Home/Tourism/রাতভর বৃষ্টিতে ফের ভাসল দুধিয়ার সেতু, সড়কপথে বিচ্ছিন্ন মিরিক! বাড়ছে ধসের আশঙ্কা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

রাতভর বৃষ্টিতে ফের ভাসল দুধিয়ার সেতু, সড়কপথে বিচ্ছিন্ন মিরিক! বাড়ছে ধসের আশঙ্কা

দেড় মাসের ব্যবধানেই ফের বিপর্যয়ের ছবি উত্তরবঙ্গে। রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে উঠেছে বালাসন নদী। তার জেরে আবারও জলের তোড়ে ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। ফলে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ ফের আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আপাতত বেইলি ব্রিজ দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল করলেও বড় যানবাহনের যাতায়াত বন্ধ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 11, 2026
•5 min read•
20
Share:
রাতভর বৃষ্টিতে ফের ভাসল দুধিয়ার সেতু, সড়কপথে বিচ্ছিন্ন মিরিক! বাড়ছে ধসের আশঙ্কা

ফের জলের তোড়ে বিপর্যস্ত দুধিয়া

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। সময়ের সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে। পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির জেরে নদী-নালার জলস্তরও দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

এরই মধ্যে বালাসন নদীতে জল বাড়ায় দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতুর উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত প্রবল স্রোতের ধাক্কা সামলাতে পারেনি সেতুটি। রাতের মধ্যেই জলের তোড়ে সেটি ভেসে যায়।

সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মিরিকের সঙ্গে সমতলের সড়ক যোগাযোগে ফের বড় ধাক্কা লাগে। পর্যটন মরশুমে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকরাও উদ্বিগ্ন।

দেড় মাস আগের স্মৃতি ফিরল

দুধিয়ায় এই বিপর্যয় নতুন নয়। মাত্র দেড় মাস আগেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল উত্তরবঙ্গ।

জুলাই মাসে টানা বৃষ্টি এবং মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খোলার পর বালাসন নদীতে জলস্তর দ্রুত বেড়ে যায়। অতিরিক্ত স্রোতের চাপে সেই সময়ও দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু ভেসে গিয়েছিল।

তার জেরে শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পাহাড়ের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা দ্রুত মেরামতির কাজে নামে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল বেইলি ব্রিজ। সেই সেতুর মাধ্যমে দ্রুত ছোট যান চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়েছিল। অস্থায়ী হিউমপাইপ সেতুটিও পরে মেরামত করা হয়।

কিন্তু দেড় মাসের মধ্যেই ফের একই বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি হওয়ায় সেতুটির স্থায়িত্ব এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

আপাতত ছোট গাড়ির ভরসা বেইলি ব্রিজ

অস্থায়ী হিউমপাইপ সেতু ভেসে যাওয়ার পর এখন মিরিকের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেইলি ব্রিজই প্রধান ভরসা। তবে সেই সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

প্রাথমিকভাবে ছোট গাড়ি চলাচল করলেও বড় গাড়ির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে পণ্য পরিবহণ, যাত্রীবাহী বড় গাড়ি এবং অন্যান্য ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও চিন্তা বেড়েছে। পাহাড়ি এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছনো এবং মিরিক থেকে সমতলে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে।

প্রশাসনের নজর এখন নদীর জলস্তর এবং বেইলি ব্রিজের নিরাপত্তার দিকে।

ধসের আশঙ্কায় বাড়ছে উদ্বেগ

দুধিয়ার সেতু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় আরও একটি বড় আশঙ্কা হল ভূমিধস।

বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টি হলে মাটি আলগা হয়ে ধস নামার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মিরিক, কালিম্পং এবং দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন পাহাড়ি রাস্তায় তাই প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষ করে যেসব রাস্তা পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টির পরে ছোট-বড় ধস নামতে পারে। রাস্তার উপর মাটি বা পাথর পড়লে যান চলাচলও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদেরও আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে যাতায়াত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির এই পরিস্থিতির পিছনে রয়েছে সক্রিয় নিম্নচাপ ও সংশ্লিষ্ট নিম্নচাপ অক্ষরেখা।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি সরে বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের দিকে অবস্থান করছে। সিস্টেমটি কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঝুঁকে রয়েছে।

এর পাশাপাশি হরিয়ানা থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। সেটি ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

জলপাইগুড়ি-আলিপুরদুয়ারে হলুদ সতর্কতা

শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে।

শনিবারও কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে দুধিয়া ও আশপাশের এলাকায় নদীর জলস্তর ফের বাড়ে কি না, সেই দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে পারে।

দক্ষিণবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকাতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

তবে রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন রাজ্যের দুই প্রান্তেই আবহাওয়ার উপর নজর রাখতে হবে।

বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাব শুধু স্থানীয় জনজীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ধসের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

পর্যটন মরশুমে বাড়ল দুশ্চিন্তা

মিরিক উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বর্ষার পর পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সময়েই ফের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হোটেল, গাড়ি পরিষেবা, দোকান এবং অন্যান্য পর্যটননির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের কাছে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকদের যাতায়াতেও সমস্যা হতে পারে। একইসঙ্গে পর্যটকদের জন্য বিকল্প পথ বা যাতায়াত ব্যবস্থা কতটা নিরাপদ, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

দেড় মাসের ব্যবধানে একই জায়গায় ফের সেতু ভেসে যাওয়ায় প্রশাসনের সামনে স্থায়ী সমাধানের প্রশ্নও উঠে এসেছে।

প্রতিবার বর্ষায় অস্থায়ী সেতুর উপর নির্ভর করে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বালাসন নদীর জলপ্রবাহ এবং বর্ষাকালের পরিস্থিতি বিবেচনা করে আরও স্থায়ী পরিকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও পর্যালোচনার দাবি উঠতে পারে।

এই মুহূর্তে অবশ্য সবচেয়ে জরুরি হল বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর পরিস্থিতি সামলানো। বেইলি ব্রিজের নিরাপত্তা বজায় রেখে যতটা সম্ভব যান চলাচল সচল রাখাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, রাতভর বৃষ্টিতে দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু ফের ভেসে যাওয়ায় মিরিকের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন করে ধাক্কা লেগেছে। বেইলি ব্রিজ দিয়ে ছোট গাড়ি চললেও বড় যানবাহন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সমস্যা বাড়ছে। তার উপর আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে বালাসনের জলস্তর, দুধিয়া সেতু এবং পাহাড়ি রাস্তায় ধসের সম্ভাবনার উপরই এখন নজর প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10