Home/International/সৌদির সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার পথে জাহাজে হাউথি হামলা, বাব আল-মান্দেবে ৬ নাবিকের মৃত্যু
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

সৌদির সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার পথে জাহাজে হাউথি হামলা, বাব আল-মান্দেবে ৬ নাবিকের মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আঁচ এবার আরও তীব্র হল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে। সৌদি আরবের সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি মিশরীয় মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় ছয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানের নাগরিক। ইয়েমেন সরকারের দাবি, ইরান-সমর্থিত হাউথি যোদ্ধারাই ‘তিহামাহ’ নামের জাহাজটিতে হামলা চালায়। ঘটনায় আরও ১০ জন ক্রু আহত হয়েছেন। হামলার পর জাহাজটি ডুবে গিয়ে লোহিত সাগরে তলিয়ে যায়।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 12, 2026
5 min read
7
Share:
সৌদির সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার পথে জাহাজে হাউথি হামলা, বাব আল-মান্দেবে ৬ নাবিকের মৃত্যু

বাব আল-মান্দেবে ফের বড় হামলা

মঙ্গলবার ইয়েমেনের পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে। ইয়েমেন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিশরের মালিকানাধীন ‘তিহামাহ’ জাহাজটি বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় আক্রমণের মুখে পড়ে। জাহাজটিতে সৌদি আরবের সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

হামলার ধরন এবং ঘটনাক্রম নিয়েও বেশ কিছু তথ্য সামনে এসেছে। ইয়েমেন সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম হামলার পর জাহাজটির নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। বিপদ বুঝে সাহায্যের আবেদন জানায় জাহাজটি। সেই খবর পেয়ে হাউথি-বিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের সদস্যরা সেখানে পৌঁছন। অভিযোগ, উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পরও হামলা থামায়নি হাউথিরা। দ্বিতীয় দফায় আক্রমণ চালানো হয়।

শেষ পর্যন্ত জাহাজটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ডুবে যায়। এই ঘটনায় ছয়জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন বলে ইয়েমেন সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

মৃতদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানের নাগরিক। একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক এবং বাকি দু’জন ইয়েমেনের ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের সদস্য বলে জানা গিয়েছে।

হামলার নেপথ্যে হাউথিরা?

ইয়েমেন সরকারের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হাউথি সংগঠন। এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনে সৌদি আরব এবং তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সামরিক তৎপরতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব।

জাহাজে হামলার দায় হাউথিরা স্বীকার করেছে বলেও জানা গিয়েছে। তাদের বক্তব্যের সঙ্গে ইয়েমেন সরকারের অভিযোগ মিলে যাওয়ায় হামলার ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে সৌদি আরবের তরফে এখনও এই হামলা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জাহাজে সত্যিই সৌদির সামরিক সরঞ্জাম ছিল কি না, সেই বিষয়টিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

অন্যদিকে ব্রিটেনের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসও জাহাজটির উপর হামলার খবর প্রকাশ করেছে। তাদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

হামলার সময় কোথায় ছিল জাহাজ?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার মিশরীয় জাহাজটি ইয়েমেনের মুরাদ উপকূলবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিল। সেই সময়ই হামলা চালানো হয়। বাব আল-মান্দেবের মতো ব্যস্ত জলপথে এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

শুধু ‘তিহামাহ’ নয়, একই সময়ে আরও একটি ছোট জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনও আক্রমণ, নাকি বাব আল-মান্দেবকে কেন্দ্র করে নতুন করে ধারাবাহিক হামলার সূচনা—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এই জলপথ। ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

এই পথের উপর হামলা হলে শুধু সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা নাবিকদের নিরাপত্তাই বিঘ্নিত হয় না, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

হরমুজের পর নজরে বাব আল-মান্দেব

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বিশ্বের নজর ছিল মূলত হরমুজ প্রণালীর দিকে। পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরের সংযোগস্থলের এই জলপথ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট।

ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে হরমুজের নিরাপত্তা নিয়ে যখন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তখন একই অঞ্চলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল-মান্দেবেও হামলার ঘটনা সামনে এল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সংঘাতের প্রভাব যে ক্রমশ সমুদ্রপথেও ছড়িয়ে পড়ছে, সেই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

এর আগে ইয়েমেনের হাউথিরা লোহিত সাগর এবং সংলগ্ন জলপথে বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ইজরায়েল-হামাস সংঘাত এবং ফিলিস্তিনের পরিস্থিতির প্রতিবাদেই তারা জাহাজগুলিকে নিশানা করছে। যদিও তাদের হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এবার সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহন করার অভিযোগ থাকা একটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

সৌদি-হাউথি সংঘাতের নতুন অধ্যায়?

ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক বহুদিনের। হাউথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে আসছে। তাদের বক্তব্য, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধের অভিযোগ তুলেছে হাউথিরা। পালটা ২০ জুলাই সৌদি আরবকে ঘিরে নতুন অবরোধের ঘোষণা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর পরই সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজে হামলার ঘটনা সামনে এল।

অর্থাৎ হামলাটি যদি সত্যিই জাহাজে থাকা সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে হয়ে থাকে, তাহলে তা শুধু সমুদ্রপথে বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হাউথিদের সামরিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশও হতে পারে।

তবে এই হামলার পর সৌদি আরব কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। রিয়াদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বাব আল-মান্দেব দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহণ হয়। লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এখানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাহাজগুলিকে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে পরিবহণ খরচ এবং পণ্য সরবরাহের সময়ের উপরও।

এর আগে লোহিত সাগরে হাউথি হামলার কারণে বহু আন্তর্জাতিক জাহাজ সংস্থা তাদের রুট পরিবর্তন করেছিল। অনেক জাহাজ আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিল। এবার বাব আল-মান্দেবে প্রাণহানির ঘটনা সেই পুরনো আশঙ্কাকেই ফের সামনে নিয়ে এল।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এবার হামলায় সরাসরি প্রাণহানি হয়েছে। ইয়েমেন সরকারের দাবি অনুযায়ী, ছয়জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে জাহাজটিও সম্পূর্ণ ডুবে গিয়েছে।

ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে ঘটনাটি নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।

সংঘাতের প্রভাব কি আরও ছড়াবে?

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে হরমুজ প্রণালী, অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথই সংঘাতের ছায়ায় চলে আসায় আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানি থেকে সাধারণ পণ্য—বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই সামুদ্রিক রুটগুলির উপর নির্ভরশীল।

‘তিহামাহ’ জাহাজে হামলার পর এখন নজর থাকবে হাউথিদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। একই সঙ্গে সৌদি আরব এবং তাদের মিত্ররা কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তাও গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, বাব আল-মান্দেবে হামলা যদি বিচ্ছিন্ন ঘটনা না হয়ে বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে তার প্রভাব ইয়েমেন বা সৌদি আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। লোহিত সাগর থেকে সুয়েজ খাল হয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপরও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10