুংয়ের বেস ক্যাম্পে পৌঁছে নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ শুরু করেছে।

উদ্ধারকারীরা তুষারের স্তর সরিয়ে সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল ও তাঁবুগুলির অবস্থান খতিয়ে দেখছেন। কোথায় কতটা তুষার জমেছে এবং ধসের পর কোন অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াই সবচেয়ে বড় বাধা

উদ্ধার অভিযানের পথে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। গত কয়েকদিন ধরেই নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবল তুষারপাত এবং বৃষ্টি চলছে।

হেলিকপ্টারে করে উদ্ধারকারী দলকে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচল বারবার ব্যাহত হয়েছে। হিমলুংয়ের মতো দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো এমনিতেই কঠিন। তার উপর তুষারপাত ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছে। কারণ উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তাও এই অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিদেশি পর্বতারোহীরা তখনও পৌঁছননি

এই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, দুর্ঘটনার সময় বেস ক্যাম্পে থাকা নিখোঁজ ব্যক্তিরা মূলত অভিযানের সহায়ক কর্মী ও গাইড। বিদেশি পর্বতারোহীদের একটি দল পরে সেখানে পৌঁছনোর কথা ছিল।

নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওই বিদেশি দলটির পৌঁছনোর আগে বেস ক্যাম্প প্রস্তুত করার কাজ চলছিল। গাইড ও সহায়ক কর্মীরা দড়ি বসানো, তাঁবু তৈরি এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুষারধসের সময় বিদেশি অভিযাত্রীরা ওই এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না। এই তথ্য নিখোঁজদের পরিচয় ও ঘটনার পরিধি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

আগেই জারি হয়েছিল আবহাওয়া সতর্কতা

হিমলুং হিমালে তুষারধসের আগে থেকেই নেপালের পাহাড়ি এলাকায় খারাপ আবহাওয়ার সতর্কতা ছিল। টানা তুষারপাতের কারণে বিভিন্ন পর্বতারোহণ অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত বা সীমিত করা হয়েছিল।

অভিযান সংগঠকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পর বেশিরভাগ পর্বতারোহী ও সহায়ক কর্মী অপেক্ষাকৃত নিরাপদ নিচু এলাকায় নেমে গিয়েছিলেন। তবে কিছু কর্মী বেস ক্যাম্পে থেকে গিয়েছিলেন। তাঁদেরই একটি অংশ পরে তুষারধসের কবলে পড়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

এখন তদন্তকারীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, সতর্কবার্তা জারির পরও কেন ওই এলাকায় কর্মীরা ছিলেন এবং তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য কী ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নেপালজুড়ে প্রতিকূল আবহাওয়া

শুধু হিমলুং হিমাল নয়, গত কয়েকদিন ধরে নেপালের একাধিক এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও তুষারপাতের প্রভাব পড়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস, বন্যা এবং রাস্তা বন্ধ হওয়ার খবরও এসেছে।

এর ফলে শুধু পর্যটন ও পর্বতারোহণ নয়, স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষও আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ট্রেকিং ও পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে উচ্চপাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

আগের দুর্যোগের রেশ কাটার আগেই নতুন বিপর্যয়

হিমলুং হিমালের তুষারধস এমন সময়ে ঘটল, যখন নেপাল এখনও সাম্প্রতিক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামলাচ্ছে।

গত মাসে তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া রাসুওয়া এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছিল। ত্রিশূলী নদীর জলস্তর বেড়ে একাধিক বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু মানুষ নিখোঁজ হন এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বড় প্রভাব পড়ে।

সেই দুর্যোগের পর আবার পাহাড়ি এলাকায় তুষারধসের ঘটনা নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে দুই ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি আলাদা।

দুর্গম পাহাড়ে উদ্ধারকাজ কতটা কঠিন?

হিমলুং হিমালের ভৌগোলিক অবস্থান উদ্ধার অভিযানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বেস ক্যাম্পে পৌঁছতে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয় এবং হেলিকপ্টার ব্যবহারেও অতিরিক্ত অনুমতির প্রয়োজন হয়।

তার সঙ্গে রয়েছে উচ্চতা, তুষারের স্তর এবং নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা। ফলে উদ্ধারকারী দলকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে।

একদিকে নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করার তাগিদ, অন্যদিকে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই অভিযান চালাতে হচ্ছে।

নিখোঁজদের সন্ধানেই এখন মূল নজর

দু’জনের দেহ উদ্ধার হলেও এখনও ১৪ জন নিখোঁজ বলে পরবর্তী প্রশাসনিক হিসাবে জানানো হয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হল নিখোঁজদের অবস্থান নির্ণয় করা।

হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী এবং স্থানীয় গাইডদের সাহায্যে তল্লাশি চলছে। আবহাওয়া সামান্য উন্নত হলে অভিযান আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই মুহূর্তে নিখোঁজদের মধ্যে কতজন জীবিত রয়েছেন, সে বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

পর্যটন ও পর্বতারোহণে নতুন সতর্কতা

হিমলুং হিমালের এই দুর্ঘটনা নেপালের পর্যটন শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বর্ষার শেষ পর্যায় এবং শীতের আগের সময়ে পাহাড়ি আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে।

বিশেষ করে উচ্চতর অঞ্চলে তুষারপাত, ধস এবং তুষারধসের ঝুঁকি একসঙ্গে তৈরি হলে সাধারণ পর্যটক বা অভিজ্ঞ পর্বতারোহী—সবার জন্যই পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

তাই আবহাওয়ার সতর্কতা মেনে চলা, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে অভিযান স্থগিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, নেপালের হিমলুং হিমালে তুষারধসের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রথমে ১০ জন নিখোঁজের খবর সামনে এলেও পরে নিখোঁজের সংখ্যা ১৪ বলে জানানো হয়েছে। দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং বাকি নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। প্রবল তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন আবহাওয়ার উন্নতি এবং উদ্ধারকারী দলের তৎপরতার উপরই নির্ভর করছে নিখোঁজদের সন্ধানের পরবর্তী অগ্রগতি।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10