Home/International/নেপাল বিপর্যয়ে বাংলার ৩৯ পর্যটক নিখোঁজ, ২ জনের সঙ্গে যোগাযোগ! উদ্ধার অভিযানে টিম পাঠাতে চান শুভেন্দু
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

নেপাল বিপর্যয়ে বাংলার ৩৯ পর্যটক নিখোঁজ, ২ জনের সঙ্গে যোগাযোগ! উদ্ধার অভিযানে টিম পাঠাতে চান শুভেন্দু

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান ও হিমবাহ-জনিত বিপর্যয়ের পর সামান্য স্বস্তির খবর বাংলায়। নেপালে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া রাজ্যের ৩৯ জন পর্যটকের মধ্যে দু’জনের সঙ্গে অবশেষে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার রাতে ভবানীভবনে গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠক করেন তিনি। বাকি ৩৭ জনের সন্ধান এখনও মেলেনি। তাঁদের খোঁজে নেপালে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতি চেয়েছে রাজ্য সরকার।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 29, 2026
5 min read
0
Share:
নেপাল বিপর্যয়ে বাংলার ৩৯ পর্যটক নিখোঁজ, ২ জনের সঙ্গে যোগাযোগ! উদ্ধার অভিযানে টিম পাঠাতে চান শুভেন্দু

দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ, এখনও নিখোঁজ ৩৭

নেপালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকে উদ্বেগে ছিলেন বাংলার একাধিক পরিবারের সদস্য। রাজ্য সরকারের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ থেকে নেপালে যাওয়া ৩৯ জন পর্যটকের সঙ্গে কোনওভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। শুক্রবার সেই তালিকায় প্রথম স্বস্তির খবর আসে। বসিরহাটের দুই বাসিন্দার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তবে বাকি ৩৭ জনের অবস্থান এখনও নিশ্চিত নয়। দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত থাকায় তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নিখোঁজদের পরিবারের উদ্বেগও ক্রমশ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পর্যটকদের সন্ধানের চেষ্টা চালাচ্ছে। নেপালের প্রশাসন এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ভবানীভবনে গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ মুখ্যমন্ত্রীর

শুক্রবার রাতের দিকে নবান্নের বিশেষ কন্ট্রোল রুমে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে নিখোঁজ পর্যটকদের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য এবং উদ্ধার সংক্রান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চান তিনি।

এর পর ভবানীভবনে গিয়ে নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠকে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের প্রিয়জনদের দ্রুত সন্ধান এবং নিরাপদে দেশে ফেরানোর আবেদন জানান।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই পরিস্থিতিকে শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারের সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। গোটা রাজ্যই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং সরকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে সমন্বয় করে নিখোঁজদের সন্ধানের চেষ্টা করছে।

নেপালে প্রতিনিধি দল পাঠানোর উদ্যোগ

শুধু দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ নয়, প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল নেপালে পাঠানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এর জন্য বিদেশ মন্ত্রকের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রস্তাবিত দলে প্রশাসন ও পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি একজন মন্ত্রী এবং একজন বিধায়ককে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একজন আইজি পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিক এবং একজন আইএএস আধিকারিকও ওই দলে থাকবেন।

বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতি পাওয়া গেলে দলটি কাঠমাণ্ডুর উদ্দেশে রওনা হতে পারে। দুর্গত এলাকায় পৌঁছে নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধান, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং উদ্ধার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করাই হবে এই দলের অন্যতম লক্ষ্য।

বিপর্যস্ত নেপালে এখনও উদ্ধারকাজ চলছে

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে। হড়পা বান এবং হিমবাহ থেকে নেমে আসা বিপুল জলরাশির জেরে বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নদীর প্রবল স্রোতে রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনো এবং নিখোঁজদের খোঁজ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভারত থেকেও বহু পর্যটক নেপালে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে বিভিন্ন রাজ্য নিজেদের নাগরিকদের খোঁজে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

পরিবারের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা

নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিপর্যয়ের জেরে একাধিক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক, সড়ক যোগাযোগ এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা কোথায় অবস্থান করছেন, দুর্গত এলাকা থেকে বেরোতে পেরেছেন কি না কিংবা কোনও নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছেছেন কি না—সেই তথ্যও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে পরিবারগুলির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে নেপাল ও কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে নতুন কোনও তথ্য পাওয়া গেলে তা পরিবারের সদস্যদের জানানো হচ্ছে।

বিশেষ নজরে বাংলার পর্যটকরা

নেপালে পর্যটনের জন্য প্রতিবছরই পশ্চিমবঙ্গ থেকে বহু মানুষ যান। বিশেষ করে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার সঙ্গে যুক্ত পর্যটকদের একটি বড় অংশ নেপাল হয়ে যাতায়াত করেন। চলতি মরশুমেও বেশ কিছু পর্যটক বিভিন্ন পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে নেপালে গিয়েছিলেন।

এবারের বিপর্যয়ের কারণে তাঁদের একটি অংশ দুর্গত এলাকায় আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ পর্যটকদের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।

রাজ্য সরকারের তরফে তাই প্রতিটি সম্ভাব্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক এবং নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুকুল-পুত্রের পরিবারের সঙ্গেও কথা

নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশুর সঙ্গেও ভারচুয়ালি কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্ত্রী নেপালে গিয়েছিলেন এবং এখনও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

ফলে অন্য পরিবারগুলির মতো তাঁর পরিবারও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদেরও আশ্বাস দেন যে, নিখোঁজদের সন্ধান পেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এখন নজর বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতিতে

রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত প্রতিনিধি দল নেপালে যেতে পারবে কি না, এখন তা অনেকটাই বিদেশ মন্ত্রকের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। অনুমতি মিললে দ্রুত দলটি কাঠমাণ্ডু পৌঁছে স্থানীয় প্রশাসন এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত দলে প্রশাসন, পুলিশ এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের রাখা হবে, যাতে নিখোঁজদের সন্ধান থেকে শুরু করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ—সমস্ত বিষয় একসঙ্গে সমন্বয় করা যায়।

তবে প্রতিনিধি দল পাঠানো হলেও দুর্গত এলাকায় পৌঁছনোর ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিস্থিতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই নেপালের উদ্ধারকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দু’জনের খোঁজে স্বস্তি, বাকি ৩৭ জনের অপেক্ষা

বসিরহাটের দুই পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন নিঃসন্দেহে স্বস্তি দিয়েছে। কিন্তু এখনও ৩৭ জনের কোনও সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ কাটেনি। তাঁদের পরিবারগুলির চোখ এখন প্রশাসনের পরবর্তী বার্তার দিকে।

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজ পর্যটকদের প্রত্যেকের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নেপাল প্রশাসনের কাছ থেকেও নিয়মিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে তাই বাংলার ৩৯ পর্যটককে ঘিরে এখন একটাই অপেক্ষা—আর কতজনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয় এবং কবে তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়। বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতি মিললে রাজ্যের বিশেষ প্রতিনিধি দল সেই প্রচেষ্টায় নতুন গতি আনতে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10